নাইক্ষ্যংছড়ির ইউএনওর ঘুমধুমে পাহাড় কাটার ঘটনাস্থল পরিদর্শনঃ পাহাড় কাটা বন্ধের নির্দেশ

unnamed-8.jpg

শ.ম.গফুরঃউখিয়া,কক্সবাজার :

উখিয়ার পার্শ্ববর্তী নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুমে অবৈধভাবে কর্তন করা পাহাড়ের ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার নিবার্হী কর্মকর্তা এস এম সরওয়ার কামাল।
তিনি মংগলবার (১৭ জানুয়ারী) দুপুর ১টায় ঘুমধুমের পাহাড় ধ্বসে প্রানহানীর ঘটনাস্থল ও পাহাড় কাটার অংশ সরেজমিন পরিদর্শন করেন।পাহাড় কাটা অংশে শ্রমিকের অকাল
মৃত্যুর ঘটনায় জড়িত পাহাড় মালিক ও অবৈধ বালু খেকোদের বিষয়ে সতর্ক করে পাহাড় কাটা বন্ধের নির্দেশ
দেন। পুনরায় পাহাড় কাটলে তাৎক্ষণিক ঘুমধুম পুলিশ ও স্থানীয় ঘুমধুম ইউনিয়ন পরিষদের জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে খোঁজখবর রাখার ও জানাতে বলা হয়।পুনরায় পাহাড় কাটলে তাৎক্ষণিক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয় পুলিশ প্রশাসনকে। এসময় ঘুমধুম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান একেএম জাহাঙ্গীর আজিজ,ঘুমধুম তদন্ত কেন্দ্র পুলিশের উপ -পরিদর্শক (এসআই) আমিনুর রহমান,স্থানীয় মেম্বার আবদুল করিম,শ্রমিক নেতা ঝুলন্ত কান্তি দে ,সাবেক শিক্ষক সাজেদ উল্লাহ ,আওয়ামীলীগ নেতা আবদুস শুককুর, যুবনেতা মকসুদ শিকদার,সাংবাদিক শ.ম.গফুর,সহ উপজেলা প্রশাসনের পদস্থ কর্মকর্তা গন উপস্থিত ছিলেন। স্থানীয় পরিবেশবাদী জনতার অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরে সরকার দলের কতিপয় নেতাদের নেতৃত্বে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট প্রশাসনের রহসজনক ভুমিকায় যত্রতত্র পাহাড় কেটে বালু বাণিজ্য করে আসছিল। বালু বাণিজ্যের উপার্জিত টাকার অংশ প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তর,নেতা, দালাল -ফড়িঁয়াদের- বন্টন করে বালু বাণিজ্য চালাতে থাকে। ঝুকিপূর্ন এসব পাহাড়ে মাটি কাটায় নিয়োজিত ২ শ্রমিকের পাহাড় ধবসে মৃত্যু হয়েছে। ১ শ্রমিক ও ১ মিনি ট্রাক চালক চির পঙ্গুত্বের শিকার হয়েছে। নিহত শ্রমিক জয়নাল পাহাড় ধ্বসে গুরুতর জখমী হয়ে টানা ৬দিন চিকিৎসাধীন থাকাবস্থায় চট্রগ্রাম মেডিকেলে অকাল মৃত্যুর শিকার হয়। কিন্তু প্রশাসনের রহস্যজনক নিরবতায় আইনানুগ কোন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। গত ১২ জানুয়ারী সন্ধ্যা সাড়ে ৫ টায় ঘুমধুম নোয়া পাড়ার জনৈক বদি খলিফা, আলম ও পরান আহমদের ত্রিমুখী ভিটি পাহাড় কর্তনকালে শ্রমিক খাইরুল বশর পাহাড় ধ্বসে মারা যায়। এঘটনায় অভিযুক্ত হিসেবে পাহাড় কাটা ও শ্রমিক মৃত্যুর ঘটনায় পৃথক ২ টি মামলা দায়ের করেছে ঘুমধুম তদন্ত কেন্দ্র পুলিশের দারোগা রুপনগর বড়ুয়া বাদী হয়ে। উক্ত মামলার নিযুক্ত তদন্ত কর্মকর্তা এস আই এরশাদ উল্লাহ জানান,ঘটনায় জড়িতদের বিষয়ে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। স্থানীয় সুশীল সমাজ নেতাদের অভিযোগ জনৈক গিয়াস উদ্দীন মামুনের পাহাড় থেকে বালু বহন করা গাড়ী ঘুমধুম নোয়া পাড়ার পুরাতন কবরস্থানের পার্শস্থ চলাচল করায় পবিত্রতার বিষয় বিবেচনায় বারণ করে। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে বালু সিন্ডিকেটের সদস্য জনৈক আলমের ছেলে ইউসুপ কবরস্থান খুড়ে নিয়ে যাওয়ার হুংকার ছুড়ে। স্থানীয় জনগণের দাবী ,ঘুমধুমে কবে নাগাদ পাহাড় কাটা বন্ধ হবে?। পাহাড় খেকোরা কি আইনের উর্ধেব। আর কত প্রান ঝরলে ঘুমধুমে পাহাড় কাটা বন্ধ হবে?। তাই ঘুমধুমে যত্রতত্র পাহাড় কাটা বন্ধে বান্দরবানের পার্বত্য চট্রগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী বাবু বীর বাহাদুর উশৈচিং এমপি,বান্দরবান জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, জেলা প্রশাসক ,পুলিশ সুপার বান্দরবান, নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, সুশীল রাজনৈতিক নেতৃত্ব, সকল ইউপির চেয়ারম্যান ও পরিবেশবাদী জনতার জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়।