র‌্যাব সদস্যদের কোনো অন্যায় সহ্য করা হবে না: বেনজীর

benozir_37259_1484914128.jpg

র‌্যাব সদস্যদের কোনো অন্যায় সহ্য করা হবে না বলে বাহিনীর সদস্যদের হুশিয়ারি দিয়েছেন র‌্যাবের ডিজি বেনজীর আহমেদ।

তিনি বলেন, যেকোনো মূল্যে র‌্যাবের ‘ক্লিন ইমেজ’ রাখতে আমরা সর্বাধিক গুরুত্ব দিব। র‌্যাব সদস্যের কোনো অন্যায় সহ্য করা হবে না। কঠোর হাতে তা দমন করা হবে।

শুক্রবার রংপুরে দুস্থ শীতার্তদের মাঝে কম্বল বিতরণ অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে র‌্যাবের ডিজি এসব কথা বলেন।

নারায়ণগঞ্জের ৭ খুনের মামলায় র‌্যাবের একাধিক সদস্য ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত হওয়ায় র‌্যাবের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হয়েছে কিনা? এমন প্রশ্নের জবাবে র‌্যাবের ডিজি আরও বলেন, যারা ওই ঘটনার সঙ্গে জড়িত তা তাদের নিজস্ব কর্মফল। এতে র‌্যাবের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই।

তিনি বলেন, দেশের মানুষের অনেক আশা আকাঙ্ক্ষা নিয়ে সরকার এলিট ফোর্স হিসেবে র‌্যাব গঠন করেছে। র‌্যাব সদস্যরা অনেক ত্যাগ, কঠোর পরিশ্রম, আর ন্যায়-নিষ্ঠার সঙ্গে অনেক ভাল কাজ করে যাচ্ছে। মানুষের ভালবাসা আস্থা অর্জন করেছে। তাই র‌্যাবের নারায়ণগঞ্জের কয়েকজন সদস্যদের অন্যায়ের দায়ভার যদি কেউ র‌্যাব এলিট ফোর্সের ওপর চাপিয়ে দিতে চায় তাহলে তা র‌্যাবের প্রতি অন্যায় করা হবে।

র‌্যাব ডিজি দাবি করেন, র‌্যাব দেশের অসহায় সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জন করেছে তাদের সততা আর কাজের নিষ্ঠার জন্য।

বেনজীর আহমেদ বলেন, নারায়ণগঞ্জের ৭ খুনের ঘটনার পর র‌্যাব প্রথম তাদের নিজস্ব বাহিনীর সদস্যের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছে, চাকরিচ্যুত করেছে, গ্রেফতার করেছে। এ ঘটনাই বলে দেয় র‌্যাব কোনো অন্যায়কে প্রশ্রয় দেয় না।

র‌্যাবের মহাপরিচালক বলেন, ইতিপূর্বে র‌্যাবের অনেক সদস্য অন্যায় করে ছাড় পায়নি। অনেকে এখন জেলে আছে। অনেক সদস্যকে তার নিজ বাহিনীতে ফেরত পাঠানো হয়েছে। অনেক সদস্য চাকরিচ্যুত হয়েছে। র‌্যাব সদস্যদের দেশপ্রেম, নিষ্ঠা ও আত্মমর্যাদা নিয়ে এলিট ফোর্স হিসেবে সম্মান অক্ষুন্ন রাখতে আমরা কোনো ছাড় দিব না।

জঙ্গি তৎপরতার সম্পর্কে র‌্যাবের ডিজি বলেন, উত্তরাঞ্চলের জঙ্গি তৎপরতা সবচেয়ে বেশি। হঠাৎ করে উত্তরাঞ্চলের জেলাগুলোতে জেএমবি (জামাআ’তুল মুজাহিদীন বাংলাদেশ) শক্তিশালী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করল। কেন হঠাৎ করে ২০০৪ সালের পর ১২ বছর অন্তর এ অঞ্চলের জঙ্গি তৎপরতা বৃদ্ধি হল। তারা সংগঠিত হল। শক্তি সঞ্চয় করে সংগঠিত হয়ে হামলা চালাচ্ছে। কী এর নেপথ্য কারণ তা সামাজিক গবেষণার বিষয়। এটি আমরা আরও গভীরভাবে দেখতে চাই।

তিনি জানান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যলয়ের সঙ্গে র‌্যাব উত্তরাঞ্চলের ১৪টি জেলায় একটি যৌথ গবেষণা কাজ শুরু করেছে।

র‌্যাব মহাপরিচালক আরও জানান, যাদের গ্রেফতার করা হয়েছে, যারা কারাগারে আছে। যারা আইনশৃংখলা বাহিনীর সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হয়েছে তাদের বেশিরভাগই উত্তরাঞ্চলের জেলার বাসিন্দা।

বেনজীর আহমেদ বলেন, দেশে এক হাজারের বেশি সংখ্যার জঙ্গি নেই। তাদের মধ্যে সক্রিয় জঙ্গির সংখ্যা খুবই নগন্য। জঙ্গিদের বেশিরভাগ এখন কারাগারে। অনেকে আইনশৃংখলা বাহিনীর সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হয়েছে। অনেকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসছে।

গাইবান্ধার এমপি লিটন খুনের বিষয়ে তিনি বলেন, এ ঘটনা তদন্ত করছে পুলিশ। আমরা (র‌্যাব) কেবল ছায়া তদন্ত করছি। আমরা এই খুনিদের শনাক্ত না করা পর্যন্ত এ কাজ চালিয়ে যাব।

শুক্রবার রংপুরে শীতার্ত দুস্থদের মাঝে কম্বল বিতরণ করেন। র‌্যাব -১৩ রংপুর এর কার্যালয় পানিউন্নয়ন বোর্ড অফিস চত্বরে প্রায় ২ হাজার দুস্থ পরিবারের মাঝে কম্বল বিতরণ করা হয়। এ সময় তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন র‌্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক কর্নেল আনোয়ার লতিফ খান, পুলিশের রংপুর রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি চৌধুরী মঞ্জুরুল কবীর (ক্রাইম), র‌্যাব ১৩ কমান্ডার এটিএম অতিকুল্লা (এলবিএন), অতিরিক্ত ডিঅইজি বশির আহমেদ (এডমিন), র‌্যাব ১৩ কোম্পানি কমান্ডার নজরুল ইসলাম, অতিরিক্তি পুলিশ সুপার (ডিএসবি) জাকির হোসেন প্রমুখ।