রাজনীতি- বিদায় ২০১৬ শেষের স্মৃতি-স্বাগত ২০১৭নতুন দিনগুলো।

IMG_20161231_124007.jpg

অালমগীর অালম নিসা :
আজ রাতটুকু পেরোলেই
আগামীকাল ভোরের পূর্বাকাশে
দেখা দেবে নতুন বছরের সূর্য। দেখতে
দেখতে কেটে গেল আরেকটি বছর।
দিনপঞ্জিকার শেষ পাতাটি উল্টে
যাবে আজ। নানা কাজের ফিরিস্তি
লেখা নিত্যসঙ্গী হয়ে হাতখাতাটি
হয়ে পড়বে সাবেক। পরমায়ুর বৃক্ষ থেকে
ঝরে যাবে একটি পাতা। মহাকাল
নামের এক অন্তহীন মরুভূমির বুকে যেন
এক ফোঁটা জল। আজ মহাকাল
সেভাবেই মুছে দেবে বহুল আলোচিত
২০১৬ কে। ‘যেতে নাহি দিব’-এ চিরন্তন
বিলাপধ্বনির ভেতরে আবহমান সূর্য
একটি পুরনো দিবসকে আজ কালস্রোতের
ঊর্মিমালায় বিলীন করে পশ্চিম
দিগন্তে মিলিয়ে যাবে। বর্ষবরণের
আবাহন রেখে কুয়াশামোড়া সূর্য
আজ বিদায় নেবে মহাকালের
যাত্রায়। সময় হলো খ্রিস্টীয় ২০১৬
সালকে বিদায় বলার। খ্রিস্টীয় নতুন
বছর ২০১৭ সালকে স্বাগত জানার,
বছরের শেষদিকে নারায়ণগঞ্জ সিটি
কর্পোরেশনে আওয়ামী লীগের মেয়র
প্রার্থীর বিরুদ্ধে বিএনপির প্রার্থীর
শোচনীয় পরাজয় ঘটেছে। সকল জেলা
পরিষদেও আওয়ামী লীগের প্রার্থীর
জয়জয়কার। বিএনপি পরাজয় দিয়ে
বছরটা শুরু করার পর শেষ সময়েও পরাজয়
নিয়েই বছরটা শেষ করতে হয়েছে। কোন
নির্বাচনেই আওয়ামী লীগের নৌকার
কাছে পাত্তাই পায়নি বিএনপির
ধানের শীষ। স্থানীয়
নির্বাচনগুলোতে আওয়ামী লীগের
ঐক্যবদ্ধ সাংগঠনিক শক্তির কাছে
বিএনপির ভঙ্গুর সাংগঠনিক শক্তি
দাঁড়াতেই পারেনি। তবে বিদায়ী
বছরে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের
কাছে এক আতঙ্কের নামই ছিল
‘বিদ্রোহী প্রার্থী’। প্রতিটি
নির্বাচনেই বিদ্রোহীদের লাগাম
টেনে ধরতে পারেনি দলটি। এতে
অভ্যন্তরীণ কোন্দল অনেকস্থানে
ভাতৃঘাতী সংঘর্ষে রূপ নিয়েছিল,
এতে অনেকের প্রাণও ঝড়ে গেছে।
সবশেষ জেলা পরিষদ নির্বাচনেও
দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে ১৭ জেলায়
বিদ্রোহী প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন।
বিদ্রোহী প্রার্থী নিয়ে বছর শুরু এবং
শেষও হয়েছে আওয়ামী লীগের
বিদ্রোহী প্রার্থীদের জ্বালা
নিয়েই।
বিদায়ী বছরটি প্রাপ্তি আর
অপ্রাপ্তির দোলাচলে নিয়েছে
অনেক কিছু। চিরবিদায় নিয়েছেন
সব্যসাচী লেখক ও কবি সৈয়দ শামসুল হক,
প্রবীণ রাজনীতিক অজয় রায়,
খ্যাতনামা কবি রফিক আজাদ,
বিএনপির স্থানীয় কমিটির সদস্য ও
সাবেক মন্ত্রী ব্রিগেডিয়ার (অব)
হান্নান শাহ, সরকারের সমাজকল্যাণ
প্রতিমন্ত্রী প্রমোদ মানকিন,
খ্যাতনামা চলচ্চিত্র নির্মাতা শহীদুল
ইসলাম খোকন, চিত্র নায়িকা পারভীন
সুলতানা দিতি, চিত্রশিল্পী খালিদ
মাহমুদ মিঠু, বেগম পত্রিকার সম্পাদক
নুরজাহান বেগম, সঙ্গীতজ্ঞ খন্দকার নুরুল
আলম, অভিনেতা ও মুক্তিযোদ্ধা ফরিদ
আলী, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী
কবি মাহবুবুল হক শাকিলসহ অসংখ্য মানুষ।
কিন্তু দিয়েছেও কি খুব কম? এ দৃষ্টিকোন
থেকে দেখলে ২০১৬ অনেক কারণেই
স্মৃতির পাতায় উজ্জ্বল হয়ে থাকবে।
মহাকালের আবর্তে হারিয়ে গেলেও
বিদায়ী বছরটি দেশের মানুষের মনে
দাগ কেটে থাকবে বহুকাল, বহু বছর।
পাল্টে দিয়েছে অনেক ইতিহাসও।
সব মিলিয়ে বিদায়ী বছরটি ছিল
বৈচিত্র্যময়। আজকের গোধূলিবেলায়
রক্তিম সূর্য অস্ত যাওয়ার মধ্য দিয়ে
হারিয়ে যাবে ঘটনাবহুল এ বছরটি। এখন
নতুন বছর আর নতুন সূর্যের অপেক্ষায়
দেশবাসী। অপেক্ষা কেবল মানুষের
নিরাপত্তা, শান্তি, স্বস্তি,
জঙ্গীবাদ-সন্ত্রাসমুক্ত, অসাম্প্রদায়িক
রাষ্ট্র বিনির্মাণ এবং সৌহার্দ্য-
সম্প্রীতির দেশ গড়ার। ক্ষমতায় থাকা
শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন
চৌদ্দদলীয় জোট সরকারের কাছে এ
প্রত্যাশা রেখেই আগামীকাল
রবিবার থেকে নতুন বছরে, নতুন জীবনে
যাত্রা করবে এ দেশের মানুষ। কাল শুরু
হবে আরও একটি নতুন বছর ২০১৭। বিদায়-২০১৬।

লেখকঃ
অালমগীর অালম নিসা
বিএসএস(অনার্স)
রাষ্ট্রবিজ্ঞান, উখিয়া কলেজ,
যুগ্ম সাধারন সম্পাদক
বাংলাদেশ ছাত্রলীগ
উখিয়া উপজেলা শাখা।
মোবাইল- ০১৮৩১৫২৫২০৬