রোহিঙ্গা সংকটের সমাধান দাবি মালয়েশিয়ার, সময় চায় মিয়ানমার

Rohingha-pic_lada-taal_29.11.jpg

টেকনাফ টুডে ডেস্ক |
মিয়ানারমারের সংখ্যালঘু মুসলিম জাতি রোহিঙ্গাদের সংকটের জরুরি সমাধানের আহ্বান জানিয়েছে মালয়েশিয়া।

তবে এ সংকটের অবসানের জন্য আরও সময় দিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে সুযোগ চেয়েছে মিয়ানমার।

সোমবার সিঙ্গাপুরে ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর স্ট্রাটেজিক স্টাডিজের নিরাপত্তা ফোরাম ‘দি ফুলারটন ফোরাম’ আয়োজিত এক নিরাপত্তা সভায় এ অনুরোধ জানান মিয়ানমারের উপ-প্রতিরক্ষা প্রধান রিয়ার অ্যাডমিরাল মিন্ট নুয়ে।

এর আগে সভায় উদ্বেগ জানিয়ে বলা হয়, জিহাদী গোষ্ঠীগুলো রোহিঙ্গা মুসলমানদের দুর্দশার সুযোগ নিতে পারে। এমনটি হলে সমগ্র দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে।

রিয়ার অ্যাডমিরাল মিন্ট বলেন, রাখাইন রাজ্যের পরিস্থিতি নিয়ে ক্রমাগত যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে তার ব্যাপারে আমরা সম্পূর্ণ সজাগ রয়েছি। সেখানে যারা দুষ্কৃতি করবে তাদের শাস্তি দিতে আমরা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।

ইয়াঙ্গুন এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ‘রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধান’ খোঁজার ব্যাপারে মনযোগ দেয়ার আহ্বান জানন অ্যাডমিরাল মিন্ট।

তিনি বলেন, এই জটিল সমস্যার টেকসই সমাধান খুঁজে কার্যকর ফলাফল অর্জনের জন্য সংশ্লিষ্ট দেশগুলোকে প্রয়োজনীয় সময় এবং সুযোগ দিতে হবে।

ফুলারটন ফোরামের এ সভায় রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে উদ্বেগ জানান মালয়েশীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিশামুদ্দিন হোসেন। তিনি সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।

সভায় মালয়েশীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান প্রয়োজন, আমরা এ সমস্যাকে কার্পেটের নিচে ধামাচাপা দিয়ে রাখতে পারব না। এ সমস্যা বহু মুসলমানের আবেগকে স্পর্শ করছে।’

রোহিঙ্গা সংকটের সমাধানের উপর দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর জোটের সংহতি নির্ভর করছে বলেও মন্তব্য করেছেন মালয়েশীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী।

রাখাইনের পরিস্থিতি ঠিকমতো না সামলালে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় ঘাঁটি গাড়তে চাওয়া ইসলামিক স্টেট গোষ্ঠী এর সুযোগ নেবে বলেও সতর্ক করেন তিনি।

উল্লেখ্য, মিয়ানমারের রাখাইনে সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা মুসলমানরা কয়েক শতক ধরে বসবাস করে আসছে। গত অক্টোবরে সীমান্ত পুলিশের চৌকিতে হামলার অভিযোগে করে রোহিঙ্গা বিরোধী অভিযান চালাচ্ছে মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনী।

অভিযানকালে নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে রোহিঙ্গারা ব্যাপকহারে হত্যা-ধর্ষণ-নির্যাতনের শিকার হয়। এ কারণে প্রাণ বাঁচাতে এ পর্যন্ত অন্তত ৬৬ হাজার রোহিঙ্গা পালিয়ে প্রতিবেশী বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে।