গ্রামীণফোনকে ৩০ কোটি টাকা জরিমানা দিতেই হবে

download.jpg

অবৈধ সেবা দেয়ার অভিযোগে গ্রামীণফোনকে নির্ধারিত জরিমানার ৩০ কোটি টাকা পরিশোধ করতে হবে বলে জানিয়ে দিয়েছে বাংলাদেশ টেলি রেগুলেটরি কমিশন- বিটিআরসি। সোমবার কমিশনের ২০১তম বৈঠক শেষে এ সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন কমিশন চেয়ারম্যান ড. শাহজাহান মাহমুদ। তিনি যুগান্তরকে বলেন, ৩০ কোটি টাকা পরিশোধ না করার বিকল্প গ্রামীণফোনের হাতে নেই। কারণ তাদের অপরাধ প্রমাণিত হয়েছে। এর আগে ২০০তম কমিশন সভার সিদ্ধান্ত অনুসারে অপারেটরটির কাছে ৬ নভেম্বর বিটিআরসি জরিমানার টাকা পরিশোধের নির্দেশনা দিলে তারা তা মানেনি। নিয়ন্ত্রক সংস্থা গ্রামীণফোনের চিঠি এবং অপরাধ পর্যালোচনা করে জরিমানার টাকার পরিমাণ একই অর্থাৎ ৩০ কোটি রাখার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত রেখেছে।
জানা গেছে, টেলিকম আইন ভঙ্গ করে গ্রামীণফোন দীর্ঘদিন ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সেবা দিয়েছে। অথচ এই সেবা দেয়ার একমাত্র বৈধ অধিকার রয়েছে দেশীয় আইএসপি (ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার) অপারেটরদের। ‘গো ব্রডব্যান্ড’ নামে অবৈধ সেবা দেয়ার বিষয়টি প্রমাণিত হওয়ায় গত ৩১ অক্টোবর গ্রামীণফোনকে ৩০ কোটি টাকা জরিমানা করার সিদ্ধান্ত নেয় নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসি। কমিশনের সভার এ সিদ্ধান্ত বিটিআরসি চেয়ারম্যান শাহজাহান মাহমুদ অনুমোদন করার পর জরিমানা পরিশোধের নির্দেশনা যায় অপারেটরটির দফতরে। সে সময় কমিশন চেয়ারম্যান শাহজাহান মাহমুদ বলেছিলেন, অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় জরিমানার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে গ্রামীণফোনের বিরুদ্ধে। তারও আগে ১৩ জুলাই কমিশন অবৈধ সেবা সম্পর্কে তাদের অবস্থান জানতে চেয়ে ‘শো কজ’ করেছিল। একই সঙ্গে কমিশন সে সময় সোনালী ব্যাংকের সঙ্গে করা ডিলটিও বাতিল করে দেয়।
দুই দফায় ব্যাখ্যা গ্রহণের পর বিটিআরসি ১৩ জুলাই এক চিঠিতে বলেছে, দেশের শীর্ষ মোবাইল ফোন অপারেটর গ্রামীণফোন টেলিকম শিল্পের ইতিহাসে সচবেয়ে বড় অনিয়মটি করেছে ‘ গো ব্রড ব্যান্ড’র মাধ্যমে। সর্বশেষ ১৫ মে বিটিআরসির কাছে ব্যাখ্যা প্রদানে বিটিআরসি বিষয়টি খতিয়ে দেখে একটি নোট তৈরি করে, যেখানে এ কথা বলা হয়েছে। বিটিআরসির ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড অপারেশন্স ডিপার্টমেন্টের ওই নোটের কপি যুগান্তরের হাতে রয়েছে।
নোটে বিটিআরসি বলছে, কমিশনের তথ্যাদি পর্যালোচনা করে দেখা গেছে অপারেটরটি গো ব্রড ব্যান্ডের জন্য কমিশন থেকে অনুমতি ছাড়াই ২০১২ সাল থেকে ব্যবসা করে গেছে। ২০১২ সালের ২০ জুন গ্রামীণফোন আইএসপি অগ্নি ও এডিএনের সঙ্গে যে সেবার অনুমতি নিয়েছে তাতে বলা হয়েছিল, ‘কেবল কো-অর্ডিনেশন সার্ভিসের নামে এডিএন ও অগ্নি আইএসপি দুটি সারা দেশে গ্রামীণফোনের কাস্টমার কেয়ারগুলো ব্যবহার করে অবকাঠামো ভাগাভাগি নীতিমালা অনুযায়ী ইন্টারনেট সেবা পৌঁছে দিতে একটি অনুমোদন দেয়া হয়েছিল। ওই অনুমোদনে পরিষ্কারভাবে অবকাঠামো ভাগাভাগি নীতিমালার আলোকে সব কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে এবং কেবল এডিএন ও অগ্নি আইএসপি প্রতিষ্ঠান কো-অর্ডিনেটেড সেবা প্রদান করতে পারবে বলে পরিষ্কারভাবে নির্দেশনাতে বলে দেয়া হয়। তবে, গ্রামীণফোন সীমা অতিক্রম করে নিজেরাই ওয়াইমেক্স ও আইএসপি সেবা দিয়ে গেছে। সর্বশেষে অপারেটরটি রাষ্ট্রীয় মালিকানার ব্যাংক সোনালী ব্যাংক লিমিটেডকেও ইন্টারনেট কানেকটিভিটির আওতায় আনার জন্য চুক্তি করে- যেখানে বলা হচ্ছে, এটি সাইবার হুমকির কারণও বটে। বিটিআরসি বলছে, ‘সোনালী ব্যাংক লি.’ নামক রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের সমগ্র বাংলাদেশের ব্রাঞ্চ অফিসগুলোতে (মোট ৫৫১টি স্থানে) ব্রড ব্যান্ড নামে কেবলমাত্র গ্রামীণফোন ট্রান্সমিশন সংযোগ প্রদান করেছে বলে কমিশনকে জিপি তালিকাসহ প্রদান করেছে বলে জানা যায়। এটি অবকাঠামো নীতিমালার ৪.৭ ও ৪.৮নং শর্ত অনুযায়ী সম্পূর্ণ অবৈধ। গ্রামীণফোন কমিশন বা নীতিমালাকে সম্পূর্ণ অমান্য করে কোনো এনটিটিএন অপারেটরদের সম্পৃক্ত না করে বা কমিশনে তথ্য প্রদান না করে বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় অবৈধ নেটওয়ার্ক স্থাপন করে সোনালী ব্যাংকের ব্রাঞ্চগুলো কানেক্ট করেছে এবং লাইসেন্স না থাকা শর্তেও আইএসপি ব্যবসা পরিচালনা করছে। গ্রামীণফোন একটি থ্রিজি লাইসেন্সি অপারেটর হওয়ায় প্রতিষ্ঠানটির কোনো ধরনের আইএসপি লাইসেন্স বর্তমানে নেই। সেক্ষেত্রে কোনোভাবেই প্রতিষ্ঠানটি সোনালী ব্যাংক লি. বা অন্য কাউকে ইন্টারনেট সেবা (মোবাইল ডাটা সার্ভিস ব্যতীত) প্রদান করতে পারে না বা অনুরূপ সেবা দেয়ার কোনো সুযোগ নেই।