রোহিঙ্গা নির্যাতনের ভিডিওচিত্র : কয়েকজন পুলিশ আটক

rohinga_35568_1483339870_35647_1483426477.jpg

টেকনাফ টুডে ডেস্ক |
রোহিঙ্গা নির্যাতনে রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপর নির্যাতনের সঙ্গে জড়িত অভিযোগে মিয়ানমারের সীমান্তরক্ষী পুলিশের (বিজিপি) কয়েকজন সদস্যকে আটক করা হয়েছে।

সামাজিক মাধ্যমে ফেসবুকে এবং হোয়াটসঅ্যাপে প্রকাশিত একটি ভিডিওচিত্রে এসব পুলিশ সদস্যকে রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতন চালাতে দেখা যায়।

এ নির্যাতনের সঙ্গে সঙ্গে চারজন পুলিশ কর্মকর্তা জড়িত জানিয়ে মিয়ানমারের নেত্রী অংসান সুচির কার্যালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, প্রাথমিকভাবে যাদের চিহ্নিত করা হয়েছে তাদের আটক করা হয়েছে। এ ধরনের নির্যাতনের সঙ্গে জড়িত অন্য পুলিশ কর্মকর্তাদের চিহ্নিত করতে আরও তদন্ত হচ্ছে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

গত নভেম্বরের শুরুতে রাখাইনের রাতেডং এলাকার ‘কুয়েতানকাউক’ গ্রামে, যা স্থানীয়ভাবে ডাউনসে ফারা নামে পরিচিত, এ ঘটনা ঘটে।

ওই এলাকায় গত ৪ থেকে ৬ নভেম্বর পর্যন্ত বিজিপি ও সেনাবাহিনীর যৌথ অভিযান চলে। এরমধ্যে ৫ নভেম্বর পরিচালিত নির্যাতনের চিত্র ভিডিও করেন একজন বিজিপি সদস্য।

পরে গত ২৯ ডিসেম্বর এই ভিডিওচিত্র প্রথমকে হোয়াটসঅ্যাপে প্রচার করা হয়। এক পর্যায়ে ভিডিওটি ফেসবুকেও ছড়িয়ে পড়ে তা দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায়।

ভিডিওটিতে দেখা গেছে, রাস্তায় দুজন কিশোরকে লাথি মারতে-মারতে এগিয়ে নিচ্ছেন একজন বিজিপি সদস্য। এরপর দেখা যায় বিজিপি সদস্যরা রোহিঙ্গা মুসলমানদের মারতে মারতে একটি খোলা জায়গায় এনে জড়ো করছে। সেখানে অন্তত ৬০ জন রোহিঙ্গাকে মাথায় হাত তুলে এবং সামনে পা ছড়িয়ে বসিয়ে রাখা হয়েছে।

পরে দেখা যায়, একজন রোহিঙ্গাকে মাটিতে বসিয়ে ক্রমাগত লাথি মারছে তিনজন পুলিশ সদস্য। একইসঙ্গে ওই ব্যক্তিকে লাঠি দিয়েও পেটানো হচ্ছিল।

ভিডিওতে আরও দেখা যায়, বিজিপি সদস্যরা আটক রোহিঙ্গাদের ইচ্ছেমতো পেটাচ্ছে এবং বুকে-মুখে ঘুষি-লাথি দিচ্ছে। আটক রোহিঙ্গাদের দেখে নিরাপরাধ বেসামরিক মানুষ মনে হলেও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা তাদের সঙ্গে অপমানজনক আচরণ করে এবং জাতিগতভাবে দুর্ব্যবহার করে।

ভিডিওতে জাও মিও তাইকে নামে বিজিপির একজন কর্মকর্তাকে ধূমপান করতে দেখা গেছে। রোহিঙ্গাদের নির্যাতনে তিনি জড়িত।

উল্লেখ্য, রাখাইন রাজ্যে গত অক্টোবর ৮ অক্টোবর থেকে রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপর গণহত্যা-গণধর্ষণ-গণগ্রেফতার শুরু করে মিয়ানমারের রাষ্ট্রীয় বাহিনী।

এসব নির্যাতনের প্রমাণ সম্বলিত একাধিক ভিডিও বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হলে তা ভুয়া বলে দাবি করেছিল মিয়ানমার সরকার। তবে বিজিপির একজন সদস্যের তোলা নির্যাতনের ভিডিওকে আমলে নিতে বাধ্য হয়েছে মিয়ানমার।