টেকনাফ সাব-রেজিষ্টার অফিসে সেবা প্রার্থীরা হয়রানীর শিকার

876-1.jpg

বিশেষ প্রতিবেদক, টেকনাফ :
টেকনাফে যে ক’টি জন গুরুত্বপূর্ণ সরকারী প্রতিষ্ঠান রয়েছে, তার মধ্যে সাব-রেজিষ্টার প্রতিষ্ঠানটি অন্যতম। এ প্রতিষ্ঠানটি উপজেলা পরিষদ এলাকা থেকে বাইরে। ব্যক্তি মালিকানাধীন ভাড়া বাসায় এ দপ্তরের কার্যক্রম চলে আসছে। স্বাধীনতার ৪৫ বছরে এ দপ্তররের উন্নয়নকাজ সাধিত হয়নি।

এ প্রতিষ্ঠানটি উপজেলা প্রশাসন থেকে আলাদা বাইরে থাকায় সেবা প্রার্থীরা এ প্রতিষ্ঠান থেকে কাংখিত সেবা পাচ্ছেনা।

যেহেতু এ প্রতিষ্ঠান তথা সাব-রেজিষ্ঠার অফিসটি সরাসরি আইন মন্ত্রনালয়ের অধীনে পরিচালিত হয়। সেহেতু এ প্রতিষ্ঠানটির স্থানীয়ভাবে কাজের অগ্রগতির কোন জবাবদীহিতা নেই।

ভূমির মালিকেরা সেবা পাওয়া তো দুরের কথা উল্টো দুর্ভোগ ও আর্থিক হয়রানীর শিকার হচ্ছে। পৌনে তিন লাখ মানুষের জন্য এ জনগুরুত্বপূর্ণ টেকনাফ সাব-রেজিষ্ঠার প্রতিষ্ঠানটি জনশূন্য স্থানে পরিচালিত হলেও এখানে কর্মকর্তাও কর্মচারীরা থাকে আতংকে। নেই কোন নিরাপত্তা।

তদ্রুপ সেবা প্রার্থীরা এ প্রতিষ্ঠানে ভূমি বিক্রিতে প্রচুর পরিমাণ রাজস্ব দিলে ও তাদের কোন বসার স্থান নেই। প্রতিষ্ঠানের বাইরে রাস্তা ও দোকানে বসে কাজ সারতে হয়।

টেকনাফ একটি সীমান্ত উপজেলা। সেন্টমার্টিন, শাহপরীরদ্বীপ ও বাহারছড়া শামলাপুর প্রত্যান্ত এলাকার ভূমির মালিকেরা এখানে প্রয়োজনে দিনে এসে দিনে যেতে পারেনা। এ দপ্তরটি চলে সপ্তাহে মাত্র একদিন মঙ্গলবার। বাকি দিন থাকে কর্মকর্তা শূণ্য। চলতি বছর গত ২৭ ডিসেম্বর (মঙ্গলবার) ছিল শেষ কর্মদিবস।

এ প্রতিনিধি প্রয়োজনে এ প্রতিষ্ঠানে পরিদর্শন করতে গেলে অফিসের ভিতর, বারান্দায় ও মাঠে উপচেপড়া মানুষের ভীড়। খোজ নিয়ে জানা যায়, ভূমি মালিকের চেয়ে দালালের সংখ্যা অনেক বেশী। যার কারণে দালালের খপপরে পড়ে সহজ সরল ভূমি ভোক্তারা আর্থিক হয়রানীর শিকার হচ্ছে। ভূমির ভোক্তারা সরাসরি এ দপ্তরের কর্মচারীর সাথে প্রয়োজনে কাজ করতে পারেনা। তাদেরকে বাধ্য হয়ে দালালের মাধ্যমে কাজ করতে হয়।

অভিযোগ উঠেছে, টেকনাফ সাব-রেজিষ্ঠার অফিসে ২৪ জনের চেয়ে বেশী দলিল লেখক রয়েছে। এদের মধ্যে অনেকের শিক্ষাগত যোগ্যতা নেই। জাল সনদ দিয়ে উৎকোচের মাধ্যমে এ কাজ করে যাচ্ছে ঐসব দলিল লেখক।

জমি বিক্রির দলিল সম্পাদন করতে গিয়ে অনেক সময় অফিস সহকারীর কাছে ভূলেভরা ধরা পড়ে। দলিলে ঘষামাজা ও প্রুটমারা ফলে এসব দলিল সহজে সম্পাদিত হয়না। অবশ্যই পরে হয়ে থাকে উৎকোচের মাধ্যমে।

ঘটনা এখানে শেষ নয়, এ দপ্তরটি অনিয়ম দুর্নীতির এক আখড়ায় পরিনত হয়েছে। উৎকোচ ছাড়া এখানে যে কোন কাজ হয়না। এটি এখন নিয়মে পরিনত হয়েছে।

কতিপয় দলিল লেখকেরা ঘুষ বাণিজ্যের মাধ্যমে দলিল সম্পাদিত হয়।

দলিলের প্রতিলাখে ৮ শত টাকা দিতে হয় কর্মকর্তাকে। এছাড়া রয়েছে লেইট ফিস্ বাণিজ্য।

এভাবে পদে পদে ভূমি মালিক ও ভোক্তাদের নজরানা দিতে গিয়ে অনেকেই আর্থিক ফুতুর হয়ে বাড়ী ফিরে যেতে হয়।

গত মঙ্গলবার শেষ কর্মদিবসটি চলছিল রাত ১০ টায়। প্রায় ২শত দলিল সম্পাদিত হয়। এর বিপরীত প্রচুর পরিমাণ রাজস্ব পেলে ও তার চেয়ে বেশী অবৈধ বাণিজ্য সাধিত হয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে হ্নীলার একজন দলিল লিখক জানান ঐদিন আমার ১২টি দলিল সম্পাদিত হয়েছে এর বিপরীত সে ও প্রচুর পরিমাণ রাজস্ব সরকারকে দিয়েছে।

টেকনাফ পৌরসভার একজন ভূক্তভোগী জানান ৭৭শতক জমি ব্যাংক ঋন নিতে গিয়ে জমি বন্দক রেজিষ্ঠার ৩০ লাখ টাকা। প্রতি লাখে ৫শত টাকা করে সংশ্লিষ্ঠ কর্মকর্তার নামে নেয়া হয়েছে।

এছাড়া অফিস সহকারী দলিলে ডিআরার না থাকাতে পাঁচ হাজার টাকা, সমিতির নামে ২২ শত টাকা। অথচঃ এতে সরকার রাজস্ব পেয়েছে মাত্র নয় হাজার টাকা।

এব্যাপারে বক্তব্য জানতে সাব রেজিষ্ট্রি অফিসের কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও অফিসে গিয়ে জানা যায় তিনি কক্সবাজার রয়েছেন।