‘ইসি গঠনে রাষ্ট্রপতির সিদ্ধান্তে সবাই আস্থা রাখবেন’

pm-jugantor_36535_1484235543.jpg

জাতির উদ্দেশে দেয়া ভাষণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, রাষ্ট্রপতি নতুন নির্বাচন কমিশন গঠনের উদ্যোগ নিয়েছেন। আমরা আশা করি, সকল রাজনৈতিক দল রাষ্ট্রপতির উদ্যোগে গঠিত নির্বাচন কমিশনের উপর আস্থা রাখবেন। সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচনে অংশ নিবেন এবং দেশে গণতান্ত্রিক ধারাকে সমুন্নত রাখতে সহায়তা করবেন।

বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৭টায় জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেন প্রধানমন্ত্রী।

দ্বিতীয় মেয়াদে আওয়ামী লীগ সরকারের তিন বছর পূর্তি উপলক্ষে জাতির উদ্দেশে এই ভাষণ দেন তিনি।

এসময় প্রধানমন্ত্রী গত ও আগামী নির্বাচন, সরকারের উন্নয়ন, জঙ্গিবাদ, বিএনপির সন্ত্রাসসহ নানা বিষয়ে কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী টানা ৮ বছর জনগণের সেবা করার সুযোগ দেয়ায় গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং তার সরকারের সাফল্যের চিত্র তুলে ধরে এর বিচারের ভার জনগণের উপর তুলে দেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আপনাদের প্রত্যাশা কতটুকু পুরণ করতে পেরেছি- সে বিচারের ভার আপনাদের উপরই রইল। তবে আমি এটুকু দৃঢ়ভাবে বলতে পারি, দেশের এবং দেশের মানুষের উন্নয়ন এবং কল্যাণের জন্য আমরা আমাদের চেষ্টার ত্রুটি করিনি। আমাদের মনে রাখতে হবে, বিপুল জনসংখ্যার এদেশে সম্পদের পরিমাণ সীমিত। দীর্ঘকাল দেশে কোনো আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন হয়নি। বহু সমস্যা পুঞ্জিভূত হয়ে পাহাড়-সমান হয়ে দাঁড়িয়েছিল। মোকাবিলা করতে হয়েছে অভ্যন্তরীণ বিরুদ্ধ পরিবেশ। বৈশ্বিক বৈরি অর্থনৈতিক অবস্থাও উন্নয়নের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে বার বার। কিন্তু সব বাধা-বিপত্তি অতিক্রম করে বাংলাদেশ আজ উন্নয়নের মহাসড়কে। বাংলাদেশ আজ উন্নয়নের সার্বজনীন মডেল। দ্রুত সময়ের মধ্যে দারিদ্র্য হ্রাসে বাংলাদেশের সাফল্যকে বিশ্বব্যাংক মডেল হিসেবে বিশ্বব্যাপী উপস্থাপন করছে। আট বছর আগের বাংলাদেশ আর আজকের বাংলাদেশ এক নয়। আজকের বাংলাদেশ আত্মপ্রত্যয়ী বাংলাদেশ।

সরকার ৬০ বিলিয়ন ডলারের রফতানী আয়ের লক্ষ্যমাত্র নির্ধারণ করে কাজ করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অগ্রগতির সূচকে বিশ্বের শীর্ষ ৫ দেশের একটি। আমরা ধারাবাহিকভাবে ৬.৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি ধরে রেখে পুরো বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিয়েছি। অর্থনৈতিকসহ বিভিন্ন সামাজিক সূচকে বিভিন্ন দেশকে পেছনে ফেলে এগিয়ে গেছি। দারিদ্র্যের হার ৪১.০৫ থেকে হ্রাস পেয়ে ২২.০৪ শতাংশ হয়েছে। অতিদারিদ্রের হার ২৪.২৩ শাতাংশ থেকে ১২.০০ শতাংশে এসে দাড়িয়েঁছে। বাংলাদেশের অর্থনীতি আজ শক্ত ভিত্তির উপর প্রতিষ্ঠিত। বিগত ৮ বছরে দেশ-বিদেশে প্রায় দেড় কোটি মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে। গত বছরে ৭ লাখ ৫৭ হাজার মানুষ বিদেশে গেছেন। মানুষের জীবন মানের উন্নয়ন হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের ৮০ শতাংশ মানুষ বিদ্যুতের আওতায় এসেছে। ২১ সালের মধ্যে সবার ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে দিতে চাই। সেজন্য বড় বড় কয়েকটি বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করা হয়েছে। আপনাদের আশ্বস্থ করতে চাই, কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা হবে।

শেখ হাসিনা বলেন, দেশ যখন এগিয়ে যাচ্ছে, তখন একটি গোষ্ঠী ইসলামের নামে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে দেশে অরাজক পরিস্থিতি তৈরি করার অপচেষ্টা করছে। ইসলাম শান্তির ধর্ম। ইসলাম ধর্মের নামে যারা মানুষ হত্যা করে তারা ইসলামের বন্ধু নয়, শত্রু। ইসলাম কখনও মানুষ হত্যা সমর্থন করে না। যারা এই ধর্মীয় সম্প্রীতি নষ্ট করতে চায়, তাদের ঠাঁই বাংলার মাটিতে হবে না।

এসময় তিনি সবাইকে জঙ্গি তৎপরতার বিরুদ্ধে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান।

বিএনপির সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০১৪ সালের ৫ই জানুয়ারি দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে আমরা জাতীয় সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী সকলদলের অংশগ্রহণে নির্বাচনকালীন একটি জাতীয় সরকার গঠনের প্রস্তাব দিয়েছিলাম। কিন্তু বিএনপি নেতৃত্ব সে আহ্বানে সাড়া দেয়নি বরং উনি সন্ত্রাসী বাহিনী লেলিয়ে দিয়ে সারাদেশে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করলেন। পেট্রোল বোমা, অগ্নিসংযোগ ও বোমা হামলা করে মানুষ হত্যায় মেতে উঠলেন।

তিনি বলেন, দেশবাসী তাদের এ সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড প্রত্যাখ্যান করেছেন। জনগণ এ ধরণের কর্মকাণ্ডের পুনরাবৃত্তি দেখতে চান না।

এসময় আগামী নির্বাচন নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের নির্দিষ্ট মেয়াদ শেষে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। আমরা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করি। জনগণের প্রতি আমাদের পূর্ণ আস্থা আছে।