ঘুমধুমে পাহাড় ধ্বসে নিহতের ঘটনায় পৃথক দুটি মামলার প্রক্রিয়া

.jpg

ক্যাপশনঃ পাহাড় ধ্বসে আটকা পড়া গাড়ী ও নিহত শ্রমিক খাইরুল বশর।

শ.ম.গফুর,উখিয়া :

উখিয়ার পার্শ্ববর্তী নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুমে পাহাড় ধ্বসে
মাটি কাটার এক শ্রমিকের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় শোকাবহ পরিবেশ বিরাজ করছে। নিহত খাইরুল বশরের মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য বান্দরবান সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়ে ঘুমধুম তদন্ত কেন্দ্র পুলিশ।পাহাড় ধ্বসে পতিত ডাম্পার গাড়ীখানা যার নাম্বার চট্র-মেট্রো -ড ১১-১৮৮৮ পুলিশ জব্দ করেছে। অবৈধ উপায়ে মাটি কেটে পরিবেশ দুষণ, শ্রমিক নিহতের ঘটনায় পৃথক দুটি মামলা দায়ের করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানান, ঘুমধুম তদন্ত কেন্দ্র পুলিশের ইনচার্জ এরশাদ উল্লাহ।পাহাড় কেটে মাটি বাণিজ্য পরিবেশ দুষণ ও শ্রমিক নিহতের ঘটনায় স্থানীয় ঘুমধুম ইউনিয়ন পরিষদ প্যানেল চেয়ারম্যান কামাল উদ্দিন, তার জামাতা শাহাবুদ্দিন ,বদি খলিফা ও ভাইসহ এজাহারভুক্ত আসামি হচ্ছেন বলে পুলিশ জানান।প্রসঙ্গতঃগত ঘুমধুমের নোয়াপাড়ায় পাহাড় থেকে মাটি কর্তন কালে পাহাড় ধবসে সোনা আলীর পুত্র খাইরুল বশর ঘটনাস্থলে প্রান হারান।১২ জানুয়ারি সন্ধ্যা সাড়ে ৫টায় মর্মান্তিক এ বিয়োগান্তুক ঘটনা ঘটেছে বলে পুলিশ স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান।নিহত খাইরুল আমিন প্রতিদিনের মত বাংলাদেশ – মিয়ানমার মৈত্রী সড়ক নির্মাণ কাজের বালু
সরবরাহ কাজের শ্রমিক হিসেবে ডাম্পার ট্রাকে করে নোয়া পাড়ায় জনৈক মৃত মীর কাসেম,পরান আহমদ ও আলমের পাহাড়ে মাটি কাটতে যায়। অসাবধানতাবশত পাহাড়ের উপরিভাগের মাটি আকস্মিক ধ্বসে মাটি কাটারত শ্রমিক ও ট্রাকের উপর ভেংগে পড়ে। এতে ট্রাক চালক এবং শ্রমিকদের মধ্যে খাইরুল আমিন মাটি চাপা পড়ে। প্রত্যক্ষদর্শী লোকজন ট্রাক চালক ও শ্রমিক খাইরুল আমিন কে অজ্ঞান অবস্থায় উদ্ধার করে। তৎমধ্যে খাইরুল আমিন ততক্ষণে নিথর হয়ে যায়। চালক উখিয়ার রাজাপালং ইউনিয়নের সুবধন বড়ুয়ার পুত্র সমীরণ বড়ুয়া (৩৫) গুরুতর আহত হয়। বর্তমানে চালক
আশংকাজনক অবস্থায় কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে জানা গেছে।
ঘুমধুম ইউপির চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আজিজ জানান, মাটি চাপা পড়ে এক শ্রমিক মারা গেছে। আইনী প্রক্রিয়ায় প্রশাসন যে ব্যবস্থা নেয় তা পরিবারের ব্যাপার। নিহতের পরিবার খুবই দরিদ্র। ঘুমধুম তদন্ত কেন্দ্র পুলিশের ইনচার্জ এরশাদ উল্লাহ জানান,পুলিশ সব সময় ফরিয়াদীর পক্ষে থাকবে। ঘটনায় জড়িতরা কেউ পার পাবেনা। নিরীহ কেউ হয়রানির শিকারও হবেনা। আমরা নিরপেক্ষ আছি। নিহত খাইরুল আমিনের ময়না তদন্ত শেষে বান্দরবান থেকে ঘুমধুমে পৌছার পথে রয়েছে।
এদিকে খাইরুল আমিনের অকাল মৃতুত্যে ঘুমধুমে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পরিবারে চলছে শোকের মাতম। এসংবাদ লেখাকালিন সময় পযর্ন্ত
পুলিশ, সেনাবাহিনী ও এলাকাবাসীর উদ্ধার তৎপরতা চলছে।