উখিয়ায় ভূঁয়া মুক্তিযোদ্ধাদের দাপটে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধারা কোনঠাসায়

.jpg

নিজস্ব প্রতিনিধি, উখিয়া ॥
উখিয়া উপজেলায় প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধারা ভূঁয়া মুক্তিযোদ্ধাদের দাপটে অসহায় ও কোনঠাসা হয়ে পড়ার অভিযোগ উঠেছে। তথাকথিত ভুঁইফোড় মুক্তিযোদ্ধাদের দৌরাত্বে সংগঠনের অভ্যন্তরে নানা জটিলতা ও মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। উখিয়া মুক্তিযোদ্ধা সংসদের তালিকাভুক্ত ৪৫ জন মুক্তিযোদ্ধার মধ্যে শহীদ পরিবারসহ ৫ জন এখনও সরকারী সুযোগ সুবিধার আওতায় আসেনি। অথচ সিংহভাগ ভূঁয়া ও ভুইঁফোড় মুক্তিযোদ্ধারা দীর্ঘদিন ধরে সরকারী ভাতা গ্রহণসহ যাবতীয় সুযোগ সুবিধা ভোগ আসছে।

আগামী ২১ জানুয়ারি মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়ের অধীনে ফের প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাই করার কথা রয়েছে। এতে তদন্ত ও যাচাই-বাছাইয়ে ভুঁয়া ও ভুইঁফোড় মুক্তিযোদ্ধাদের অবিলম্বে তালিকা থেকে অব্যাহতি দেওয়ার জন্য জোরদাবী ও সকল সুযোগ-সুবিধা স্থগিতের দাবী করেছেন উখিয়ার প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধারা।

মুক্তিযোদ্ধা সংসদ উখিয়া উপজেলা কমান্ডার পরিমল বড়ুয়া স্বাক্ষরিত এক পত্রে দেখা যায়, উখিয়া উপজেলা মোট ৪০ জন মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ পরিবার রয়েছে। এসব মুক্তিযোদ্ধারা নিয়মিত সরকারী বেতন-ভাতা ও সকল সুযোগ সুবিধা ভোগ আসছেন। উখিয়ায় ৪৫ জন মুক্তিযোদ্ধার মধ্যে সিংহভাগ মুক্তিযোদ্ধার প্রকৃত পরিচয় নিয়ে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের মাঝে চরম বির্তক ও কোন্দল রয়েছে।

মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার পরিমল বড়ুয়া বলেন, উখিয়ায় প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা নিয়ে বির্তক ও বিরোধ দীর্ঘদিনের। ৪৫ জন মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে ২০০০ সাল থেকে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের নির্দেশনা অনুযায়ী ৪ জন মুক্তিযোদ্ধা, ২০০২ সালে ২ জন, ২০০৪ সালে ৩ জন, ২০০৫ সালে ২ জন, ২০০৬ সালে ৭ জন, ২০০৭ সালে ১ জন, ২০০৯ সালে ৫জন, ২০১০ সালে ৫ জন ও ২০১৩ সালে ১০ জন মুক্তিযোদ্ধা নিয়মিত ভাতা ও সরকারী সুযোগ সুবিধার অন্তভুক্ত হন।

বর্তমান সরকারের মন্ত্রীপরিষদ সচিব শফিউল আলমের বড় ভাই শহীদ এটিএম জাফর আলমসহ ৫ টি পরিবার এখনো সরকারী সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত রয়েছে। তিনি আরো বলেন, ২০০১ সালে বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের প্রকাশিত মুক্তিযোদ্ধা তালিকায় ১৯ জন ও ২০০৫ সালে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় কর্তৃক প্রকাশিত তালিকায় ৩১ জনসহ বিচ্ছিন্ন ভাবে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন সরকারের আমলে এখানকার মুক্তিযুদ্ধের তালিকার কলবর বৃদ্ধি পায়। এসব মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে প্রকৃত কত জন মুক্তিযোদ্ধা রয়েছে তা নিয়ে বির্তক থাকার কথা স্বীকার করেছেন তিনি।

প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধারা বর্তমান তালিকা নিয়ে চরম ক্ষোভ প্রকাশ বলেছেন, ১৯৭১ সালে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধ চলাকালীন সময়ে উখিয়ার কোথাও কোন সম্মুখ যুদ্ধের ঘটনা ঘটেনি। তবে কয়েকটি বাড়িতে পাকবাহিনী দেশীয় দালালদের সহযোগিতায় কয়েকটি বাড়িতে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দিয়েছিল। তারপরও বিচ্ছিন্ন ভাবে এখানকার আমরা ৭/৮ জন রামু, ঈদগাও, টেকনাফসহ বিভিন্ন এলাকার ৩৫/৪০ জন মুক্তিযোদ্ধা বিচ্ছিন্ন ভাবে স্বাধীনতা বিরোধীদের অপতৎপরতা প্রতিরোধে নানা কর্মসূচী পালন করে ছিলাম।

মুক্তিযোদ্ধা চলাকালে যারা মুক্তিযোদ্ধের আশে-পাশে ছিল না এবং অনেকেই যুদ্ধা চালাকালীন সময়ে জন্ম গ্রহণ না করলেও তারা এখন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতি নিয়ে রাষ্ট্রীয় সুযোগ সুবিধা ভোগ করে আসছে। অনেকের ছেলে মেয়েকে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় সরকারী চাকুরীতে প্রবেশ করেছে। আবার তাদের কারো কারো নামে সাধারণ মুক্তিযোদ্ধাদের মতামতকে উপেক্ষা করে কমান্ডারসহ কয়েকজন মিলে সরকারী পুনঃবাসন খাতের আওতায় পাঁকা বাড়ি পেয়েছে। যা খুবই উদ্বেগ ও দুঃখ জনক।

উখিয়া প্রেসক্লাব সভাপতি গনমাধ্যম ব্যক্তিত্ব সাংবাদিক রফিকুল ইসলাম বলেন, আমার কাছে ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ সংসদের করা একটি তালিকা রয়েছে। তাতে উখিয়ায় ১২ জন মুক্তিযোদ্ধার কথা উল্লেখ রয়েছে। কিন্তু সে সময়ের অনেকেই বর্তমানে মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় নেই।

তাই তদন্তপূর্বক তিনি ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাদের বাদ দিয়ে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকায় অন্তভুক্তির জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি দাবী জানিয়েছেন।