উখিয়ায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবন সংকটে ছাত্রছাত্রীদের পাঠদান বারান্দায়

654.jpg

মুহাম্মদ হানিফ আজাদ, উখিয়া :
বর্তমান সরকার শিক্ষাকে অধিকতর গুরুত্ব দিয়ে শিক্ষা খাতে সর্বোচ্চ বরাদ্ধ রেখেছে। পরিবর্তন এসেছে পাঠদান সহ শিক্ষানীতির সর্বক্ষেত্রে। তবে উখিয়ার ৭৬টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে অধিকাংশ প্রতিষ্ঠান ভবন সংকটসহ নানা সমস্যায় জর্জরিত। বিশেষ করে উপবৃত্তিসহ বিস্কুট প্রকল্প চালু হওয়ার প্রেক্ষিতে শিক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়লেও বাড়েনি স্কুল ভবন। যে কারণে ছাত্রছাত্রীদের গাছতলায় অথবা স্কুল ভবনের বারান্দায় মেঝেতে বসে পাঠদান করতে হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
উপজেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, জরাজীর্ণ ভবন, পাঠদানে অযোগ্য, সর্বোপরী ভবন সংকট নিয়ে ছাত্রছাত্রীদের নানামুখী সমস্যাভিত্তিক ১২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নতুন ভবন নির্মাণের একটি প্রস্তাবণা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। তৎমধ্যে উল্লেখযোগ্য রূপপতি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মোঃ শফির বিল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পাতাবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ভালুকিয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, নলবনিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, দক্ষিণ রতœা মোজাহের ঘোনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ফলিয়াপাড়া আলিমুদ্দিন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, রাজাপালং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, নতুনপাড়া জে চৌধুরী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, গোরাইয়ারদ্বীপ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাদারবনিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও মনখালী চাকমাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।
এছাড়াও প্রায় হাজারেরও অধিক শিক্ষার্থী অধ্যুষিত উখিয়া মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভবন সংকট সমস্যা নিরসনে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাস্টার হারুন অর রশিদ ব্যক্তি উদ্যোগে ও স্থানীয় চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর কবির চৌধুরীর প্রদত্ত অনুদানের ভিত্তিতে এক তলা ভবনের উপরে দ্বিতল ভবন নির্মাণ কাজের অবকাঠামোগত উন্নয়ন সম্পন্ন হয়েছে। প্রধান শিক্ষক জানান, বিদ্যালয়ে ছাদ সহ আনুসাঙ্গিক কার্যক্রম সম্পূর্ণ করতে আরো প্রায় ৩ লক্ষ টাকা প্রয়োজন রয়েছে। উক্ত দ্বিতল ভবন নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হলে ছাত্রছাত্রীদের পড়ালেখার একটি অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি হবে বলে তিনি দাবী করেন।
সরেজমিন হাতিমোরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ঘুরে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আনোয়ারুল ইসলামের সাথে কথা বলে জানা যায়, বিদ্যালয়ে ৩৩০ জন ছাত্রছাত্রীরা জন্য রয়েছে মাত্র একটি ভবন। যে কারণে শিশু ও প্রথম শ্রেণির ছাত্রছাত্রীদের বারান্দায় বসে পাঠদান করতে হচ্ছে। ছাত্রছাত্রীদের এহেন অবস্থা পড়ালেখা করতে গিয়ে মানসম্মত পাঠদান, পরিবেশ সর্বোপরি পড়ালেখার গুণগতমান সমুন্নত রাখতে শিক্ষকদের অতিরিক্ত দায়িত্বপালন করতে হচ্ছে।
বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি জালাল আহমদ অভিযোগ করে জানান, বিদ্যালয়ের নামে স্থানীয় ২ ব্যক্তি ২০ শতক করে ৪০ শতক জমি দান করেন। তৎমধ্যে আশরফ আলী ২০ শতক জমি স্কুল ভোগ করলেও অপর দাতা মৃত হাজী মোজাহের আহমদের প্রদত্ত ২০ শতক জমির দখল বিদ্যালয় এ পর্যন্তও নিতে পারেনি। যে কারণে সম্প্রতি একটি সাইক্লোন সেল্টার কাম স্কুল ভবন নির্মাণের যাবতীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলেও জায়গার অভাবে উক্ত প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে না।
উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা সুব্রত কুমার ধর জানান, এ উপজেলার প্রাথমিক শিক্ষার মান উন্নয়ন ও বিদ্যালয়ের নানামুখী সমস্যাদি দূরীকরণে বিভিন্ন উন্নয়ন মূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। যা বাস্তবায়ন হলে প্রাথমিক বিদ্যালয় গুলোর সমস্যা নিয়ে শিক্ষকদের দূর্ভোগ পোহাতে হবে না।