উখিয়ায় ১৫ সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে চলছে রেহিঙ্গাদের ঝুপড়ি ঘর নির্মান

kotopalong_r.jpg

নিজস্ব প্রতিনিধি, উখিয়া |
উখিয়ার কুতুপালং রোহিঙ্গা অধ্যুষিত এলাকায় স্থানীয় বন বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে ম্যানেজ করে মিয়ানমারের নির্যাতন নিপীড়ন সহ্য করতে না পেরে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশকারী রোহিঙ্গাদের কে আশ্রয় দিতে মরিয়া হয়ে উঠেছে এলাকার এক শ্রেনীর চিহ্নিত ভুমিদস্যুরা।

জানা গেছে, উপজেলার রাজাপালং ইউনিয়নের মধুর ছড়া এলাকার ও উখিয়া সদর বিটের ভিলেজার আব্দুল গফুর, বালুখালী বন বিটের ভিলেজার টিভি র‌্যালী কেন্দ্রের পার্শ্ববর্তী মৃত জাফর আলমের ২ ছেলে আব্দুস সত্তার, আব্দুল হাকিম, কুতুপালং এলাকার চিহ্নিত ভুমিদস্যু সিরাজ সওদাগর, হামিদুল হক ও ছৈয়দ নুর সহ ১০/১৫ জনের একটি বৃহত্তর সিন্ডিকেট মিয়ানমার থেকে অনুপ্রবেশকারী রোহিঙ্গাদের এক পরিবারের সদস্যরা থাকার মত ৫Ñ৬ হাত জায়গার উপর ৩ হাজার টাকা নিয়ে ওই ঝুপড়ি ঘর গুলোর পজিশন বিক্রয় করে।

এর উপরে মাসিক ১০০০ টাকা করে ভাড়া আদায়ের কথা রয়েছে।

মৃত ফকির আহম্মদের ছেলে এলাকার চিহ্নিত ভুমি দস্যু মোঃ শাহজাহান সড়কের পার্শ্বে পড়ে থাকা সরকারী হাস জায়গা জবর দখল করে সরকারী বন ভুমির সামাজিক বনায়নের কাঠ নিধন করে ওই কাঠ দিয়ে প্রায় ৩ শতাধিক স্থাপনা নির্মান করে দিয়ে, পরিবার প্রতি জামানত ৫ হাজার টাকা ও মাসিক ভাড়া ১ হাজার টাকা করে হাতিয়ে নিচ্ছে। তার পার্শ্ববর্তী মৃত ফকির আহম্মদের ছেলে হামিদুল হকও সরকারী বন ভুমির জায়গা দখল করে একই ভাবে টাকার বিনিময়ে অনুপ্রবেশকারীদেরকে আশ্রয় দিচ্ছে।

এ ছাড়াও এমএসএফ হাসপাতালের সামনে আব্দুর রশিদের ছেলে ছৈয়দ নুর সহ একাধিক লোকজন রোহিঙ্গাদের ঘর নির্মান করে ভাড়া দিচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

জানা গেছে, গত ৯ অক্টোবর মিয়ানমার বিদ্রোহী সশস্ত্র সংগঠন আলিয়েকিন এর পরিচালক হাফেজ আতাউল্লাহ এবং জি আরসি ( গ্লোবল রোহিঙ্গা সেন্টার) এর পরিচালক সৌদিআরবের রিয়াদে বসে এ সংগঠনের সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের মাধ্যমে মংডু সেনা ক্যাম্পে হামলা চালিয়ে ৯ জন সেনা সদস্যকে নিহত করে এর পর থেকে রোহিঙ্গাদের উপর চলে চরম জুলুম ও নির্যাতন । নির্যাতন সহ্য করতে না পারে রোহিঙ্গারা সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে বিজিবির চোঁখ দিয়ে এ দেশে চলে আসতে শুরু করে। যার ফলে এ পর্যন্ত অসংক্য রোহিঙ্গা উখিয়ার কুতুপালং রোহিঙ্গা বস্তিতে ও টেকনাফের লেদা, মুছনী রোহিঙ্গা বস্তিতে আশ্রয় নেয়।

উখিয়া রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন সংগ্রাম কমিটির আহবায়ক অধ্যক্ষ হামিদুল হক চৌধুরী বলেন, রোহিঙ্গাদের যারা সাহায্য সহযোগিতা করেন তারা এদেশের ক্ষতিকারক লোক। তিনি আরো বলেন, রোহিঙ্গাদের ছড়িয়ে ছিটিয়ে না রেখে এক জায়গায় নিয়ে না গেলে এলাকার আইনশৃংখলার অবনতি হতে পারে।

এদিকে কক্সবাজার দক্ষিন বন বিভাগের উখিয়া রেঞ্জের আওতাধীন রোহিঙ্গা বস্তি এলাকায় উচ্ছেদ করতে গিয়ে রোহিঙ্গাদের ইট পাটকেল নিক্ষেপের ঘটনায় বন বিট কর্মকর্তা সহ ১০ জন আহত হয়েছে। ৫ জানুয়ারী বৃহস্পতিবার দুপুর ১২ টায় রোহিঙ্গা বস্তি এলাকায় এ ঘটনাটি ঘটে। আহতরা হলেন, উখিয়ার রেঞ্জ কর্মকর্তা মোঃ মনিরুল ইসলাম, উখিয়া সদর বিটের ভারপ্রাপ্ত বিট কর্মকর্তা মোঃ আব্দুল মন্নান, উখিয়া সদর বন বিটের হেডম্যান মোঃ ইব্রাহিম ও রোহিঙ্গা নুরুল ইসলামের ছেলে রশিদ আহম্মদ। সরজমিন ঘুরে জানা যায়, ৫ জানুয়ারী বৃহস্পতিবার সকালে কুতুপালং রোহিঙ্গা বস্তিতে সরকারী বন ভুমির জমির উপর নির্মিত রোহিঙ্গা ঝুপড়ি ঘর গুলো উচ্ছেদ করতে গেলে উখিয়া রেঞ্জের আওতাধীন কুতুপালং এলাকায় প্রায় অর্ধশতাধিক ঝুপড়ি উচ্ছেদ করে ফেরার পথে বন বিভাগের লোকজন রোহিঙ্গাদের তোপের মূখে পড়ে। ওই সময় রোহিঙ্গারা ব্যাপরোয়া ভাবে বন কর্মীদের উপর ইটপাটকেল নিক্ষেপ করলে আতœরক্ষাত্রে বন কর্মীরা ১ রাউন্ড ফাকা গুলি বর্ষন করেলে রোহিঙ্গারাও ৬-৭ রাউন্ড গুলি করে বলে উখিয়া রেঞ্জ কর্মকর্তা জানিয়েছেন।

মিয়ানমারে নির্যাতিত রোহিঙ্গারা এ দেশে এসে কুতুপালং এলাকায় স্থানীয় প্রভাবশালী লোকজনদের নিকট ৩ হাজার টাকা করে ১ টি ঝুপড়ি প্রতি বন বিভাগের সাথে জড়িত ভিলেজারেরা হাতিয়ে নেয়। রোহিঙ্গারা টাকা দিয়েও বসবাস করতে না পারায় ক্ষিপ্ত হয়ে বন কর্মীদের উপর হামলা চালায়।

জানা গেছে, ভিলেজার মধুর ছড়া এলাকার আব্দুল গফুর, টিভি র‌্যালী কেন্দ্রের পার্শ্ববর্তী মৃত জাফর আলমের ২ ছেলে আব্দুস সত্তার, আব্দুল হাকিম, কুতুপালং এলাকার চিহ্নিত ভুমিদস্যু সিরাজ সওদাগর, হামিদুল হক ও ছৈয়দ নুর সহ ডজন কানিক লোকজন রোহিঙ্গাদের এক পরিবারের সদস্যরা থাকার মত ৫-৬ হাত জায়গার উপর ৩ হাজার টাকা নিয়ে ওই ঝুপড়ি ঘর গুলোর পজিশন বিক্রয় করে। এর উপরে মাসিক ১০০০ টাকা করে ভাড়া আদায়ের কথা রয়েছে।

উখিয়া থানার ওসি (তদন্ত) মোহাম্মদ কায় কিসলু খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে, কক্সবাজার দক্ষিন বিভাগীয় বন কর্মকর্তা আলী কবির বলেন, শিঘ্রই উক্ত ভিলেজার হেডম্যান ও জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পাশা পাশি উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হবে।