উখিয়া উপজেলা যুবদলের দ্বি-বার্ষিক সম্মেলনকে ঘিরে নেতাকর্মীদের মাঝে উৎসবের আমেজ

jobadal-flag-1.jpg

শহিদুল ইসলাম, উখিয়া (কক্সবাজার) :
আগামী ২১ জানুয়ারী কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলা যুবদলের দ্বি-বার্ষিক সম্মেলন ও কাউন্সিল অধিবেশন অনুষ্টিত হবে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন কক্সবাজার জেলা বিএনপি’র সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য শাহ জাহান চৌধুরী। ইতিমধ্যে কাউন্সিলারদের তালিকা চুড়ান্ত হয়েছে বলে আহবায়ক কমিটির পক্ষ থেকে জানিয়েছেন। মোট ৫৬৮জন কাউন্সিলারদের নামের তালিকা চুড়ান্ত। প্রত্যেক ইউনিয়ন থেকে ৭১জন সদস্য কাউন্সিলার।

নেতা কর্মীরা বলছেন, দলের ত্যাগী নেতাদের মূল্যায়ন করতে হবে। বিগত সময়ে সরকারী দলের দমন-পিড়ন সহ্য করে যারা দলীয় কর্মসূচী পালন করেন তাদেরকে যুবদলে স্থান দিতে হবে। তবে একাধিক পদধারী ব্যাক্তিকে নেতৃত্ব চাপিয়ে দিলে তা কোন ভাবে মেনে নেওয়া যাবে না।

সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির লোকজন বলছেন, ইতিমধ্যে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। আগামী ২১ জানুয়ারী সম্মেলন ও কাউন্সিল অধিবেশন আবুল কাশেম নুর জাহান চৌধুরী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ প্রাঙ্গনে অনুষ্টিত হবে।

সম্মেলনকে ঘিরে নেতাকর্মীদের উৎসবের আমেজ পরিলক্ষিত হয়েছে। বিএনপি’র গঠনতন্ত্রে উল্লেখ রয়েছে এক নেতা এক পদে থাকতে পারবে। তবে এক্ষেত্রে উখিয়ায় মানা হচ্ছে না দলীয় সিদ্ধান্ত। সম্ভাব্য প্রার্থীরা ভোর থেকে রাত অবধি নেতাকর্মীদের সাথে মতবিনিময়, গণসংযোগ, ত্যাগী নেতাদের দুঃখের কথা শুনছেন।

সভাপতি পদে ৩জন ও সাধারণ সম্পাদক পদে ২ জনের নাম শুনা যাচ্ছে। সভাপতি পদে প্রার্থীরা হলেন, উপজেলা যুবদলের আহবায়ক ও উপজেলা বিএনপি’র যুববিষয়ক সম্পাদক এম গফুর উদ্দিন, উখিয়া উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ও উপজেলা বিএনপির ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক আহাসান উল্লাহ, উপজেলা ছাত্রদলের নেতা আপেল সিরাজী।

সাধারণ সম্পাদক পদে উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব সাইফুল সিকদার ও জালিয়া পালং ইউনিয়ন যুবদলের নেতা রফিকুল হুদা।

রাজাপালং ইউনিয়নের পূর্ব ডিগলিয়া গ্রামের বাসিন্দা ও যুবদল কর্মী মোঃ ফরিদুল আলম বলেন, শীর্ষ নেতারা যাকে যোগ্য মনে করবেন তারা দলের সভাপতি ও সাধারন সম্পাদক নির্বাচিত হবেন। দলের এখন দুঃসময়। সবাইকে ঐক্য বদ্ধ হতে হবে।

ত্যাগী নেতারা বলেন, গণতান্ত্রিক পন্থায় নেতা নির্বাচন করতে হবে। না হলে দলে ভাংগন হতে পারে। দলকে রক্ষা করতে হলে একাজ করতে হবে।

উখিয়া উপজেলা যুবদলের আহবায়ক ও সভাপতি প্রার্র্থী এম গফুর উদ্দিন বলেন, আহবায়ক কমিটির নেতৃত্বে উপজেলার ৫টি ইউনিয়ন ও ৩টি সাংগঠনিক ইউনিয়নসহ মোট ৮টি সাংগঠনিক ইউনিয়নে সফল ভাবে সম্মেলন সমাপ্ত করতে পেরেছি। সাড়ে ৪ মাসের মাথায় সম্মেলন দিতে পারায় নিজেকে গর্বিত মনে করছি। দলীয় নেতাকর্মীদের চাপে প্রার্থী হয়েছি।

উখিয়া উপজেলা ছাত্র দলের সাবেক সভাপতি ও কারা নির্যাতিত আহসান উল্লাহ বলেন, দীর্ঘদিন ধরে রাজ পথে থেকেছি। সরকারী দলের মিথ্যা মামলায় অনেক দিনে কারাগারে থাকতে হয়েছিল। বৃহত্তর রাজাপালং ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের জাতীয়তাবাদী শক্তিকে সংগঠিত করতে আমার পরিবারের অনেক পরিশ্রম করতে হয়েছে।

কক্সবাজার জেলা বিএনপি’র সিনিয়র সহ-সভাপতি সিরাজুল হক বিএ’র কনিষ্ট ছেলে আপেল সিরাজী বলেন, নেতাকর্মীদের সু-সংগঠিত করতে প্রার্থী হয়েছি। উখিয়ার মাঠি বিএনপি’র ঘাটি। আগামী দিনের কঠিন আন্দোলন, সংগ্রাম মোকাবেলা করতে যুবদলের নেতাকর্মীদের প্রস্তুত থাকতে হবে। নেতাকর্মীরা আরো বলেন কোন মাদক ব্যবসায়ী, চোরাচালান, ইয়াবা ব্যবসায়ী ও মানবপাচারাকারী হিসেবে নাম রয়েছে এমন কাউকে দলীয় কোন পদে না রাখতে অনুরোধ জানিয়েছেন। এছাড়ও দলে সুবিধা ভোগীদের স্থান না হয় সে ব্যাপারেও খেয়াল রাখতে হবে।

উখিয়া উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব ও সাধারল সম্পাদাক প্রার্থী সাইফুল ইসলাম সিকদার বলেন, দলের সাথে কোন দিন বেয়মানি করিনি। দলীয় সকল কর্মসূচী পালন করেছি। তাই সকল নেতাকর্মী ও কাউন্সিলারদের যোগ্য নেতা নির্বাচন করার দাবী জানান।