টেকনাফের জাতীয়করণের দাবী রাখে নারী শিক্ষার অন্যতম প্রতিষ্ঠান এজাহার বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়

Azahar-balika.jpg

মোঃ আশেকউল্লাহ ফারুকী, টেকনাফ :
কক্সবাজার জেলার শিক্ষাও সাংস্কৃতি দিক থেকে পিছিয়ে পড়া এক জনপদের নাম টেকনাফ। পাহাড় সমূদ্র বিধৌত প্রকৃতির স্বর্গভূমি এবং মিয়ানমার সীমান্তের নাফ-নদীর তীরে প্রাকৃতিক মনোরম টেকনাফ উপজেলার প্রশাসনের প্রাণকেন্দ্রে ১৯৮৫ সালে স্থাপিত হয় টেকনাফ এজাহার বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়।

এ উপজেলার শিক্ষার হার মাত্র ১৯% শতাংশ। তৎমধ্যে নারী শিক্ষার হার জেলার সর্বনি¤œ।

কক্সবাজার জেলার ৮ উপজেলার মধ্যে টেকনাফ উপজেলার শিক্ষার হার সর্বনিম্ম পর্যায়ে।

এ নারী শিক্ষা নিকেতনের প্রতিষ্ঠাতা সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান বিশিষ্ট সমাজ সেবক সাংসদ আব্দুর রহমান বদীর পিতা মরহুম এজাহার মিয়া কোম্পানী। স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগীতায় তার উদ্দ্যোগে এ নারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি স্থাপিত হয়। হাঁটি হাঁটি পা পা করে বর্তমানে পূর্ণাঙ্গ প্রতিষ্ঠানের অবদান অনস্বিকার্য্য। বর্তমানে এ প্রতিষ্ঠানে ৫শত শিক্ষার্থী অধ্যায়ন করে যাচ্ছে। প্রতিবছর জেএসসি এবং এস,এস,সি সার্টিফিকেট পরীক্ষায় বেশ সুনামের সাথে কৃতকার্য্য হয়ে আসছে।

টেকনাফ উপজেলা প্রাণ কেন্দ্রে একমাত্র বালিকা উচ্ছ বিদ্যালয় হিসাবে এতদাঞ্চলে উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বিস্তারে একক ও গুরত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। বর্তমানে এ প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থী সংখ্যা প্রায় ৫শত জন এবং কর্মরত শিক্ষক শিক্ষিকা ও অন্যান্য কর্মচারী সংখ্যা ১৫ জন।

সম্প্রতি সরকার শিক্ষার মানোন্নয়নের লক্ষ্যে প্রতিটি উপজেলায় যেখানে সরকারী মাধ্যমিক স্কুল নেই) সেখানে একটি করে মাধ্যমিক স্কুল জাতীয় করণের উদ্দ্যোগ গ্রহণ করেছে। এ ধরণের মহৎ উদ্দ্যোগ অবশ্যই প্রশংসার দাবী রাখে। সর্বস্থরে মানুষ, শিক্ষক সমাজ এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকে দাবী উঠেছে, টেকনাফ এজাহার বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়টি জাতীয়করণের এ মহৎ উদ্দ্যোগ এবং চ্যালেঞ্জ হাতে নেয়ার বর্তমান সরকারের দেশনেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি বিন¤্র শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।

জাতীয়করণ নীতিমালা অনুযায়ী “এজাহার বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়টি পৌরসভা এবং প্রশাসন প্রাণ কেন্দ্রে অবস্থান, নিজস্ব জমিতে এ প্রতিষ্ঠানের স্থাপন, নারী শিক্ষার সুন্দর পরিবেশ খেলার মাঠ। পর্যাপ্ত অবকাঠামো, পরীক্ষা কেন্দ্র পরীক্ষায় ভাল ফলাফল ও ছাত্রীর সংখ্যা ক্রসান্নয়ে বৃর্দ্ধি পাচ্ছে।

টেকনাফ বাংলাদেশের সর্বশেষ সীমান্ত উপজেলা প্রাকৃতিক সম্পদের জন্য ভরপুর এবং পর্যটন এলাকা হিসাবে দেশ বিদেশে সুপরিচিত। প্রতিবছর এখানে প্রচুর সংখ্যাক পর্যটক আগমন করেন। সরকার পর্যটন খাতে প্রচুর অর্থ ব্যায় করছেন। এমতাবস্থায় এ প্রতিষ্ঠানটি জাতীয়করণ নিতান্ত প্রয়োজন। গবীর মেধাবী শিক্ষার্থীরা সরকারী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের অভাবে বেসরকারী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে অধ্যায়ন করতে বাধ্য হচ্ছে।

জেলার আট উপজেলায় মাধ্যমিক উচ্চ বিদ্যালয় জাতীয় করণ করা হলেও টেকনাফ উপজেলায় মাধ্যমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ করা হয়নি । মানবপাচার, মরণ ব্যাধী ইয়াবা এবং যুব সমাজের নৈতিক অবক্ষায় থেকে রক্ষা করতে হলে অগ্রাধিকারের ভিক্তিতে মাধ্যমিক বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়টি জাতীয়করণের কোন বিকল্প নেই। এমন অভিমত প্রকাশ করছেন অনেকেই।

পিছিয়ে পড়া নারী শিক্ষার হার বৃর্দ্ধির পরিবেশ পেলেই টেকনাফ সীমান্ত এলাকা শিক্ষার উন্নয়নের বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনবে।