উখিয়ায় ১০টি ব্রীজের কাজে ব্যাপক অনিয়ম

Pic-Ukhiya-14-01-2017.jpg

মুহাম্মদ হানিফ আজাদ, উখিয়া :
উখিয়ায় ১৫-১৬ অর্থ বছরের দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের অর্থায়নে ২ কোটি ৯১ লক্ষ ১৫ হাজার ৮শ ৩৫ টাকার ১০টি ব্রীজ কালভার্টে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ তুলেছে স্থানীয়রা। জানা গেছে, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার খামখেয়ালীপনায় ব্রীজের এ দূরবস্থার সৃষ্টি হয়েছে বলে জানা গেছে।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস সূত্রে জানা যায়, দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের অর্থায়নে ৫টি ইউনিয়নে ১০টি ব্রীজের নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। তাও অনিয়মের মাধ্যমে। জানা গেছে, রাজাপালং ইউনিয়নের খয়রাতি পাড়া মালিয়ারকুল সাইক্লোন সেন্টার সংলগ্ন দোছরী খালের উপর ব্রীজ নির্মাণ দৈর্ঘ্য ৪০ ফুট ৩২ লাখ ৫২ হাজার ৬৫৩ টাকা। হলদিয়াপালং ইউনিয়নে দক্ষিণ বড়বিল তচ্ছাখালী খালের উপর ব্রীজ নির্মাণ ৪০ ফুট ৩২ লাখ ৫২ হাজার ৬৫৩ টাকা। পালংখালী ইউনিয়নের তেলখোলা মাষ্টারের বাড়ির পার্শ্বের খালের উপর ব্রীজ নির্মাণ ৪০ ফুট ৩২ লাখ ৫২ হাজার ৬৫৩ টাকা। রতœাপালং ইউনিয়নের উত্তর গয়ালমারা জামবুনিয়া ছড়ার উপর ব্রীজ নির্মাণ ৪০ ফুট ৩২ লাখ ৫২ হাজার ৬৫৩ টাকা। রাজাপালং ইউনিয়নের তুতুরবিল মশারফ আলী ঘোনার সংযোগ সড়কে তুতরী ছড়ার উপর ব্রীজ নির্মাণ ৩৪ ফুট ২৭ লাখ ৯৪ হাজার ২৫৬ টাকা। পালংখালী ইউনিয়নের তেলখোলা প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন খালের উপর ব্রীজ নির্মাণ ৩৪ ফুট ২৭ লাখ ৯৪ হাজার ২৫৬ টাকা। জালিয়াপালং ইউনিয়নের পাইন্যাশিয়া তুতুর বিল সংযোগ সড়কে খালের উপর ব্রিজ নির্মাণ ৪০ ফুট ৩২ লাখ ৫২ হাজার ৬৫৩ টাকা। জালিয়াপালং ইউনিয়নের দক্ষিণ জুম্মা পাড়া শিশু নিকতন স্কুল সংলগ্ন ছড়ার উপর ব্রিজ নির্মাণ ৩৪ ফুট ২৭ লাখ ৯৪ হাজার ২৫৬ টাকা। জালিয়াপালং ইউনিয়নের নুরুল আলমের বাড়ি সংলগ্ন ছড়ার উপর ব্রিজ নির্মাণ ২০ ফুট ১৬ লাখ ৭৫ হাজার ৫৪৬ টাকা। হলদিয়াপালং ইউনিয়নের দক্ষিণ বড় বিল কোনার পাড়া ছড়ার উপর ব্রীজ নির্মাণ ৩৩ ফুট ২৭ লাখ ৯৪ হাজার ২৫৬ টাকা ব্যয় বরাদ্ধে ১০টি ব্রীজের কাজ সম্পন্ন হয়েছে ব্যাপক অনিয়মের মাধ্যমে। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ছয়তারা কনষ্টাকশনের স্বত্বাধিকারী কবির আহমদ জানান, এ কাজ অনেকদিন আগেই শেষ হয়েছে। কোন অনিয়ম হয়নি। উখিয়া উপজেলার আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ও রাজাপালং ইউপি চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর কবির চৌধুরী বলেন, মোটামুটি ব্রীজ গুলোর কাজ সম্পন্ন হয়েছে বলে জেনেছি। রতœাপালং ইউপি চেয়ারম্যান খাইরুল আলম জানান, আমার সময়ে এ ব্রীজের কাজ না হওয়ায় আমি বিস্তারিত কিছু বলতে পারবনা। পালংখালী ইউপি চেয়ারম্যান এম. গফুর উদ্দিন চৌধুরী জানান, ঠিকাদাররা ইচ্ছামাফিক কাজ করেছে। তাই অনিয়ম হলেও বলার কিছু নেই। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আহসান উল্লাহ জানান, ইতিমধ্যে ১০টি ব্রিজের কাজ সম্পন্ন হয়েছে তদারকির মাধ্যমে। কোন ব্রিজের কাজে অনিয়ম হয়েছে বলে জানা নেই। ১০টি ব্রিজের মধ্যে তেলখোলা মাষ্টারের বাড়ির পার্শ্বের খালের উপর ব্রীজ নির্মাণ ৪০ ফুট ৩২ লাখ ৫২ হাজার ৬৫৩ টাকায় ঠিকাদার আবুল কালাম ব্যাপক অনিয়ম করেছে বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন। কিন্তু ঠিকাদার এ কথা অস্বীকার করেছে। নুরুল আলমের বাড়ি সংলগ্ন ছড়ার উপর ব্রীজ নির্মাণ ২০ ফুট ১৬ লাখ ৭৫ হাজার ৫৪৬ টাকার ব্যয় কাজে ঠিকাদার অনিয়মের আশ্রয় নিয়ে কাজ সম্পন্ন করেছে। তবে ঠিকাদার নুরুল আবছার এ কথা অস্বীকার করেছেন।