হারিয়ে যাচ্ছে গ্রামবাংলার বাবুই পাখির বাসা

5555-1.jpg

গোলাম মওলা, রামু ।
গ্রামের আগের মতো বাবুই পাখির বাসা চোখে পড়ে না। আগে কক্সবাজার জেলার বিভিন্ন উপজেলার পাড়া গায়েঁ তালগাছ, নারিকেল গাছে দেখা যেত বাবুই পাখির বাসা। সময়ের বিবর্তনে ও পরিবেশ বিপর্যয়ের কারণে পাখিটি হারিয়ে যাচ্ছে আমাদের গ্রামবাংলা থেকে। বাবুই পাখি একটি শিল্পী, স্থপতি, সামাজিক বন্ধনের কারিগর তার বাসা দেখলেই তা মানুষের বুঝে আসে। লতাপাতা খড় তালগাছের কচিপাতা, ঝাউ ও কাশবনের দিয়ে উঁচু নারিকেলগাছ, তালগাছে চমৎকার বাসা তৈরি করে থাকে বাবুই পাখি। দেখতে যেমন আকর্ষণীয় তেমনি মজবুত প্রবল ঝড়েও তাদের বাসা ভেঙ্গে পড়ে না। বাবুই পাখির শক্ত বুননের এ বাসা টেনেও ছেঁড়া যায় না। বড়ই আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে বাসার ভিতরের অংশে তিন তালা বিশিষ্ট কয়েকটি রুম রয়েছে ।এ বাসার ভিতরে ঠিক মাঝখানে একটি আড়া তৈরি করে পাশা পাশি দুটি পাখি বসে প্রেম আলাপসহ নানা রকম গল্প করতে পারে এবং এ আড়াতেই তারা রাতে ঘুমোতে পারে।
বাবুই পাখির অপূর্ব শিল্পশৈলীতে বিষ্মিত হয়ে কবি রজনীকান্ত সেন এর কবিতা আমরা ছোট কালে প্রায়মারী স্কুলে পড়েছি ।
কবিতা পড়েই এখনকার শিক্ষার্থীরা বাবুই শিল্পের অলৌকিক কথা জানতে পারছে। এখন আর চোখে পড়েনা বাবুই পাখি ও তার নিজের তৈরী দৃষ্টিনন্দন স্হাপত্য শৈলী সরু চিকন পাতা দিয়ে প্রস্তুত বাবুই পাখির বাসা।
বাবুই পাখি বাসা তৈরির পর সঙ্গী খুঁজতে যায় অন্য বাসায়। সঙ্গী পছন্দ হলে স্ত্রী বাবুইকে সাথী বানানোর জন্য কত ধরণের নাচ গান এবং আরো বেশি আকর্ষন করার জন্য খাল- বিল ও ডোবায় ফুর্তিতে নেচে নেচে বেড়ায় গাছের ডালে ডালে করে সাথীকে নিজের করে নিতে। বাসা তৈরি কাজ কেমন হলো সুন্দর ভাবে হলো কিনা আর সাথীর পছন্দ মত হয়েছে কিনা কাংখিত স্ত্রী বাবুইকে সেই বাসা দেখায়।স্ত্রী বাবুই পাখিটির বাসা পছন্দ হলেই কেবল সম্পর্ক গড়ে তুলে।স্ত্রী বাবুই পাখির প্রেরণা পেয়ে পুরুষ বাবুই মনের আনন্দে শিল্পসম্মত ও নিপুণভাবে বিরামহীন ভাবে চারদিনের মধ্যে বাসা তৈরি কাজ শেষ করে ।একটি তাল গাছে অসংখ্য বাসা ঝুলতে দেখা যেত। সে দৃশ্য বড়ই নান্দনিক এবং চিত্তাকর্ষক নিজের চোখে না দেখলে সে দৃষ্টি নন্দন দৃশ্য কাউকে বুঝানো সম্ভব নয়। অফুরন্ত যৌবনের অধিকারী প্রেমিক , প্রেমিকার ডিম দেয়ার সাথে সাথেই অন্য স্ত্রী বাবুই খুঁজতে থাকে। পুরুষ বাবুই এক মৌসুমে ৬টি বাসা তৈরি করে এবং ৬টি প্রেমিকার সাথে তার বিয়ে হয়। ধান ঘরে উঠার মৌসুম শুরু হলে বাবুই পাখির প্রজনন সময়। দুধ ধান সংগ্রহ করে স্ত্রী বাবুই বাচ্চাদের খাওয়ান। গ্রামে তালগাছ না থাকলে এরা আম,নারিকেল বা অন্য গাছেও বাসা বাঁধে।তবে তালগাছে বাসা বাধঁতে এদের পছন্দ বেশি। একসময় কক্সাবাজার জেলায় প্রতিটি উপজেলার প্রায় সবখানেই দেখা যেত শত শত বাবুই পাখির বাসা।
বর্তমানে ক্ষেতের মধ্যে কীটনাশক ব্যবহার করার ফলে ফসলে থাকা মৃত পোকামাকড় খেয়ে বাবু পাখির প্রজাতির বিলুপ্তির প্রধান কারণ।আর প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের কারণে হারিয়ে যেতে বসছে এ অপরূপ সৃষ্টি বাবুই পাখি। অপরদিকে এক শ্রেণির মানুষ অর্থের লোভে বাবুই পাখির বাসা সংগ্রহ করে শহরে ধনীদের নিকট বিক্রি করছে।