নাইক্ষ্যংছড়িতে কামাল বাহিনী সহ ৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা : জড়িতরা এলাকা ছাড়া

8765.jpg

নিজস্ব প্রতিনিধি, উখিয়া |
কক্সবাজার জেলার পার্শ্ববর্তী নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম ইউনিয়নের পশ্চিম পাড়া এলাকায় সম্প্রতি পাহাড় ধ্বসে যুবক নিহতের ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে ঘুমধুম তুমব্রু এলাকার অপরাধ জগতের কিং নামে খ্যাত, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রনালয়ের তালিকাভোক্ত চিহ্নিত মানব পাচারকারী ও এ সীমান্তের ইয়াবা নিয়ন্ত্রক কামাল মেম্বার সহ ৯ জনের বিরুদ্ধে থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। ঘটনাটি ঘটেছে গত ১২ জানুয়ারী বৃহস্পতিবার সন্ধায়। উক্ত ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় বর্তমানেও থম থমে অবস্থা বিরাজ করার পাশা পাশি কামাল বাহিনীর অস্ত্রধারীদের অব্যহত হুমকির মূখে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভোগছে নিহতের হতদরিদ্র পরিবার। নিহতের পিতা সোনালী উখিয়া ক্রাইম নিউজ কে অভিযোগ করে বলেন, কামাল বাহিনী, জামাই সাহাব উদ্দিন, ইয়াবা ইমাম হোসন সহ সিন্ডিকেটের লোকজনের বিরুদ্ধে পরিবারের কোন লোকজন থানা বা আদালতে কোন প্রকার মামলা করিলে তার ছেলের মত পাহাড় ধ্বসের তান্ডব চালিয়ে তাদেরকেও হত্যা করা হবে বলে হুশিয়ারী উচ্চারন করেন। না হলে ঘুমধুম এলাকা ছেড়ে পার্শ্ববর্তী মিয়ানমারে ফাঁড়ি দিতে হবে। জানা গেছে, ঘুমধুম বেতবুনিয়া এলাকার আলতাফ হোসনের ছেলে এক সময়ে মিয়ানমার অনুপ্রবেশকারীদের পকেট ছিনতাই, তাদের মালাল লুট, মাদক ব্যবসায়ী ও গরু ব্যবসায়ীদের নিকট থেকে মাসিক চাঁদা আদায়ই ছিল তার নেশা এবং পেশা। ওই খান থেকে তার বেড়ে উঠা জীবন শুরু হয়। গড়ে তোলে মিয়ানমার ভিত্তিক শীর্ষ ইয়াবা ব্যবসায়ী জামালের সাথে গড়ে গভীর সম্পর্ক। উক্ত সম্পর্কে পর কামাল বাহিনী ও জলপাইতলী এলাকার ল্যাইগ্যা মমতাজের ছেলে ইমাম হোসন প্রকাশ ইয়াবা ইমাম হোসন বাংলাদেশ ভিত্তিক একটি বৃহত্তর সিন্ডিকেট গড়ে তোলে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মরণ নেশা ইয়াবা পাচার করে রাতা রাতি আঙ্গুল ফুলে কলা গাছে পরিনত হয়ে কোটি পতির খাতায় নাম লিখিয়েছেন। উক্ত ইয়াবা কালো টাকার পাহাড় দিয়ে নির্বাচিত হন ইউপি সদস্য। ইউপি সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে তার অপরাধ মূলক কর্মকান্ড আরো দিন দিন বেপরোয়া হওয়ার পাশা পাশি তার সিন্ডিকেটের মাধ্যমে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার লোকজনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি ও ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে প্রতিনিয়ত দেশের যুব সমাজ ধ্বংসকারী মরণ নেশা ইয়াবা পাচার ও সরকারী পাহাড় কেটে ডাম্পার যোগে মাটি পাচার অব্যাহত রেখেছে। তার উক্ত অনৈতিক কর্মকান্ডে বা কোন কাজে বাধা প্রদান করিলে তার উপর নেমে আসে চরম নির্যাতন ও অত্যাচার। কিন্ত দেখার কেউ নেই। স্থানীয় সচেতন মহল বলেন, এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী কামাল বাহিনীর লাগাম কে থামাবে। আল্লাহ আমাদের নিকট এমন অফিসার পাটিয়েছেন, যে অফিসার ঘুমধুম পুলিশ ফাঁড়িতে যোগদান না করলে ঘুমধুম তুব্রু সীমান্তের অপরাধ জগত কখনো নিয়ন্ত্রন করা সম্ভব হতো না। ঘুমধুম পুলিম ফাঁড়ির ইনচার্জ এরশাদুল হক ফাঁড়িতে যোগদান করার পর থেকে সীমান্তের মাদক ও ইয়াবা ব্যবসায়ীদের উপর জিরো ট্রলারেন্স ঘোষনা করেন এবং তা বাস্তবে রূপনে। তার অক্লান্ত পরিশ্রম ও সাহসীকতার ফলে ঘুমধুম তুমব্রু সীমান্ত এলাকার আইনশৃংখলা পরিস্থিতির ব্যাপক উন্নতি সাধিত হয়েছে। সম্প্রতি ঘুমধুম পশ্চিম পাড়া এলাকায় পাহাড় ধ্বসের ঘটনায় ইউনিয়নের নোয়া পাড়া গ্রামের সোনালীর ছেলে খাইরুল বশর (২০) ঘটনাস্থলে নিহত হয়। এ সময় উখিয়া উপজেলার রাজাপালং গ্রামের শুভধন বড়–য়ার ছেলে ডাম্পার ড্রাইভার সমিরন বড়–য়া গুরুতর আহত হয়ে বর্তমানে চট্রগ্রাম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে বলে জানা গেছে। উক্ত ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ১৩ জানুয়ারী ঘুমধুম পুলিশ ফাঁড়ির সহকারী উপÑ পরিদর্শক রূপন বড়–য়া বাদী হয়ে কামাল মেম্বারকে প্রধান আসামী করে, ঘুমধুম বেতবুনিয়া এলাকার শহর মূলকের ছেলে মোঃ নুরু, জলপাইতলী এলাকার শামশুল আলমের ছেলে সাহাব উদ্দিন, ঘুমধুম পশ্চিম পাড়া এলাকার মৃত মকবুল আহম্মদের ছেলে মোঃ রশিদ, একই এলাকার মৃত মীর কাশেমের ছেলে বদিউল আলম, জলপাইতলী এলাকার ল্যাইগ্যা মমতাজের ছেলে ইমাম হোসেন, ঘুমধুম পশ্চিম পাড়া গ্রামের আহম্মদ কবির, নয়াপাড়া গ্রামের মৃত মোঃ কালুর ছেলে মোঃ আলম, বেতবুনিয়া গ্রামের আলতাফ হোসনের ছেলে মোঃ মুফিজ সহ ৯ জনের বিরুদ্ধে নাইক্ষ্যংছড়ি থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। যার মামলা নংÑ ৭, তারিখঃ ১৩/০১/২০১৭ ইং। ধারা ৩০৪-ক/১০৯ দঃ বিঃ তৎ সহ ১৯৫২ ইং সনের ইমারত নির্মান আইনের সংশোধিত (১৯৯০) এর ১২ (১) (ক)। উক্ত ঘটনার সাথে জড়িতরা বর্তমানে এলাকা ছেড়ে মামলা থেকে অব্যাহতি পাওয়ার জন্য উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের শীর্ষ নেতাদের ধারে ধারে ঘুরছে। এ ব্যাপারে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও ঘুমধুম পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মোঃ এরশাদুল হক বলেন, সম্প্রতি পাহাড় কেটে যারা মৃত্যুর ঘটনা ঘটিয়েছে তাদেরকে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং নিহত পরিবারকে যারা হুমকি ধমকি দিয়ে যাচ্ছে তাদেরকেও ছাড় দেওয়া হবে না।