থানায় ঝুলিয়ে নির্যাতনের ঘটনায় তদন্ত কমিটি

jessore-police-torture_35932_1483696195.jpg

যশোরে ঘুষ দিতে রাজি না হওয়ায় থানার মধ্যে ঝুলিয়ে এক যুবককে পেটানোর ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

শুক্রবার অতিরিক্ত পুলিশ সুপারকে প্রধান করে দুই সদস্যের এ কমিটি গঠন করা হয়।

গত বুধবার সদর উপজেলার তালবাড়িয়া গ্রামের নুরুল হকের ছেলে আবু সাঈদকে আটকের পর দুই লাখ টাকা ঘুষ দাবি করে দুই পুলিশ কর্মকর্তা।

টাকা না দেয়ায় আবু সাঈদকে থানায় হাতকড়া পরিয়ে দুই টেবিলের মাঝে বাঁশ দিয়ে উল্টো করে ঝুলিয়ে পেটানো হয়। পরে টাকার বিনিময়ে ছাড়া পায় সাঈদ।
এ সংক্রান্ত সংবাদ গণমাধ্যমে প্রকাশের পর তোলপাড়ের সৃষ্টি হয়েছে।

কোতয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইলিয়াস হোসেন বলেন, থানায় মারপিট ও টাকা আদায়ের অভিযোগ তদন্তে দুই সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কমিটি ইতিমধ্যে কাজ শুরু করেছে। তদন্তে দোষী প্রমাণিত হলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এ প্রসঙ্গে জানতে যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শহীদ আবু সরোয়ারের দাফতরিক মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল দিলেও রিসিভ হয়নি।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আবু সাঈদকে বুধবার রাতে আটক করেন কোতোয়ালি থানার সিভিল টিমের এসআই নাজমুল ও এএসআই হাদিবুর রহমান।

পরে তার কাছে ২ লাখ টাকা দাবি করেন ওই দুই কর্মকর্তা। ঘুষ দিতে অস্বীকার করায় আবু সাঈদকে হাতকড়া পরিয়ে উল্টো করে ঝুলিয়ে পেটানো হয়। পরে ৫০ হাজার টাকা দিয়ে সে ওই রাতেই ছাড়া পায় সাঈদ।

আবু সাঈদকে নির্যাতনের অভিযোগ অস্বীকার করছেন অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তা এসআই নাজমুল ও এএসআই হাদিবুর রহমান।

এদিকে নির্যাতনের বিষয়ে জানতে শুক্রবার সকালে সদর উপজেলার তালবাড়িয়া গ্রামে আবু সাঈদের বাড়িতে গেলে তার পরিবারের সদস্যরাও ঘুষ দাবি এবং মারধরের ঘটনা অস্বীকার করেন।

আবু সাঈদের মা রোমেছা বেগম, পিতা নুরুল ইসলাম ও ভাই আশিকুর দাবি করেছেন, পুলিশ আবু সাঈদকে ধরে নিয়ে গিয়েছিল। টাকাপয়সা লেনদেন কিংবা মারপিটের কোন ঘটনা ঘটেনি। এমনতিই পুলিশ ছেড়ে দিয়েছে।

সকালে আবু সাঈদকে বাড়িতে পাওয়া না গেলেও বেলা ১১টার দিকে বাড়ির সামনে দেখা মেলে তার। এ সময় তিনি দাবি করেন, মাদক ব্যবসার অভিযোগে পুলিশ তাকে ধরে নিয়ে থানায় প্রায় ২৪ ঘন্টা আটকে রেখেছিল।

আবু সাঈদ বলেন, পুলিশ ধরে নিয়ে যাওয়ার পর পরিবারের লোকজন তদবির করেছিল। টাকা পয়সা লেনদেন হয়েছে কিনা আমি বলতে পারবো না।

এলাকাবাসী জানিয়েছে, আবু সাঈদ মাদক ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত। তাই পরিবারের লোকজন ঝামেলায় জড়াতে চায় না। এজন্য পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ অস্বীকার করছে ভুক্তভোগী ও তার পরিবার।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক জনপ্রতিনিধি জানান, পুলিশ দুই লাখ ৫৩ হাজার টাকার বিনিময়ে সাঈদকে ছেড়ে দিয়েছে। আর মারপিটের ঘটনা সঠিক।