মিয়ানমারে কারাভোগ শেষে এক বাংলাদেশী জেলে ফেরত

Teknaf-pic2_25.01.jpg

নুরুল করিম রাসেল, টেকনাফ।
কারাভোগ শেষে বাংলাদেশী এক জেলেকে ফেরত দিয়েছে মিয়ানমার। ফেরত আনা জেলে হচ্ছে কক্সবাজার জেলার মহেশখালী উপজেলার দইলার পাড়ার মোঃ শরিফের ছেলে মোঃ তারিক তারা (১৯) । এ উপলক্ষে ২৫ জানুয়ারি বুধবারে মিয়ানমারের মংডুতে বাংলাদেশ-মিয়ানমার পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সকাল ১০ টা হতে ১১ টা পর্যন্ত স্টাফ পর্যায়ের উক্ত বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে ৯ সদস্যের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন টেকনাফস্থ ২ বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়নের উপ-অধিনায়ক মেজর আবু রাসেল সিদ্দিকী। মিয়ানমারের ৮ সদস্যের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন মংডুস্থ ইমিগ্রেশন এন্ড ন্যাশনাল রেজিষ্ট্রেশন ডিপার্টমেন্ট’র উপ-পরিচালক ইউ অং ক্য ছিন।
পরে বিজিবির প্রতিনিধি দল দুপুর সাড়ে ১২টায় ফেরত বাংলাদেশীকে নিয়ে টেকনাফে পৌঁছে প্রেস ব্রিফিং করেন।
মংডুতে অনুষ্ঠিত পতাকা বৈঠকে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের মধ্যে অন্যান্যদের উপস্থিত ছিলেন টেকনাফ উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা মোহাম্মদ শফিউল আলম, টেকনাফ মডেল থানার পরিদর্শক (অপারেশন) মোঃ শফিউল আজম, টেকনাফ স্থল বন্দর অভিবাসন কর্মকর্তা এস আই মোহাম্মদ হোসেনসহ বিজিবির কর্মকর্তা ও সৈনিকগন।
ফেরত আসা বাংলাদেশী জেলে তারিক জানান, বাংলাদেশ দূতাবাসের সহায়তায় প্রায় সাড়ে ৪ বছর কারাভোগ শেষে সে দেশে ফিরে আসে। ২০১২ সালের জুন মাসে সেন্টমার্টিনের অদূরে মাছ শিকাররত অবস্থায় তাদের ফিশিং ট্রলারকে ধাওয়া করে মিয়ানমার নাসাকা বাহিনী। এ সময় ধাওয়া খেয়ে আরো ৫ জেলে সাগরে লাফ দেয় সে। এক পর্যায়ে নাসাকা বাহিনী তাকে সাগর থেকে তুলে নিয়ে আটক করে। পরবর্তীতে মিয়ানমারের একটি আদালত অবৈধ অনুপ্রবেশের দায়ে তাকে ৮ বছর সাজা প্রদান করা হয়। ৪ বছরের মতো সাজা ভোগ করে সে, কিছু সাজা মওকুপ করে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ।
সে আরো জানায়, মহেষখালী থেকে টেকনাফে বোনের বাড়িতে বেড়াতে এসে এমভি কামরুন নাহার নামে একটি ফিশিং ট্রলারে সে আরো ৫ জেলের সাথে সাগরে মাছ শিকারে যায়। তাদের ফিশিং ট্রলারের মাঝি ছিল সাবের নামে এক ব্যক্তি, এসময় তার বয়স ছিল ১৪ বছর। তাদের ফিশিং ট্রলারের অপর ৫ মাঝি মাল্লার ভাগ্যে কি ঘটেছে জানেনা সে।
Teknaf pic(1)_25.01