উখিয়ায় সাড়ে ৫ কোটি টাকা ব্যায়ে রাবার ড্যামে এক হাজার একর জমিতে বোরো চাষ : কৃষকের মাঝে হাসি

Ukhiya-Pic-20.01.2017.jpg

মুহাম্মদ হানিফ আজাদ, উখিয়া :
উখিয়ার পশ্চিম ডিগলিয়া খালের উপর নবনির্মিত রাবার ড্যামে ধরে রাখা পানি কৃষকের মাঝে প্রাণচাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। উৎসবের আমেজ নিয়ে হতদরিদ্র কৃষকেরা বোরো চাষাবাদে কোমর বেঁধে মাঠে নেমেছে। শাক-সবজ্বি উন্নয়নে কৃষানীরাও অতি উৎসাহ নিয়ে শ্রম দিচ্ছে। যুগ যুগ ধরে শুষ্ক মৌসুমে অনাবাদি থাকা প্রায় এক হাজার একর জমিতে বোরো চাষাবাদ সহ শাক-সবজ্বি উৎপাদন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
সরেজমিন রাজাপালং ইউনিয়নের অধিকতর জমি বিহীন প্রান্তিক, ক্ষুদ্র ও বর্গাচাষী অধ্যুষিত জনপদ দরগাহবিল, চাকবৈঠা, পশ্চিম ডিগলিয়া, টাইপালং, গয়ালমারা, সিকদার বিল, পূর্ব ডিগলিয়া, উত্তর পুকুরিয়া ও দক্ষিণ পুকুরিয়া এলাকা ঘুরে স্থানীয় কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, একমাত্র সেচের অভাব জনিত কারণে এসব এলাকার হাজারেরও অধিক জমি প্রতি শুষ্ক মৌসুমে অনাবাদি থেকে যেত। যে কারণে এখানকার হতদরিদ্র কৃষকদের আর্থিক দৈন্যদশার মধ্য দিয়ে দিনযাপন করতে হচ্ছিল । স্থানীয় কৃষক হাজী মোঃ ইসলাম জানায়, এলজিইডির অর্থায়নে পশ্চিম ডিগলিয়া খালের উপর নব-নির্মিত রাবার ড্যাম গরীব কৃষকদের চাষাবাদের মাধ্যমে আত্মনির্ভরশীল হওয়ার পথ সুগম করেছে।
স্থানীয় কৃষক হাজী আজিজুর রহমান, মীর আহমদ, মোঃ ইসলাম ও মোঃ ইলিয়াছ জানান, এ রাবার ড্যাম এলাকায় একটি দৃশ্যমান পরিবেশের সৃষ্টি করেছে। সাড়ে ৫ কোটি টাকা ব্যয়ে চট্টগ্রাম আবুল বশর কনস্ট্রাকশনের স্বত্বাধিকারী ঠিকাদার এ রাবার ড্যামের কাজটি সম্পন্ন করেছে। যার ফলে প্রতিদিন সন্ধ্যা বেলায় শত শত নারী, শিশু এ রাবার ড্যাম দেখার জন্য আসছে। পাশাপাশি ক্ষুদ্র, প্রান্তিক ও বর্গাচাষীরা বোরো চাষাবাদের সুযোগ পেয়ে পুরো এলাকায় একটি উৎসবের আমেজ পরিলক্ষিত হচ্ছে। পরিত্যক্ত একটি জনপদে উন্নয়ন মূলক একটি প্রকল্প গড়ে তোলায় এলাকার মানুষের মাঝে প্রাণচাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।
রাজাপালং ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর কবির চৌধুরী জানান, কৃষি নির্ভরশীল এ উপজেলায় সেচের অভাবে প্রতি শুষ্ক মৌসুমে হাজার হাজার একর জমি অনাবাদি থেকে যাচ্ছে। সরকারের কৃষি উন্নয়নে যুগান্তকারী পদক্ষেপের মধ্যে অনন্য দৃষ্টান্ত পশ্চিম ডিগলিয়া খালের উপর একটি রাবার ড্যাম নির্মিত হওয়ায় এলাকার খাদ্য ঘাটতি পূরণের পাশাপাশি অর্থকরী ফসল উৎপাদন করে হতদরিদ্র কৃষকেরা স্বাবলম্বী হওয়ার একটি মাধ্যম সৃষ্টি হয়েছে।
উপজেলা কৃষি অফিসার শরিফুল ইসলাম জানান, পশ্চিম ডিগলিয়া রাবার ড্যামের পানি সুষ্ঠু বন্টন ও ব্যবহার নিশ্চিত করা হয়েছে। যার কারণে হাজার একরেরও অধিক জমিতে বোরো চাষাবাদ হয়েছে। পাশাপাশি তরিতরকারি সহ বিভিন্ন অর্থকরী ফসল উৎপাদনে সহায়ক ভূমিকা রাখবে। উপজেলা প্রকৌশলী সুমন মাহামুদ জানান, নবনির্মিত রাবার ড্যামটি সুষ্ঠু ভাবে পরিচালিত ও রক্ষণাবেক্ষণ করা হলে এ রাবার ড্যামের সাহায্যে এলাকার মানুষ দীর্ঘদিন সুফল ভোগ করতে পারবে। তাছাড়া এটি এলাকার জন্য একটি দৃশ্যমান প্রকল্প হিসাবে সাধারণ জনগণ এর সৌন্দর্য্য উপভোগ ও উপকারিতা গ্রহণ করে স্বাবলম্বী হতে পারবে।