সৌদি আরবে ধর্ষনের শিকার প্রবাসী নারীর উদ্ধারের আকুতি

gangrape.jpg

টেকনাফ টুডে ডেস্ক |
ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার সৌদি প্রবাসী এক নারী ফোন করে তাকে উদ্ধারের আকুতি জানিয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন তার স্বামী।

উপজেলার চণ্ডীপাশা ইউনিয়নের ঘোষপালা গ্রামের ওই দিনমজুর (৪৫) সাংবাদিকদের জানান, তার স্ত্রীকে বিদেশে ‘ম্যাডামের বাসার’ গৃহপরিচালিকার কাজের কথা বলে ও বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার লক্ষীগঞ্জ এলাকার মো. মফিজ উদ্দিনের ছেলে শাহজাহান আরও কয়েকজন নারীসহ ২০১৬ সালের নভেম্বর মাসে সৌদি আরব পাঠায়।

শাহজাহান তার স্ত্রীকে সৌদি পাঠানোর জন্য কোনো অর্থ লাগবেনা বলে জানায় এবং মাসিক বেতন ২০ হাজার টাকা বলে প্রলোভন দেখান।

তিনি জানান, বর্তমানে তার স্ত্রী সৌদি আরবে প্রতিদিন ধর্ষণের শিকার হয়ে মৃত্যুর প্রহর গুনছেন। কৌশলে আটক অবস্থা থেকে বের হয়ে তাকে (স্বামী) ফোন করে ওই গৃহবধূ তার উপর চালানো পৈশাচিক নির্যাতনের বর্ণনা দিয়ে কাঁদতে কাঁদতে তাকে দ্রুত উদ্ধার করে দেশে ফেরত নেয়ার আকুতি জানিয়েছেন বলে তিনি সাংবাদিকদের জানান তিনি।

ওই দিনমজুর আরও জানান, প্রায় ১৭ বছর আগে তাদের বিয়ে হয়। তাদের দুই ছেলে ও দুটি মেয়ে রয়েছে। তিনি নিজে ঢাকায় একটি রড-সিমেন্টের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে কাজ করতেন। ৫ বছর আগে এক দুর্ঘটনায় তিনি গুরুতর আহত হয়ে বাড়িতে চলে আসেন। দুর্ঘটনায় বাম কাঁধ ভেঙে যাওয়ায় কর্মহীন হয়ে পড়েন তিনি।

এ অবস্থায় ৭ সদস্যের পরিবার ব্যাপক অভাব অনটনে পড়ে। এসময় আদম ব্যাবসায়ী শাহজাহানের খপ্পরে পড়ে তার স্ত্রী বিদেশ যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। অভাবের তাড়নায় পরিবারের স্বচ্ছলতার কথা চিন্তা করে তিনি সৌদি আরবে পাড়ি দেন।

সেখানে যাওয়ার ছাব্বিশ দিন পর স্বামীর মোবাইল নাম্বারে ফোন করে (+৯৬৬৩৫২৩৬৭৬৯) ওই গৃহবধূ জানান, তাকে চারতলার একটি ভবনের নিচতলায় রাখা হয়েছে। সেখানে বাহির থেকে তালা ঝুলিয়ে কথিত মালিক বাহিরে চলে যান। সেখানে স্থানীয় সময় বিকাল ৪টা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত তার ওপর চলে যৌন নির্যাতন। পালাক্রমে ধর্ষণের শিকার হচ্ছেন তিনি।

স্ত্রীর ওই আকুতি শোনার পর থেকে নিজে মানসিকভাবে বিপর্যস্থ হয়ে পড়েছেন বলে জানান ওই দিনমজুর। স্ত্রীর এই ভয়ানক অবস্থার কথা গ্রামের কারো কাছে বলতেও পারছেন না। অসহ্য এক যন্ত্রণা তাকে কুড়ে কুড়ে খাচ্ছে।

তিনি জানান, সৌদি আরব থেকে স্ত্রীকে ফিরিয়ে আনতে আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু কোথাও কারও কোনো সাহায্য পাচ্ছেন না।

ওই দিনমজুর জানান, এ অবস্থায় তিনি এখন কী করবেন ভেবে পাচ্ছেন না। তার স্ত্রী কৌশলে বের হয়ে গেলেও পুলিশ তাকে ধরে নিয়ে যায়। পরে পুলিশ তাকে দেশে ফেরত পাঠানোর সময় দুই দিন পর কথিত মালিক তাকে ছাড়িয়ে নিয়ে যায়।

এরপর থেকে তিনি স্ত্রীর সঙ্গে আর কোনো যোগাযোগ করতে পারছেন না। বেঁচে আছেন, না মরে গেছেন তাও বলতে পারছেন না তিনি।

দিনমজুর তার স্ত্রীকে ফিরে পাওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন। এ ব্যপারে শাহজাহানের সঙ্গে ফোনে কথা হলে তিনি ওই নারীকে সৌদিতে পাঠানোর সত্যতা স্বীকার করেন।

তিনি বলেন, এই পর্যন্ত তার প্রতিষ্ঠান ২/৩শ’ নারীকে সৌদি আরব পাঠিয়েছে। ওইখানে গিয়ে তারা কী কাজ করে জানতে চাইলে তিনি বলেন, গৃহপরিচালিকার কাজ করে।