টেকনাফে বিনামূল্যের বই বিতরনেও টাকা

tek-pic-2-150x150.jpg

অনলাইন ডেস্ক |
বিনামূল্যের বই বিতরনে টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে টেকনাফের একটি বিদ্যালয়ে। এ নিয়ে অভিভাবকদের মধ্যে দেখা দিয়েছে চরম ক্ষোভ। ইতিমধ্যে এর প্রতিকার চেয়ে শিক্ষা সচিবসহ সংশ্লিষ্টদের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে এলাকাবাসী।
জানা যায়, উপজেলার উপকূলীয় ইউনিয়ন বাহার ছড়ার মারিশ বনিয়া এসইএসডিপি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ে চলতি ২০১৭ সালের ১ জানুয়ারি বই উৎসব শুরু হয়। কিন্তু উৎসবকে অনেকটা ম্লান করে দিয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সিরাজুল ইসলাম ১ম থেকে ৫ম শ্রেনি পর্যন্ত ৫০ টাকা এবং ষষ্ট হতে দশম শ্রেনি পর্যন্ত ১০০ টাকা করে জনপ্রতি টাকা আদায় করে নতুন বই বিতরনকালে। কোন ধরনের বৈধ রশিদ না দিয়ে এভাবে বিনামূল্যে বই বিতরণ উৎসবকে প্রশ্নবিদ্ধ করায় ক্ষোভ দেখা দেয় অভিভাবকদের মাঝে। এরফলে অনেকে এখনো বিদ্যালয়ে ভর্তি হচ্ছে না অনেক ছাত্রছাত্রী।

৯ ডিসেম্বর সোমবার স্থানীয় অভিভাবকরা শিক্ষা সচিবসহ বিভিন্ন দপ্তরে প্রতিকার চেয়ে লিখিত অভিযোগ দিয়েছে।

স্থানীয় অভিভাবক মোহাম্মদ কাসেম বলেন, প্রধান শিক্ষক সরকারের বিনামূল্যের বই বিতরন কর্মকান্ড থেকে টাকা আদায় করে প্রধান মন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার শিক্ষা কার্যক্রমকে প্রশ্নবিদ্ধকরে সরকারের ভাবমুর্তি চরম ভাবে ক্ষুন্ন করেছে।

প্রধান শিক্ষক সিরাজুল ইসলাম বলেন, এটা একটি য়ড়যন্ত্র। বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদে মার্কশিট, ভর্তি ফরম ও ডাইরী প্রদান করে মূলত এ টাকা নেওয়া হয়। বই বিতরননের জন্য নয়। তবে তিনি এসব টাকা নেওয়ার বিতরনে কোন রশিদ দেওয়া হয়নি বলেও স্বীকার করেন।

বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি মাষ্টার হেসাইন আহমদ জানান, বিদ্যালয়ে ভর্তি ফরমের জন্য রশিদ দিয়ে ১০০ টাকা গ্রহনে সিদ্ধান্ত নেন কতৃপক্ষ । এর বাইরে যে ১০০ টাকা গ্রহন করেছে তা প্রধান শিক্ষক পকেটস্থ করার জন্য নিয়েছে। এ বিষয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।

একই ভাবে উপজেলা হ্নীলা সরকারী মডেল প্রাথমিক বিদ্যালয়েও জনপ্রতি ৩০ টাকা হারে জন প্রতি টাকা আদায় করেন প্রধান শিক্ষক । বই বিতরনে টাকা আদায়ের এ খবর ২ জানুয়ারি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। এতে এক পর্যায়ে ছাত্রদের কাছ থেকে নেওয়া টাকা ফেরত দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় যুবক আব্দুল আজিজ।

এ প্রসংগে মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ফেরদৌস আলম বলেন, এ বিষয়ে একটি দরখাস্ত তিনি পেয়েছেন। বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান।