রোহিঙ্গা ইস্যুতে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সুচির দূতের বৈঠক বিকালে

Rohingha-pic_lada-taal_29.11.jpg

টেকনাফ টুডে ডেস্ক |
রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে আজ বিকালে বৈঠক করবেন মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সিলর ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী অং সান সুচির বিশেষ দূত খিউ তিন।

এলক্ষ্যে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ঢাকায় পৌঁছেছেন তিনি। মঙ্গলবার ঢাকায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে এসব তথ্য।

জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের আগে বুধবার সকালে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী ও পররাষ্ট্র সচিব শহিদুল হকের সঙ্গে বৈঠক করবেন এ বিশেষ দূত।

খিউ তিন মিয়ানমারের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী যাকে বিশেষ দূত হিসেবে ঢাকায় পাঠিয়েছেন সুচি।

সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াবিষয়ক অনুবিভাগের মহাপরিচালক মঞ্জুরুর করিম খান চৌধুরী তাকে স্বাগত জানান।

এর আগে পররাষ্ট্র সচিব শহিদুল হককে বিশেষ দূত হিসেবে মিয়ানমার পাঠিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

শহিদুল হক তখন মিয়ানমারের প্রশাসনিক রাজধানী নেপিতোতে সুচির সঙ্গে বৈঠক করেন।

পরে রোহিঙ্গা সংকট তীব্র আকার ধারণ করলে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক উন্নয়নের ব্যাপারে ঢাকার প্রচেষ্টা ভেস্তে যায়।

গত বছরের ৯ অক্টোবর সীমান্ত চৌকিতে সন্ত্রাসী হামলায় মিয়ানমারের ৯ জন ‘বর্ডার গার্ড পুলিশ’ (বিজিপি) সদস্য নিহত হওয়ার জের ধরে দেশটির সেনাবাহিনী রোহিঙ্গা অধ্যুষিত রাখাইন রাজ্যে অভিযান শুরু করে।

এতে নির্বিচারে রোহিঙ্গা হত্যা, বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগ ও রোহিঙ্গা নারীদের ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে।

এই সেনা অভিযান শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ৫০ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করেছে।
এ ছাড়া আগে বিভিন্ন সময়ে প্রায় তিন লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করেছে।

রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে দু’দেশের মধ্যে সম্পর্কে টানাপোড়েনে সৃষ্টি হয়েছে। পররাষ্ট্র সচিব পর্যায়ের বৈঠকসহ দু’দেশের মধ্যে একাধিক বৈঠক স্থগিত করেছে বাংলাদেশ।

বর্তমান পরিস্থিতিতে মিয়ানমারের ক্ষমতাসীন দলের নেত্রী নোবেল বিজয়ী অং সান সুচির ওপর আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক পর্যায়ে চাপ বেড়েছে।

এরই মধ্যে ইন্দোনেশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী মারসুদা ইয়াঙ্গুনে সুচির সঙ্গে বৈঠক করার সময় মিয়ানমারের নেত্রী ঢাকায় বিশেষ দূত পাঠানোর প্রস্তাব করেন।

ইন্দোনেশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ বার্তা নিয়ে ঢাকায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে বৈঠক করেন। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে সুচির বিশেষ দূত পাঠানোর প্রস্তাবকে স্বাগত জানানো হয়।