রোহিঙ্গারা আসছে বাড়ছে আতংক : এবার বুচিদংয়ে চলছে চরম নির্যাতন

Rohingha_botidong.jpg

বর্মী বাহিনীর নির্যাতনের শিকার বুচিডংয়ের দুই ভাই

মুহাম্মদ হানিফ আজাদ, উখিয়া |
২শ ৬০ গ্রাম নিয়ে গঠিত বুচিদং ও মংডু শহর। মিয়ানমারের বর্মী সেনারা সন্ত্রাসী দমনের নামে গত ৯ অক্টোবর থেকে রোহিঙ্গাদের উপর শুরু করেছে চরম নির্যাতন ও নিপিড়ন, ধর্ষন। ইজ্জত বাঁচাতে বেশির ভাগ পুরুষের চাইতে মহিলারা শিশু সন্তান নিয়ে এদেশে ফাঁড়ি জমিয়ে কুতুপালং ও নয়াপাড়া আশপাশে রোহিঙ্গা বস্তিতে আশ্রয় নিয়েছে। জাতিসংঘের তথ্য মতে গত ৪ মাসে ৬৫ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে চলে এসেছে। ৯ অক্টোবর মংডু শহরের উত্তরে বর্মী সেনারা ঘর বাড়িতে আগুন দিয়ে মা বোনের ইজ্জন লুন্টন করে চলছে। এবার রোহিঙ্গাদের উপর আরো বরবরোচিত হামলা অত্যাচার নির্যাতন, গণ গ্রেফতার, লুটপাট চলছে। বুচিদং এর জেডি গ্রাম থেকে গতকাল বুধবার মোহাম্মদ কাসিম এ তথ্য জানিয়েছে। জানা গেছে, মংডুর উত্তরে ২২ গ্রাম ধ্বংস করার পর এবার বুচিদংয়ে চলছে চরম নির্যাতন। প্রাপ্ত তথ্য অনুসারে মিয়ানমারের মংডু শহর ১শ ১৬টি গ্রাম নিয়ে গঠিত। তৎমধ্যে ২২টি গ্রাম ধ্বংসলীলায় পরিণত করেছে। ১৪৪ টি গ্রাম নিয়ে গঠিত বুচিদং শহর। ওখানেও মিয়ানমার বর্মী সেনারা বিদ্রেুাহী দমনের নামে গত ৭ ই জানুয়ারী থেকে শুরু করেছে নির্যাতন। গত ৭ ও ৮ জানুয়ারী মংডু গন্দু ছড়া এলাকায় ৫ জন নারীকে ধর্ষন করেছে। ৮ ও ৯ ই জানুয়ারী বুচিদংয়ের টম বাজার টাউন শীপের ১৬ মাইল উত্তরে ১৩ জন মহিলাকে ধর্ষন করে বাড়ী ঘরে লুটপাট চালিয়ে নির্যাতন আরো চরম আকার ধারণ করছে। গত সোমবার বুচিদং থেকে আসা আবু ছিদ্দিকের পুত্র সেলিমুল কামাল ও তার ভাই রবি আলম জানান, তারা ২ ভাইকে মিয়ানমার বর্মী সেনা পায়ে পলিথিন বেরিয়ে আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দিয়ে নির্যাতন চালিয়েছে। তারা ওখান থেকে আসার পর কুতুপালং এমএসএফ হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছে। দিন যত ঘনিয়ে আসতে শুরু করেছে মিয়ানমার বর্মী সেনারা মুসলমান অধ্যুষিত আরকান রাজ্যের মংডু ও বুচিদং এলাকায় নারী নির্যাতন সহ বাড়ি ঘরে লুটপাট, গণ গ্রেফতার চালাচ্ছে। গতকাল বুধবার কুতুপালং বস্তি ক্যাম্পে কথা হয় বুচিদং এলাকার সেলিমুল কালাম ও রবিউল আলমের সাথে। তারা জানান, মিয়ানমার বর্মী সেনা যেভাবে আরকান রাজ্যের মুসলমান অধ্যুষিত এলাকায় মুসলমান নিধন করার জন্য এই নির্গম অত্যাচার জুলুম চালিয়ে যাচ্ছে। ওপারে তারা নির্যাতন হলেও এপারে এসে রোহিঙ্গারা সন্ত্রাসী সহ চুরি ডাকাতি কাজে অধিকাংশ রোহিঙ্গা জড়িয়ে পড়ায় অন্যান্য রোহিঙ্গাদের মাঝে আতংক সৃষ্টি হয়েছে। গত মঙ্গলবার নাইক্ষ্যংছড়ি গহিন অরণ্য থেকে কুতুপালং ক্যাম্পের রোহিঙ্গা জঙ্গি মাষ্টার আবুল কালাম, খাইরুল আমিন, টেকনাফ, মুচনি ক্যাম্পের হাছন আহাম্মদকে ১০টি অবৈধ অস্ত্র সহ ২ শ ১৫ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করে র‌্যাব ৭। ব্রিফিং কালে র‌্যাবের মহা পরিচালক বেনজির আহমদ আটককৃতদের রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী বলে চিহ্নিত করেন। এসব রোহিঙ্গারা যাতে খুন, ডাকাতি, রাহাজানি, ছিনতাই করতে না পারে এ ব্যাপারে এলাকার জনপ্রতিনিধি লোকজনকে সজাগ থাকতে বলেন। তিনি আরো বলেন, এ বাংলার মাটিতে সন্ত্রাসী যেই হোক না কেন তাদের ক্ষমা করা হবেনা। উখিয়ার নতুন রোহিঙ্গা বস্তি পশ্চিম বালুখালীতে গতকাল বুধবার ভোরে আসা ফকির মোহাম্মদ জানান, ঘর বাড়ি ছেড়ে ১১ সদস্য নিয়ে সেই চলে এসেছে। একরাম জানান, তার বাড়ি মিয়ানমারের মংডু শহরের নাইচং সেও ৭ সদস্য নিয়ে বালুখালী নতুন বস্তিতে আশ্রয় নিয়েছে। তার মত নির্যাতিত রোহিঙ্গা পোয়াখালী গ্রামের মোহাম্মদ ছিদ্দিক জানান, বর্মী সেনাদের অত্যাচার নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে তারা ৭ সদস্যের একটি পরিবার চলে আসতে বাধ্য হয়েছে। তার অনেক জায়গা সম্পত্তি ছিল। এগুলো রাখাইনদের দিয়ে পেলেছে মিয়ানমার সেনাবাহিনী। তুমব্র“ পুরান পাড়া গ্রামের ঝিমংখালীর সেতারা বেগম জানান, ৩ সন্তান নিয়ে সেই বুধবার ভোরে বালুখালী নোয়া বস্তিতে আশ্রয় নিয়েছে। তার স্বামী কোথায় সেই জানেনা। একই কথা বললেন হাসিনা বেগম ২ সন্তান নিয়ে চলে এসেছে। তার স্বামীও কোথায় সেই জানেনা। মিয়ানমার সেনা বাহিনী ও রাখাইন যুবকদের নির্যাতন নিপিড়নে অতিষ্ট হয়ে বেশির ভাগ পুরুষের চেয়ে নারীরাই এদেশে চলে এসেছে। নাইচং পাড়ার একরাম জানান, মিয়ানমার সেনা বাহিনীরা পুরুষদের ধরে নিয়ে গ্রেফতার করছে। নির্যাতন করছে, মেরে ফেলেছে, সেই ধর্ষনের ভয়ে নারীরা বেশির ভাগ এদেশে চলে আসতে বাধ্য হয়েছে। বড় গৌজবিল গ্রামের মৃত মোহাম্মদ আলমের স্ত্রী রশিদা বেগম জানান, ধর্ষনের ভয়ে ৩ সন্তান নিয়ে এদেশে চলে আসছে। আর রোহিঙ্গারা এদেশে বদনামী করছে বলে শুনে খুব খারাপ লাগছে।