থার্টিফাস্ট নাইটকে কেন্দ্র করে আসছে কোটি কোটি টাকার ইয়াবা

PP.jpg

রফিক মাহমুদ, উখিয়া :
সীমান্তে রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে বিজিবি ও আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তৎপর থাকলেও আড়ালে থেকে আসছে ভয়ংকর মাদকদ্রব্য মরণনাশক ইয়াবা। এখন দেশের আনাচে কানাচে ব্যাপক আকারে বিস্তৃতি লাভ করেছে। আসন্ন থার্টিফাস্ট নাইটকে কেন্দ্র করে কক্সবাজারসহ সারাদেশে মরননেশা ইয়াবা মজুদ ও সরবরাহ বাড়াতে আগে ভাগেই তৎপরতা বাড়িয়ে দিয়েছে সীমান্তবর্তী উখিয়া- টেকনাফের চিন্থিত ইয়াবা ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট।
নির্ভরযোগ্য কয়েকটি সূত্রে জানা গেছে, এ বছর থার্টিফাস্ট নাইটকে টার্গেট করে উখিয়া-টেকনাফ সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে অসাধু ইয়াবা সিন্ডিকেট সদস্যরা শত শত কোটি টাকার ইয়াবা ট্যাবলেট পাচারের প্রস্তুতি নিয়েছে। এজন্যে তারা সড়কপথ ছাড়াও প্রয়োজনে টেকনাফ স্থল বন্দর, চট্টগ্রাম বন্দর ও কক্সবাজার বিমান বন্দরের পাশাপাশি অভ্যন্তরীন বিভিন্ন নৌ পথকে নিরাপদ চ্যানেল হিসেবে বেছে নিয়েছে। পাশাপাশি আইনশৃংখলা বাহিনীর অসাধু সদস্যদের ম্যানেজের মাধ্যমে চক্রের সদস্যরা ইতোমধ্যে শত শত কোটি টাকা মূল্যের এসব ট্যাবলেটের বস্তা বস্তা চালান নির্ধারিত স্থানে পৌঁছে দিতে সংশ্লিষ্ট এলাকার ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের প্রভাবশালী নেতা, অসাধু সাংবাদিক ও একশ্রেণীর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে দফারফা সম্পন্ন করেছে। কক্সবাজার-টেকনাফ মহাসড়ক ও বঙ্গোপসাগর তীরবর্তী কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়কে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কয়েকটি স্থায়ী ও অস্থায়ী চেকপোষ্ট থাকলেও শক্তিশালী ইয়াবা সিন্ডিকেট ব্যবসায়ীরা অটো রিক্সা দিয়ে ইয়াবাগুলো বহন করে কক্সবাজারের বিভিন্ন হোটেলে নিয়ে যাওয়া হয়।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বর্তমানে দেশের অভ্যন্তরে দিন দিন ইয়াবার চাহিদার পরিমাণ যেমন উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে তেমনি বাড়ছে এর সেবনের পরিমাণও। এদিকে ইয়াবা আসার অন্যতম প্রধান রুট মিয়ানমার থেকে টেকনাফ, উখিয়া হয়ে কক্সবাজার। তাছাড়া সীমান্তের কুতুপালং ক্যাম্পের বস্তি এলাকা ও উখিয়ার হিজলিয়া, বালুখালী ও পালংখালী সহ বেশ কয়েকটি গুদামে ইয়াবার মজুদ বাড়াচ্ছে ইয়াবা সিন্ডিকেট। এসব ইয়াবা সিন্ডিকেটর মধ্যে উখিয়া উপজেলার বালুখালী, ঘিলাতলী, হাজীরপাড়া ও দুছড়ি, রতœাপালং এর তেলীপাড়া এলাকার কয়েকটি সিন্ডিকেট বর্তমানে দিনে-রাতে মিয়ানমার থেকে নিদ্দিষ্ট কয়েকটি গুদামে ইয়াবা মজুদ করে যাচ্ছে। মজুদকৃত এসব ইয়াবা সড়কপথে সুন্দরী নারীদের ব্যবহার করে পাচারে ব্যাস্ত রয়েছে অন্য কযেকটি সিন্ডিকেট।
উখিয়া উপজেলার কুতুপালং ও টেকনাফ উপজেলার নয়াপাড়া শরনার্থী ক্যাম্প ভিত্তিক ২ শতাধিক রোহিঙ্গা মহিলা ছাড়াও কক্সবাজার ও বান্দরবান সীমান্তের অর্ধশতাধিক পয়েন্টে ৬শতাধিক পাচারকারী নারী-পুরুষ মরণ নেশা ইয়াবা পাচার কাজে জড়িত রয়েছে। কক্সবাজারের সীমান্ত অঞ্চল সহ সর্বত্রে হাত বাড়ালেই পাওয়া যাচ্ছে যৌন উত্তেজক ইয়াবা ট্যাবলেট সহ রকমারি মাদক দ্রব্য। আইন প্রয়োগকারী সংস্থার হাতে মাঝে মধ্যে ইয়াবা ও মাদকের চালান ধরা পড়লেও গডফাদারেরা রয়ে যাচ্ছে ধরা ছোয়ার বাহিরে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, দেশের আন্তর্জাতিক চোরাচালান সিন্ডিকেট এখন অস্ত্র ব্যবসার পরিবর্তে মাদক ব্যবসার দিকে ঝুঁকে পড়েছে। এ সিন্ডিকেটের মূল হোতাদের অধিকাংশের বাড়ী কক্সবাজারের টেকনাফ, হ্নীলা, উখিয়া, কোটবাজার, রতœাপালং সীমান্তের কাছাকাছি। মূলত তিন শতাধিক সদস্যের একটি দল সীমান্ত এলাকায় মাদক পাচার ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করছে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে ইয়াবা ও মানবপাচার এক সুত্রে গাথা। মানবপাচারকারীদের বেশীরভাগ ইয়াবা ব্যাবসার সাথে সরাসরি জড়িত। এদের অনেকেই ইতিমধ্যে রাতারাতি কোটিপতি বনে গেছে।

সীমান্তে দায়িত্বে নিয়োজিত বিজিবি, র‌্যাব ও পুলিশ সদ্যসরা একের পর এক অভিযান চালিয়ে ইয়াবা ও বিভিন্ন মাদক দ্রব্যের চালান উদ্ধার করতে পারলেও শীর্ষ ইয়াবা পাচারকারীরা ধরা ছোঁয়ার বাইরে থাকায় কোন মতেই ইয়াবাসহ মাদক পাচার থামছে না। যার কারণে সীমান্তে দায়িত্বে নিয়োজিত আইন প্রয়োগকারী সংস্থার লোকজন ইয়াবা প্রতিরোধ করতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছে। নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, ক্ষমতাসীন ও বিরোধী দলের শতাধিক নেতাকর্মী এ ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করলেও তাদের গায়ে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার আচঁড় লাগছে না।

টেকনাফ উপজেলার শাহপরীরদ্বীপ, নয়াপাড়া, সাবরাং, সাবরাং আলোগোলা প্রজেক্ট, মগ পাড়া, মৌলভী পাড়া জালিয়া পাড়া, নাইটং পাড়া, জাদিমুরা, হ্নীলা, মৌলভী বাজার, উনচিপ্রাঙ্ক, হোয়াইক্যং, উলুবনিয়া, কাটাখালী, তুলাতলী, উখিয়া উপজেলার আঞ্জুমান পাড়া, পালংখালী, রহমতের বিল, ধামনখালী, বালুখালী, কাটাপাহাড় সহ ৩৫টিরও অধিক পয়েন্ট দিয়ে মিয়ানমার থেকে প্রতিনিয়ত বিপুল পরিমান ইয়াবা ট্যাবলেট পাচারকারী ও ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে বাজারজাত হয়ে আসছে।

শুধুমাত্র বাংলাদেশের মাদকের বাজারকে লক্ষ্য করে পাশ্ববর্তী মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশে ১৪টি কারখানায় কোটি কোটি পিস ইয়াবা উৎপাদন হয়ে থাকে বলে নির্ভরযোগ্য সুত্রে জানা গেছে।

এ ব্যাপারে উখিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ আবুল খায়ের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, প্রায় প্রতিদিনই ইয়াবা আটকের ঘটনা ঘটছে, তবুও থার্টি ফাষ্ট নাইটকে কেন্দ্র করে পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আগের চেয়ে বেশী তৎপর রয়েছে।