সাদ্দামকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছিলেন সিআইয়ের যে এজেন্ট

saddam_hossain_35745_1483516062.jpg

সাদ্দাম হোসেন। স্বাধীন-সার্বভৌমের জনপ্রিয় ও শক্তিশালী ইরাকের সাবেক প্রেসিডেন্ট।

২০০৩ সালের ২০ মার্চ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে ইরাকে আগ্রাসন শুরু হলে ভাগ্য বিপর্যয় ঘটে এই লৌহমানবের।

আগ্রাসনের শুরুতেই আত্মগোপন করেন সাদ্দাম। এর ছয় মাসের মাথায় ২০০৩ সালের সেপ্টেম্বরে ধরা পড়েন তিনি।

আটকের পর সাদ্দামকে জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য একজন বিশেষজ্ঞকে খোঁজ করে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ।

এই বিশেষজ্ঞের কাজ হবে আটক ব্যক্তিই প্রকৃত সাদ্দাম কি না তা নিশ্চিত করা এবং তাকে জিজ্ঞাসবাদ করে তথ্য বের করা।

ওই বিশেষজ্ঞটি ছিলেন জন নিক্সন।তিনি ১৯৯৮ সালে সিআইএতে যোগদানের পড় থেকেই সাদ্দামকে নিয়ে অধ্যয়ন শুরু করেন।

গোয়েন্দা সংস্থাটিতে নিক্সনের কাজই ছিল বিশ্বনেতাদের ভেতরকার খবর যোগাড় করা। এরমাধ্যমে কী সব ব্যাপার তাদেরকে অনুপ্রাণিত ও এগিয়ে রাখে তার বিশ্লেষণ করতেন তিনি।

বুধবার ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যম বিবিসির ভিক্টোরিয়া ডারবিশায়ার প্রোগ্রামে জন নিক্সনকে নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে। এতে প্রেসিডেন্ট সাদ্দামকে জিজ্ঞাসাবাদের ব্যাপারে তার অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরা হয়েছে।

জন নিক্সন জানান, ২০০৩ সালে সাদ্দামকে যখন তার জন্মস্থান তিকরিত শহরের খামারবাড়ি সংলগ্ন ভূগর্ভস্থ গর্ত থেকে মার্কিন সেনাদের একটি ছোট দল আটক করে তখন তিনিও ইরাকে ছিলেন।

আগে থেকেই গুজব ছিল, নিরাপত্তার জন্য সাদ্দামের মতো দেখতে একাধিক দ্বৈত চেহারার ব্যক্তি রয়েছে। এ কারণে সাদ্দামকে আটকের খবর পাওয়ার তার পরিচয় নিশ্চিত করার জন্য নিক্সনকে নিয়োগ করে যুক্তরাষ্ট্র।

তবে ২০১১ সালে সিআইএ থেকে চাকরি ছেড়ে দেয়া নিক্সন দুই বছর পর সাদ্দামকে দেখেই চিনে ফেলেন। তিনি বলেন, আমি যখন তাকে দেখলাম তখন আমার মনে কোনো সন্দেহ ছিল না যে তিনিই সাদ্দাম হোসেন।

তিনি বলেন, আমি যখন সাদ্দামের সাথে কথা বলা শুরু করলাম, তখন তিনি আমার দিকে সেভাবে তাকালেন, আমার ডেস্কে থাকা একটি বইয়ে যেভাবে তিনি তাকিয়ে ছিলেন।

বন্দি সাদ্দাম হোসেনকে নিক্সন জিজ্ঞাসাবাদ করেন। তিনিই ছিলেন প্রথম ব্যক্তি যে অনেক দিন ধরে সাদ্দামকে বিস্তারিত প্রশ্ন করার সুযোগ পান।