বালুখালীতে নতুন রোহিঙ্গা বস্তি দেড় হাজার ছাড়িয়ে গেছে

99988.jpg

রফিক মাহমুদ, উখিয়া:

মিয়ানমারের সেনাবাহিনী পুলিশ ও রাখাইন সম্প্রদায়ের নির্যাতনের শিকার হয়ে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা বিপুল পরিমান রোহিঙ্গাদের নিয়ে বানিজ্যের পর বানিজ্য চালিয়ে যাচ্ছে স্থানীয় প্রভাবশালী এক সিন্ডিকেট। ইতিমধ্যে রোহিঙ্গাদের নিয়ে উখিয়া উপজেলায় অনিয়ন্ত্রিত কুতুপালং শরনার্থী শিবির ছেড়ে স্থানীয় বালুখালী এলাকায় শত শত একর বনভূমি দখল করে নতুন বস্তি নির্মাণ করে যাচ্ছে। গতকাল বুধবার ১৮ জানুয়ারি সকালে কক্সবাজার দক্ষিণ বনবিভাগের সহকারি বনসংরক্ষক সারওয়ার আলমের নেতৃত্বে বনবিভাগের একটি দল বালুখালীর নতুন বস্তি এলাকা পরিদর্শন করেন।

পরিদর্শনের সময় উপস্থিত ছিলেন, উখিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ মাঈন উদ্দিন, উপজেলা ভূমি কমিশনার নুর উদ্দিন মোহাম্মদ শিবলী নোমান, উখিয়া রেঞ্জ কর্মকর্তা মনিরুল ইসলাম ও বনবিভাগের বিভিন্ন কর্মকর্তারা। পরিদর্শন শেষে তারা বলেন, গত ১ সপ্তাহের মধ্যে বালুখালী পান বাজারের পশ্চিম পার্শ্বে বনভূমির বিস্তৃর্ণ পাহাড়ী এলাকায় প্রায় দেড় হাজারেরও অধিক রোহিঙ্গা বস্তি স্থাপন করা হয়েছে। দিন দিন উক্ত বস্তি আরও ব্যাপক আকারে ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

গতকাল সরজমিনে পরিদর্শনে গিয়ে দেখা যায়, উখিয়ার বালুখালী বনবিটের অধিনে বনবিভাগের বিশাল জায়গায় গড়ে তোলা হয়েছে রোহিঙ্গা বস্তি। যা বর্তমানে উক্ত বস্তি এলাকায় নতুন করে দেড় হাজারেরও বেশি রোহিঙ্গা পরিবার বসতি স্থাপন করা হয়েছে। নিয়ন্ত্রনহীন লক্ষাধিক রোহিঙ্গাদের নিয়ে স্থানীয় জনগন সহ প্রসাশন বেকায়দায় রয়েছে। তার উপর নতুন করে রোহিঙ্গাদের নিয়ে বালুখালী এলাকায় রোহিঙ্গা বাজার ও বস্তি সৃষ্টি হওয়ায় সাধারণ জনগণের মাঝে এক ধরনের চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পালংখালী ইউনিয়নের সাবেক এক ইউপি সদস্য বলেন অনুপ্রবেশকারী রোহিঙ্গারা এখন এইদেশে বিষপোটায় পরিণত হয়েছে। তার উপরে সীমান্তে শিতিল থাকার কারণে দিন দিন রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। কুতুপালং শরণার্থী ক্যাম্প ছেড়ে এখন বালুখালীতে এসে বিশাল বনভূমির জায়গা দখল করে বস্তি গড়ে তুলেছে তারা।

এদিকে সাম্প্রতিক সময় কুতুপালং এলাকায় বনবিভাগের দ্বারা বাহিক অভিযানের অনুপ্রবেশকারী রোহিঙ্গাদের ঝুপড়ি ঘর উচ্ছেদ করার কারণে ডায়ভার্ট রোহিঙ্গারা বালুখালীর বনভূমিতে আশ্রয় নিয়েছে বলে মায়ানমারের খিয়ারী প্রাং থেকে আসা আব্দু সালাম নামের অনুপ্রবেশকারী এক রোহিঙ্গা নাগরিক জানিয়েছেন। তার মত একাধিক রোহিঙ্গারা একই কথা বলেন। সূত্রে জানা গেছে, কুতুপালং শরণার্থী শিবির থেকে আনরেজিষ্ট্রার্ট ও সাম্প্রতিক সময় অনুপ্রবেশকারী রোহিঙ্গাদেরকে বালুখালী নতুন বস্তিতে স্থানান্তর করে নিয়ে যাওয়ার জন্য স্থানীয় একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট প্রতিনিয়ত রোহিঙ্গাদেরকে উদ্বোদ্ধ করে যাচ্ছে বলে জানা গেছে। এভাবেই রোহিঙ্গারা উখিয়া ও টেকনাফের বনভূমি দখল করে বসতি স্থাপনের কারনে বনবিভাগ শূণ্য হওয়ার আশংকা রয়েছে বলে একটি মহল দাবী করছে। কি কারণে রোহিঙ্গাদেরকে হঠাৎ করে বালুখালীর বনবিভাগের জায়গায় বস্তি স্থাপনের জায়গা করে দেওয়া হয়েছে তা নিয়ে সচেতন মহলের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

উক্ত সিন্ডিকেট বাংলাদেশ সীমান্তের ওপারে ও এপারে দালাল নিয়োগ করে তারা অশুভ উদ্দেশ্যে রোহিঙ্গাদের এদেশে নিয়ে আসছে। স্থানীয় বেশ কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী জানিয়েছেন বালুখালী এলাকায় অপরিচিত লোকজন ত্রাণ বিতরণের নামে পরিস্থিতি ঘোলাটে করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। প্রতিদিন রাতের আধাঁরে ও ভোররাতে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে টিম এসে রোহিঙ্গাদের সঙ্গে দেখা সাক্ষাত ও নগদ টাকা বিতরণ করে যাচ্ছে বাধাঁহীনভাবে। এ কাজে সরকারের তথা জেলা প্রশাসন ও উপজেলা প্রশাসন থেকে কোন ধরনের অনুমতি নেয়া হচ্ছেনা বলে একাধিক সুত্রে জানা গেছে।

মানবিক দৃষ্টিকোন ছাড়াও রোহিঙ্গাদের অসৎ উদ্দেশ্যে ব্যবহারের লক্ষ্যে একাধিক জঙ্গি সংগঠন রোহিঙ্গাদের মাঝে নগদ টাকা সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে বলে সুত্রটি নিশ্চিত করেছে। এ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে রোহিঙ্গা জঙ্গীরা কক্সবাজার জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটাতে পারে বলেও আশঙ্কা করছেন স্থানীয় সচেতন মহল। সীমান্তবর্তী জনগনের মতে, বালুখালী এলাকায় নতুন বস্তি ও বাজার সৃষ্টির খবরে নতুন করে রোহিঙ্গাদের অনুপ্রবেশ আবারো বৃদ্ধি পেয়েছে। ব্যাপকভাবে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ ঘটাতে এসব দালালদের সীমান্ত পয়েন্টগুলোর বিভিন্ন স্থানে নিয়োজিত রেখেছে স্থানীয় একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট। তাদের লক্ষ্য বালুখালীতে রোহিঙ্গা বস্তি ও বাজার দেখিয়ে বিদেশ থেকে বিপুল পরিমান অর্থ এনে আত্মসাত এবং নতুন আসা রোহিঙ্গাদের নিয়ে দল ভারি করা।

বনবিভাগের জায়গায় ঝুপড়ি ঘর নির্মানের ব্যাপারে জানতে চাওয়া হলে কক্সবাজার দক্ষিন বনবিভাগের সহকারী বনসংরক্ষক সারওয়ার আলম এ প্রতিবেদককে জানান, অনুপ্রবেশকারী রোহিঙ্গাদেরকে রাষ্ট্রিয় ভাবে মোকাবিলা করা ছাড়া তাদের উচ্ছেদ করা সম্ভব নয়। সরকারি উচ্চ মহল থেকে যেরকম নির্দেশনা আসবে আমরা বনভূমি দখলমুক্ত করতে সেইরকম ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।