মিয়ানমার নৌবাহিনীর গুলিতে ৬ জেলে আহত

teknaf-pic-stm.jpg

টেকনাফ টুডে ডটকম |
বাংলাদেশের একটি মাছ ধরার ট্রলারকে লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ করেছে মিয়ানমারের নৌবাহিনী। এতে ছয় মাঝিমাল্লা গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।

মঙ্গলবার দুপুরে সেন্টমার্টিনের পূর্বে সাগরে মাছ ধরার সময় এ ঘটনা ঘটে।

গুলিবিদ্ধ ৬জন হলেন- কক্সবাজারের নুনিয়ারছড়া নতুন ফিশারী এলাকার বাসিন্দা আলি আহমদের ছেলে সাইফুল ইসলাম(৩২) নুর মোহাম্মদের ছেলে ওসমান গনি (২৭), একই গ্রামের মোঃ শফির ছেলে রফিকুল ইসলাম (৩২), আলি আহমদের ছেলে নুর আহমেদ (৬০) আব্দুল হামিদের ছেলে মোঃ আলম(৪৫) ও আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে উসমান গনি(৩০) ।
আহতরা মঙ্গলবার বিকাল ৫টার দিকে সেন্টমার্টিনে পৌঁছলে কোস্টগার্ড ও স্থানীয় জেলেদের সহযোগীতায় সেখান থেকে রাত ৮টার দিকে টেকনাফে এনে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা প্রদান করা হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের কক্সবাজারে প্রেরন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন টেকনাফ হাসপাতারের জরুরী বিভাগের মেডিকেল সহকারী মিন্টু। তাদের হাতে-পায়ে ও একজনের চোখের নীচে গুলি লাগে।

আহতদের সাথে কথা বলে জানা যায়, গত চার দিন আগে কক্সবাজারের বাসিন্দা মো. রহিম সওদাগরের মালিকাধীন খালেদা-১ নামে মাছ ধরার ট্রলার নিয়ে ১০ মাঝিমাল্লা বঙ্গোপসাগরে মাছ শিকারে বের হন।

মঙ্গলবার সেন্টমার্টিনের পূর্বে মাছ ধরতে সাগরে জাল ফেলেন তারা। আকস্মিক মিয়ানমারের নৌবাহিনীর একটি জাহাজ মাছ ধরার ট্রলারকে ধাওয়া করে গুলি চালায়। এ সময় জেলেরা মাছ ধরার জাল ফেলে পালিয়ে আসার চেষ্টা করলে ছয়জন গুলিবিদ্ধ হন। এসময় তাদের ফিশিং ট্রলারটি বাংলাদেশ জলসীমা অতিক্রম করেছিল কিনা তা তারা বুঝতে পারেনি।

খোজঁ নিয়ে জানা যায়, আহতদের মধ্যে বেশীর ভাগ জেলে মিয়ানমারের নাগরিক। ১০/১৫ বছর আগে বাংলাদেশের কক্সবাজার উপকূলে অবস্থান করে জেলে হিসেবে জীবিকা নির্বাহ করে চলছে তারা। আহত মোহাম্মদ রফিক বলেন, তিনি মিয়ানমারের মংডু মংনি পাড়ার বাসিন্দা। ১৫ বছর আগে বাংলাদেশে চলে আসেন। কক্সবাজারে ইনানীতে বসবাস করছেন।

কোস্টগার্ড সেন্টমার্টিন স্টেশনের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবছার আলী জানান, গুলিবিদ্ধ জেলেরা সেন্টমার্টিন পৌঁছলে তাদেরকে দ্রুত টেকনাফে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।