উখিয়ায় ভূয়া মুক্তিযোদ্ধারা অর্ন্তভূক্ত হচ্ছে

.jpg

মুহাম্মদ হানিফ আজাদ, উখিয়া :
প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা যাচাই বাছায়ের জন্য গঠিত কমিটির বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়ম অস্বচ্ছতার অভিযোগের প্রেক্ষিতে উখিয়ায় ২য় দিনের মতো যাচাই বাছাই কার্যক্রম চলে গত কাল রোববারও। স্বাধীনতা যোদ্ধে বিরোধিতাকারী রাজাকার সদস্য ও অমুক্তিযোদ্ধারা এখানে বাছাই কমিটিতে থাকায় অন্তত ৩০জন রাজাকার, আলবদল সদস্য ও অমুক্তিযোদ্ধা দূর্নীতির মাধ্যমে মুক্তিযোদ্ধায় অর্ন্তভূক্ত হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। গতকাল রোববার উখিয়ার মুক্তিযোদ্ধা যাচাই বাছাই কার্যক্রম ক্লোজড ডোরে ইউএনও’র অফিস কক্ষের পরিবর্তে হল রুমে প্রকাশ্যে ২য় দিনের মতো সকাল ১১টার দিকে শুরু করা হয়।
কার্যক্রম শুরুর পূর্বে উখিয়া আওয়ামীলীগ সভাপতি অধ্যক্ষ হামিদুল হক চৌধুরী, হলদিয়া পালং ইউপি চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ শাহ আলম, মুক্তিযোদ্ধের সংগঠক সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান বাদশা মিয়া চৌধুরী, সাবেক ইপিআর সদস্য আবু বক্কর ছিদ্দিক সহ অনেকেই যাচাই বাছাই প্রক্রিয়া নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তারা শনিবার প্রথম যাচাই বাছাইকৃত রাষ্ট্রীয় সুবিধা ভোগী অভিযুক্ত মুক্তিযোদ্ধাদের যাচাই কার্যক্রম নিয়ে ক্ষোভ জানিয়ে বাছাই কার্যক্রম স্বচ্ছতার মাধ্যমে করার দাবী জানান। অভিযোগকারীরা বাছাই কমিটির জনৈক সদস্য সহ পুরাতন ভাতা ভোগী ২৮জন মুক্তিযোদ্ধাদের ব্যাপারে আপত্তি, অভিযোগ প্রদান করা হলেও কমিটি তা আমলে না নিয়ে রহস্য জনক ভাবে উপস্থিত আপত্তি কারীদের কোনঠাসা করে নিমিষেই যাচাই বাছাই কার্যক্রম সম্পন্ন করে বলে জানান। তাদের অভিযোগ যাচাই বাছাই কার্যক্রম থেকে মনে হয়েছে পুরো বিষয়টি পরিকল্পিত ও সাজানো। অভিযুক্ত তালিকার ২,৩,২০,২২,২৫ ও ২৮ এদের কেউ মুক্তিযোদ্ধা না হওয়া সত্বেও উপজেলা কমান্ডারের নিকট আত্মীয় হওয়ায় তারা মুক্তিযোদ্ধা স্বীকৃতি নিয়ে রাষ্ট্রীয় সুযোগ সুবিধা ভোগ করছে।
একই ভাবে তালিকার ১,১২ নং মুক্তিযোদ্ধে অংশ না নিয়ে মুক্তিযোদ্ধা হয়ে গেছে। অভিযুক্ত ১৩ নং ব্যক্তি ১৯৭১ সালে উখিয়া থানা শান্তি কমিটির প্রভাবশালী নেতার বাড়ীতে নিরাপদে আশ্রয় থেকে বার্মায় চলে যায়। সেখান থেকে দেশ স্বাধীন হওয়ার পর দেশে ফিরে আসে। ১৬ নং ব্যক্তি স্বাধীনতা বিরুধীদের আশ্রয়ে থেকে নিরাপদে ছিল এবং মুক্তিযোদ্ধে অংশ না নিয়েও মুক্তিযোদ্ধা হয়ে গেছে। ২১ নং ব্যক্তির পরিবারের লোকজন ৭১ সালে মুসলিম লীগের পক্ষ নিয়ে স্বাধীনতা স্বপক্ষের লোকজনদের নানা ভাবে হয়রানি করে এবং তিনি ওই সময় চট্টগ্রামের ওয়াজিদিয়ায় এসএসসিতে অধ্যায়নরত ছিলেন। ২০১১ সালে উখিয়া উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড প্রণীত ও বর্তমান কমান্ডার পরিমল বড়–য়া স্বাক্ষরিত রাজাকারের তালিকায় হলদিয়া পালং ইউনিয়নের ১৯ ও ২৪নং, ৭ ও ১৭ নং অভিযুক্তরা থানা শান্তি কমিটির ২৪ নং ও রতœাপালং ইউনিয়ন রাজাকার তালিকার ১২নং সদস্য।
অভিযুক্ত ১৯, ২৭ নং ও অপর জনসহ ওই তালিকার মানবতা বিরুধী তালিকার ৬,৭ ও ৮ নং অভিযুক্ত সদস্য। বর্তমানে এসব মানবতা বিরুধী অপরাধে অভিযুক্ত হয়েও মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে রাষ্ট্রীয় সুযোগ সুবিধা ভোগ করায় মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সচেতন লোক জনের মাঝে বর্তমানে চলমান মুক্তিযোদ্ধা যাচাই বাছাই প্রক্রিয়া নিয়ে অসন্তোষ ও স্বচ্ছতা নিয়ে ব্যাপক ক্ষোভ বিরাজ করছে। উখিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও যাচাই বাছাই কমিটির সদস্য সচিব মোঃ মাঈন উদ্দিন ও সভাপতি এম.এ রাজ্জাক বলেন, মুক্তিযোদ্ধের সময় আমরা এখানে ছিলাম না ও আমরা এখানের বাসিন্দাও না। সুতারাং কারা মুক্তিযোদ্ধে অংশ নিয়ে ছিলো বা কারা প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা তা স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা ও সাধারণ লোকজন ভাল বলতে পারবেন। তবে আমাদের পক্ষ থেকে সম্পূর্ণ স্বচ্ছতার মাধ্যমে যাচাই বাছাই প্রক্রিয়া চালানো কথা জানান তারা।