শাহপরীর দ্বীপ বেড়িবাঁধ প্রকল্প সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে বাস্তবায়নের দাবিতে মানববন্ধন

67.jpg

জাকারিয়া আলফাজ, টেকনাফ |
টেকনাফ শাহপরীর দ্বীপ বেড়িবাঁধ নির্মাণে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি একনেক অনুমোদিত ১০৬ কোটি টাকার প্রকল্পটি সুষ্ঠু ও টেকসই নির্মানের নিমিত্তে সেনাবাহিনী অথবা নৌবাহিনীর তত্ত্বাবধানে বাস্তবায়নের দাবিতে হাজার হাজার নারী পুরুষের অংশগ্রহণে এক মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়। শুক্রবার জুমার নামাজের পর শাহপরীর দ্বীপ তিন রাস্তার মাথা বাজারে কক্সবাজার জেলা আওয়ামীলীগ সদস্য ও শাহপরীর দ্বীপ সাংগঠনিক ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ সভাপতি আলহাজ্ব সোনা আলীর নেতৃত্বে এ মানববন্ধন আহবান করা হয়। সেনা তত্ত্বাবধানে বেড়িবাঁধ নির্মাণের দাবিতে এ মানববন্ধনে হাজার হাজার নারী,পুরুষ,বিভিন্ন স্কুল মাদ্রাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থী,মসজিদের ইমাম, ব্যবসায়ী সমাজ সহ সর্বস্তরের জনতা স্বতস্ফূর্তভাবে অংশ নেয়। মানববন্ধনে উপস্থিত হাজারো জনতা অভিন্ন সুরে শাহপরীর দ্বীপ বেড়িবাঁধ নির্মাণে ১০৬ কোটি টাকার প্রকল্পটি সেনা তত্ত্বাবধানে নির্মাণের দাবি জানান। উক্ত মানববন্ধন পূর্ব সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে আওয়ামীলীগ নেতা সোনা আলী বলেন,“ আমরা শাহপরীর দ্বীপ বাসী বেড়িবাঁধ বিলীন হয়ে যাওয়ার কারণে দীর্ঘ ৫ বছর কষ্ট ভোগের পর মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বেড়িবাঁধ নির্মাণের জন্য ১০৬ কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদন দেয়। প্রকল্পটি দুর্নীতিমুক্ত ও টেকসই বাস্তবায়নের স্বার্থে দুর্নীতিবাজ ঠিকাদারের হাতে না দিয়ে সেনাবাহিনী অথবা নৌবাহিনীর তত্ত্বাবধানে বাস্তবায়ন চাই। তিনি আরো বলেন, পূর্বে বাঁধ সংস্কারের জন্য সরকার কয়েক দফায় কোটি টাকার বরাদ্দ দিলেও দুর্নীতিবাজ ঠিকাদার কোন কাজ না করে উধাও হয়ে যায়। তাই আমরা দ্বীপবাসীর প্রাণে দাবি বেড়িবাঁধ সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে চাই।”
শাহপরীর দ্বীপ রক্ষা ও উন্নয়ন পরিষদের সভাপতি মাস্টার জাহেদ হোসেন বলেন, বেড়িবাঁধ ভাঙনের ফলে শাহপরীর দ্বীপে প্রায় ২ হাজার একর জমিতে লবণ উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়, লবণাক্ততার কারণে কৃষি উৎপাদন ব্যহত হয়। বেড়িবাঁধ নির্মাণে একনেক ১০৬ কোটি টাকার যে বরাদ্দ দিয়েছে তা সেনাবাহিনী অথবা নৌবাহিনীর তত্ত্বাবধানে বাস্তবায়নের দাবি জানাচ্ছি।
শাহপরীর দ্বীপের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও শাহপরীর দ্বীপ রক্ষা ও উন্নয়ন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক এমএ হাশেম বলেন, শাহপরীর দ্বীপ বেড়িবাঁধ ভাঙ্গনে যোগাযোগের প্রধান সড়ক বিলীন হয়ে যাওয়ায় বৃদ্ধ,নারী ও গর্ভবতী মহিলাদের চিকিৎসা যাতায়তে চরম দূর্ভোগ পোহাতে হয়, এছাড়া সাধারণ মানুষের যাতায়তে চরম দূর্ভোগ পোহাতে হয়। টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণে সরকার যে প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে তা সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে হলেই কেবল সুষ্ঠু ও টেকসই হবে বলে মনে করি।
শাহপরীর দ্বীপ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কলিম উল্লাহ বলেন, বেড়িবাঁধ নির্মাণে ১০৬ কোটি টাকার প্রকল্পটি দ্বীপবাসীর জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উপহার। তাই প্রকল্পটি শতভাগ সুষ্ঠু ও টেকসই ভাবে বাস্তবায়ন করতে সেনাবাহিনীর বিকল্প নেই।
কলেজ ছাত্র আব্দুল বাসেদ বলেন, পূর্বে নির্মাণে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের দুর্নীতির খেসারত দিতে হয়েছে দ্বীপবাসীকে। তাই এবার দ্বীপবাসীর পক্ষে জোর দাবি জানাচ্ছি, ১০৬ কোটি টাকার বেড়িবাঁধ প্রকল্প যেন সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে বাস্তবায়ন করা হয়।
মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন কক্সবাজার জেলা আওয়ামীলীগ সদস্য ও শাহপরীর দ্বীপ সাংগঠনিক ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ সভাপতি আলহাজ¦ সোনা আলী, শাহপরীর দ্বীপ রক্ষা ও উন্নয়ন পরিষদের সভাপতি মাস্টার জাহেদ হোসেন, শাহপরীর দ্বীপ রক্ষা ও উন্নয়ন পরিষদ সাধারণ সম্পাদক এমএ হাশেম সিআইপি, সাবেক ইউপি সদস্য মোহাম্মদ ইসমাইল, সাবেক ইউপি সদস্য সনজিদা বেগম,শাহপরীর দ্বীপ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কলিম উল্লাহ, হাজী বশির আহমদ উচ্চ বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক ফরিদুল আলম, জসিম উদ্দীন, ডাংগর পাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ফয়েজ উল্লাহ, শাহপরীর দ্বীপ ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ সহ সভাপতি মনির উল্লাহ, জাহেদ হোসেন, ব্যবসায়ী হাফেজ মোঃ আরমান,মোঃ হাসান, মোঃ আলম, টেকনাফ উপজেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুল বাসেদ, আওয়ামীলীগ নেতা ডাঃ মোঃ শফি, সিরাজুল ইসলাম,ডাঃ গিয়াস উদ্দীন, শাহপরীর দ্বীপ জামে মসজিদের ইমাম রশিদ উল্লাহ, ব্যবসায়ী মোস্তফা কামাল, মোঃ জুবাইর, জামাল হোসেন,মোঃ ফয়সাল প্রমূখ।
55667
উল্লেখ্য, গত ২০১২ সালে শাহপরীর দ্বীপ পশ্চিমের বেড়িবাঁধ বিলীন হয়ে গেলে প্রবল জোয়ারে প্রায় ৭ শতাধিক বসত বাড়ি উদ্ধাস্তু হয়ে যায়, প্রায় ২ হাজার একর জমিতে লবন উৎপাদন বন্ধ হয়ে পড়ে এবং হাজারো একর ফসলী জমি লবণাক্ততায় কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হয়। এছাড়া যোগাযোগের প্রধান সড়কটি বিলীন হয়ে যাওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থায় নাজুক অবস্থা সৃষ্টি হয়, পানি বন্দী হয়ে পড়ে পুরো শাহপরীর দ্বীপাবাসী। দ্বীপের অর্ধলক্ষ মানুষের প্রাণের দাবি বেড়িবাঁধ নির্মাণে ২০১৬ সালের ১৬ আগস্ট একনেকের সভায় ১০৬ কোটি টাকার একটি প্রকল্প অনুমোদন দেয়া হয়। প্রকল্পটি গত ৩১ ডিসেম্বর চূড়ান্ত অনুমোদনের পর বর্তমানে ঠিকাদার নিয়োগ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। দ্বীপবাসীর শঙ্কা, কোন দুর্নীতিবাজ ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান বেড়িবাঁধ নির্মাণ প্রকল্পের কাজ পেলে তাদের স্বপ্নের বেড়িবাঁধ নির্মাণ কাজ সুষ্ঠু ও টেকসই হবেনা। তাই দ্বীপবাসীর একটাই দাবি, বেড়িবাঁধ হোক সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে টেকসই বেড়িবাঁধ।

67889