হোয়াইক্যংয়ের উলুবনিয়া এখন ইয়াবার নিরাপদ ঘাঁটি! কোটি কোটি টাকার ইয়াবা পাচারের নেপথ্যে জড়িত একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট

images১১.jpg

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং উলুবনিয়া এখন ইয়াবার স্বর্গ রাজ্যে পরিণত হয়েছে। উলুবনিয়া সীমান্ত পয়েন্ট দিয়ে প্রতিদিন আসছে ইয়াবার বড় মাপের চালান। হ্নীলা ও হোয়াইক্যং এর কয়েকজন ইয়াবার গডফাদার উলুবনিয়া কে ট্রনিজিট পয়েন্ট হিসাবে দীর্ঘ দিন থেকে ব্যাবহার করে আসলেও আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা ছিল সম্পূর্ন বে-খবর।
জানা যায়, সীমান্তের চোরাচালান,ইয়াবা,মানব পাচার রোধে টেকনাফের দমদমিয়া,হোয়াইক্যংও মরিচ্যায় বিজিবির আলাদা ৩টি স্থায়ী চেক পোষ্ট রয়েছে। উক্ত চেক পোষ্ট সমুহে বারবার ইয়াবা ধরা পড়ায় হোয়াইক্যং চেক পোষ্টের পর উলুবনিয়া সীমান্ত এলাকা কে ইয়াবার নিরাপদ পয়েন্ট হিসাবে ব্যাবহার করে আসছে ইয়াবার গডফাদারদের একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট। হ্নীলা ও হোয়াইক্যং ভিত্তিক উক্ত সিন্ডিকেট মিয়ানমারের ইয়াবা সরবরাহকারীদের উলুবনিয়া পয়েন্ট দিয়ে ইয়াবার চালান খালাস করার সংকেত দেয়। ইয়াবার চালান খালাস করার পূর্বে হুন্ডির মাধ্যমে টাকা দিতে হোয়াইক্যং বাজারের একজন চিহ্নিত মহাজনকে টাকা দিয়ে আসতে হয়। টাকা দেয়ার পর মিয়ানমারের পার্টি কে ম্যাসেজ দিলেই খালাস করে ইয়াবার চালান। এ ভাবে উলুবনিয়া সীমান্ত পয়েন্ট দিয়ে কোটি কোটি টাকার ইয়াবা পাচার হচ্ছে। উলুবনিয়া হোয়াইক্যং বিজিবি চেক পোষ্টের পরে হওয়ায় মরিচ্যার আগে তেমন ঝুকি নেই। অপরদিকে বাংলাদেশ-মিয়ানমারের পার্থক্যমূলক সীমানা রয়েছে ছোট্র একটি খাল। ফলে ইয়াবা ব্যাবসায়ীরা উলুবনিয়া কে নিরাপদ মনে করে প্রতিদিন কোটি কোটি টাকার ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে নিরবে। উলুবনিয়া থেকে কাটাখালীর এক চোরাই ডিপু তে ও মদ ইয়াবা মওজুদ করে একটি চোরাই চক্র। গত ৬ জানুয়ারী হোয়াইক্যং বিজিবি কর্তৃক উলুবনিয়া থেকে ৬০ লাখ টাকার ইয়াবা উদ্ধার তারই প্রমাণ বহন করে। উলুবনিয়ার একটি নির্ভরযোগ্য সুত্র জানায়, মিয়ানমার থেকে আসা ইয়াবা নিরাপদে খালাস করতে এলাকার ৩জন প্রভাবশালী ব্যাক্তি কে মোটা অংকের হাদিয়া দিতে হয়। প্রতি চালানেই উক্ত হাদিয়া নামক মাসোহারা পায় তারা। মাসোহারা প্রাপ্তদের কাজ হবে শুধু আইনশৃংখলা বাহিনী কে চৌকি দেয়া বা তাদের অভিযান ভিন্ন খাতে প্রভাবিত করা। ইয়াবার শক্ত ঘাঁিট কে নরম বলে প্রশাসন কে ভূল তথ্য পরিবেশন করা। ক্ষমতাধর হওয়ায় তাদের কথার প্রতি গুরুত্ব না দিয়ে ও উপায় নেই। ইয়াবা ব্যবসায়ীরা তাদের কে অনেকটা ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে থাকে। ইয়াবা ব্যবসায়ীদের প্রতি তাদের মায়া কান্না ও কম না। ফলে ইয়াবার নিরাপদ ঘাঁটি হিসাবে ব্যাবহার করছে উলুবনিয়া কে। উলুবনিয়ার সীমান্ত পয়েন্টের ব্যাপারে বিজিবি ও পুলিশের বিশেষ গোয়েন্দারা সক্রিয় হলে বেরিয়ে আসবে নেপথ্যে নায়কদের নানা তথ্য। উদ্ধার হবে আরো ইয়াবা ও মদ বিয়ারের বড় বড় চালান। এব্যাপারে হোয়াইক্যং বিজিবির কোম্পানী কমান্ডার সুবেদার মোঃ ইব্রাহীমের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, এলাকায় টহল জোরদার আছে। ইয়াবা,মদ,বিয়ারের ব্যাপারে এলাকাবাসীর আরো স্বচেতন হওয়া উচিত। এলাকার মানুষ সহযোগিতা করেনা বলে তিনি আক্ষেপ করে বলেন, সকলের সহযোগিতা পেলে আরো বড় চালান ধরতে পারবো ইনশা আল্লাহ।