যান্ত্রিক ত্রুটি নাকি মালিক-ভাড়াটিয়া দ্বন্ধ ! সেন্টমার্টিন যেতে পারেনি সাড়ে ৫’শ পর্যটক

jahajghat.jpg

টেকনাফ টুডে ডটকম |
টেকনাফ-সেন্টমার্টিন রুটে চলাচলকারী এলসিটি কাজল নামের জাহাজটির ৫ শতাধিক যাত্রী সেন্টমার্টিন যেতে পারেনি সোমবার। জাহাজটির একটি ইঞ্জিন বিকল হওয়ার খবর পেয়ে জাহাজটির যাত্রা বাতিল করেন উপজেলা প্রশাসন।
তবে জাহাজ পরিচালনা কর্তৃপক্ষ দাবী করেছে জাহাজের মাস্টার আলী বশির খান মূল ভাড়াটিয়া মালিককে ভূল তথ্য দিয়ে জাহাজের যাত্রা বাতিল করিয়েছে। আর ভাড়াটিয়া ও স্টাফদের দ্বন্দ্বে সোমবার সকালে এলসিটি কাজল নামের জাহাজটি সেন্টমার্টিন যেতে পারেনি। ফলে দূর্ভোগ পোহাতে হয়েছে দেশের বিভিন্ন প্রান্থ থেকে আসা ৫ শতাধিক পর্যটককে।
জানা যায়, সোমবার সকালে যথারীতি জাহাজটি সাড়ে ৫ শতাধিক যাত্রী নিয়ে টেকনাফের দমদমিয়া ঘাট দিয়ে সেন্টমার্টিন যাওয়ার জন্য প্রস্তুতি নেয়। কিন্তু এসময় জাহাজের মাস্টার আলী বশির খান পরিচালকদের জানান, জাহাজের একটি মেশিনের গিয়ারবক্স কাজ করছে না।
খবর পেয়ে এসময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ শফিউল আলম ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) তুষার আহমেদ ঘটনাস্থলে পৌঁছে জাহাজটির সেন্টমার্টিন গমনে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন আর জাহাজের যাত্রীদের টাকা ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দেন। এতে করে সাড়ে ৫ শ যাত্রী আর সেন্টমার্টন পৌছতে পারেনি।
এ ব্যাপারে টেকনাফ উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা জানান, একটি মেশিন নষ্ট তাই জাহাজটি ছাড়ার অনুমতি দেওয়া হয়নি।
তবে দুপুর ১ টা পর্যন্ত অনেক যাত্রী অপেক্ষা করতে থাকে মেশিন ঠিক করে জাহাজটি সেন্টমার্টিনের উদ্দেশ্যে রওয়ানা করবে এ আশায়।
এ ব্যাপারে কথা হয়, উপ-ভাড়াটিয়া সুমনের সাথে। তিনি বলেন, জাহাজের ক্যাপ্টেন বশির আলী কৌশলে মূল ভাড়াটিয়া মালিক সঞ্জয় বাবুকে দিয়ে প্রশাসনকে খবর দিয়ে জাহাজের যাত্রা বাতিল করিয়েছে।
তিনি আরো বলেন, জাহাজটির প্রায় ১৩ জন স্টাফের বেতন ২/৩ মাস ধরে বন্ধ রয়েছে। আগের টাকা কেন আমরা দেবো। তাই মূল ভাড়াটিয়া সঞ্জয় বাবু আমাদরে উপর চাপ সৃষ্টি করতে স্টাফদের জাহাজ ছাড়তে নিষেধ করে। যাত্রী দূভোগের ব্যাপারে তিনি জানান যাত্রীদের টিকেটের টাকা ফেরত দেওয়া হয়েছে। এর বাইরে তাদের আর করার কিছু ছিলো না বলেও জানান তিনি। সুমন, খোকা, আকাশসহ ৪জন বিআইডব্লিউটিসির মূল ভাড়াটিয়া সঞ্জয় বাবুর কাছ থেকে জাহাজটি উপভাড়া নিয়েছেন বলে জানান।
এ ঘটনায় দূর্ভোগে পড়তে হয়েছে পর্যটকদের। সেন্টমার্টিন পৌছতে না পেরে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ময়মনসিংহ ভালুকা ক্যান্টনমেন্ট উচ্চ বিদ্যালয় থেকে আসা ৭৬ জনের একদল পর্যটক।
ওখানকার দুই পর্যটক ওমর ফারুক ও আতাউর রহমান জানান, জাহাজ বিকল বলে আমাদের নামিয়ে দেয় প্রশাসন। তারা প্রশ্ন করেন এই জাহাজ যদি বিকলই হয় তাহলে এইখানে চলাচলের অনুমতি পায় কিভাবে।

একই ভাবে কথা হয় ঢাকা বিশ্বরোড এলাকার গৃহিনী আনিকা ও লিনার সাথে। তারা বলেন, শখ করে সেন্টমার্টিন ভ্রমনে এসেছি। কিন্তু যেতে না পেরে খারাপ লাগছে।

সিলেট শাহজালাল ফার্টিলাইজার থেকে আসা মামুনুর রশিদ জানান, যান্ত্রীক ত্রুটির কথা বলে আমাদের যাত্রা বাতিল করা হলো। কিন্তু খবর নিয়ে দেখেছি, গত কয়েকদিন এক হাজারেও অধিক যাত্রী নিয়ে সেন্টমার্টিন গেছে এ জাহাজটি। পর্যটকরা যাতে ভবিষ্যতে হয়রানির শিকার না হন সেদিকে প্রতি দৃষ্টি দিতে সরকারের উচ্চ মহলের দৃষ্টি আকর্ষন করেন তিনি।