রোহিঙ্গা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ : কফি আনান কমিশনের ৪ সদস্যের টেকনাফের লেদা আনঃ ক্যাম্প ও জাদিমুড়া গ্রাম পরিদর্শন

-.jpg

টেকনাফ টুডে ডটকম :
মিয়ানমার থেকে আসা রোহিঙ্গাদের পরিস্থিতি সরেজমিন দেখতে রাখাইন রাজ্যবিষয়ক পরামর্শক কমিশনের চার সদস্য আজ রবিবার কক্সবাজার এসেছেন। দুই দিনের প্রথম দিন রবিবার বিকেলে কক্সবাজারের টেকনাফ জাদিমোড়া ও লেদা অনিবন্ধিত রোহিঙ্গা বস্তি পরিদর্শন করছেন তাঁরা। জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব কফি আনানের নেতৃত্বাধীন ওই কমিশন ‘আনান কমিশন’ নামে পরিচিত।
মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সেলর ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী অং সান সু চির গড়া ৯ সদস্যের ওই কমিশনের চারজন তাঁদের কাজের অংশ হিসেবে এ সফরে এসেছেন।
ওই সদস্যরা হলেন এনড্রেস ইন্ড্রিগ্রাড, মিয়ানমারের উইন ¤্রা ও আই লুইন এবং লেবাননের ঘাসান সালামে ।
প্রতিনিধি টিম দুপুরে টেকনাফের জাদি মোড়া ব্রিটিশ পাড়াতে বসবাসরত রোহিঙ্গা ছাড়াও টেকনাফ লেদা অনিবন্ধিত রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শণ করেন এবং বেশ কয়েকজন রোহিঙ্গা মুসলিমদের সাথে কথা বলেন।
টিমের সাথে কথা বলা আব্দুল মতলব বলেন, মিয়ানমারের কোন ধরনের নির্যাতন হয় সে সম্পর্কে খোঁজ খবরের পাশাপাশি কোন ধরনের পদক্ষেপ নিলে রোহিঙ্গা ফেরত যাবে স্বদেশে তা জানতে চান কমিশন সদস্যরা।
এ প্রসংগে রোহিঙ্গা মিয়ানমারে ১৯৮২ সালে বাতিল করা নাগরিকত্ব ফিরিয়ে দেওয়া ও জাতি সংঘের তত্ত্বাবধানে শান্তি পূর্ণ সহাবস্থানের ব্যবস্থা করলে ফিরে যাবে বলেও কমিশন সদস্যদের অবহিত করেন কথা বলা রোহিঙ্গারা।
সফররত কমিশনের সদস্যরা আগামী মঙ্গলবার ঢাকায় বাংলাদেশ সরকারের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। এ বছরের দ্বিতীয়ার্ধে আনান কমিশন অং সান সু চির কাছে প্রতিবেদন ও সুপারিশ জমা দেবে।
উল্লেখ্য, মিয়ানমারে রোহিঙ্গা সমস্যার বড় প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশে। কয়েক দশক ধরে বাংলাদেশে প্রায় পাঁচ লাখের মতো রোহিঙ্গা অবস্থান করছে। তাদের বেশির ভাগই কক্সবাজার জেলায় রয়েছে। গত ৯ অক্টোবর মিয়ানমার সীমান্ত বাহিনীর চৌকিতে হামলার পর রাখাইন প্রদেশে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানের পরিপ্রেক্ষিতে প্রায় ৭০ হাজারেরও বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে নতুন করে অনুপ্রবেশ করেছে। কবে নাগাদ তাদের ফেরত পাঠানো যাবে তা নিশ্চিত নয়। কারণ মিয়ানমার তাদের নাগরিক হিসেবেই স্বীকার করে না। মিয়ানমারে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া শুরুর পর রোহিঙ্গা ইস্যুতে অগ্রগতির আশা করা হলেও পরিস্থিতির মোটেও উন্নতি হয়নি।