টেকনাফের চেয়ারম্যান মেম্বারদের সাথে মতবিনিময় করেছেন এএইচ সালাহ উদ্দিন মাহমুদ

-1.jpg

আমি জেলা পরিষদ নির্বাচনে দাড়িয়েছি বলে ভোটারদের কদর বেড়েছে
জিয়াবুল হক , টেকনাফ :
আগামী ২৮ ডিসেম্বর জেলা পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে কক্সবাজার জেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী (প্রতীক- মোটর সাইকেল) এএইচ সালাহ উদ্দিন মাহমুদ রাত দিন কক্সবাজার জেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, মেম্বার ও মহিলা মেম্বার ভোটরদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে মতবিনিময় করছেন। সেই ধারাবাহিকতায় গতকাল ২৬ ডিসেম্বর সকাল ১০ টার দিকে কক্সবাজার জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান সালাহ উদ্দিন মাহমুদ টেকনাফ সদর ইউনিয়ন, সাবরাং ইউনিয়ন, বাহারছড়া ইউনিয়ন, হ্নীলা ইউনিয়ন, হোয়াইক্যং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, মেম্বারদের সাথে মতবিনিময় সভায় মিলিত হন তিনি।
এসময় তিনি জনপ্রতিনিধিদের কাছে বলেন, আমি কক্সবাজার জেলা পরিষদ নির্বাচনে ভোটে দাড়িয়েছি বলে ভোটারদের কদর বেড়েছে। তাই আপনাদের কাছে আমি ভোট পাওয়ার অধিকার রাখি। আপনাদের হাতে জয়-পরাজয় ক্ষমতা। আমাকে নির্বাচিত করে চেয়ারে বসার সুযোগ দিন। কাজের মাধ্যমে কক্সবাজার দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে চাই। তিনি আরো বলেন, আমি কক্সবাজার জেলা পরিষদের প্রথম চেয়ারম্যান। আমার সময়কালের উন্নয়ন কর্মকান্ড এখনো ঈর্ষণীয়। কক্সবাজার জেলা পরিষদ ভবন নির্মাণ, টেকনাফের বিদ্যুতের গ্রীড লাইন, মহেশখালী জেটি, রামু, ৮টি উপজেলার স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা, মসজিদ, মন্দিরসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্টানের অনেক উন্নয়ন কর্মকান্ড আমার নিজ হাতে করেছি। আমি সততা দিয়েই এসব কাজ করেছি। আমার কোন লোভ-লালসা নেই বলেই এসব সম্ভব হয়েছে। দলমতের উর্ধ্বে ওঠে কাজ করতে শেষবারের মতো সুযোগ চাই। সালাহ উদ্দিন মাহমুদ আরো বলেন, একজন মুক্তিযোদ্ধার পরাজয় কেউ সহজে মেনে নেবে না। আপনাদের মূল্যবান ভোটই আমাকে ক্ষমতাবান করবে। সেই ক্ষমতা দিয়ে আমি মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে চাই। আমাকে একবার সুযোগ দিন। দুর্নীতিমুক্ত থেকে কিভাবে কাজ করা যায়, তা দেখিয়ে দেব।
এই সময় উপস্থিত ছিলেন, জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মনোয়ার আলম, কক্সবাজার জেলা জাতীয় পাটির সহ-সম্পাদক ফেরদৌস আলম হেলাল মুন্সি, জাতীয় ছাত্র সমাজ কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির অন্যতম সদস্য জিয়াবুল হক, টেকনাফ উপজেলা জাতীয় ছাত্র সমাজের সভাপতি আবদুল ওয়াজেদ, চকরিয়া উপজেলার বিশিষ্ট সমাজ সেবক মাষ্টার রশিদ আহম্মদ, মাষ্টার আবদুল হক, টেকনাফ উপজেলার জাতীয় ছাত্র সমাজের সিনিয়র যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক সাখাওয়াত হোসেন, আশরাফ উদ্দিন প্রমুখ।
সুত্রে জানা যায়, সালাহ উদ্দিন মাহমুদ ১৯৮৮ সালে উপ-মন্ত্রীর পদমর্যাদায় কক্সবাজার জেলা পরিষদের প্রথম জেলা চেয়ারম্যান নিযুক্ত হন। তার আমলে কক্সবাজার জেলার অভুতপূর্ব উন্নয়ন হয়েছে। তার সময়কালের নকশায় নির্মিত জেলা পরিষদ ভবন এখনো বাংলাদেশের অদ্বিতীয়।
সালাহউদ্দিন মাহমুদ চকরিয়ায় নতুন হাসপাতাল নির্মাণ, চকরিয়া কলেজকে ডিগ্রি কলেজে উন্নীতকরণ, মাতামুহুরী নদীর উপর বাটাখালী সেতু নির্মাণ, পেকুয়া কাটাফাড়ি সেতু নির্মাণ, বাঘগুজারা সালাহ উদ্দিন ব্রীজ, বরইতলী-মগনামা ভায়া কুতুবদিয়া সড়ক নির্মাণ, চকরিয়া-বদরখালী সড়কের উন্নয়ন, চিংড়ি জমির সঠিক বরাদ্ধের মাধ্যমে চাষের উন্নয়ন করেছেন। চকরিয়া উপজেলার বরইতলী ডেপুটি বাড়ির বাসিন্দা সালাহ উদ্দিন মাহমুদ ১৯৮৫ সালে বৃহত্তর চকরিয়া উপজেলার (চকরিয়া-পেকুয়া) প্রথম নির্বাচিত উপজেলা চেয়ারম্যান। ১৯৮৬ সালে তিনি কক্সবাজার-১ (চকরিয়া-পেকুয়া) আসন থেকে তৃতীয় ও ১৯৮৮ সালে চতুর্থ জাতীয় সংসদের সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে তিনি মুজিব বাহিনী নামে খ্যাত বাংলাদেশ লিবারেশন ফোর্স (বিএলএফ) কক্সবাজার মহকুমার কমান্ডার ছিলেন। বরেণ্য রাজনীতিবিদ ও বীর মুক্তিযোদ্ধা এএইচ সালাহ উদ্দিন মাহমুদ সরকারের পরিবেশ ও বনমন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টি জেপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির প্রভাবশালী প্রেসিডিয়াম সদস্য। দলের চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মঞ্জু ও মহাসচিব সাবেক মন্ত্রী শেখ শহিদুল ইসলামের খুব কাছের মানুষ ব্যক্তি হিসেবে তিনি পরিচিত। জাতীয় পার্টি ক্ষমতায় থাকাকালে বরণ্য এ রাজনীতিবিদ পুরো কক্সবাজার জেলাকে উন্নয়নে ঢেলে সাজিয়েছিলেন।
সালাহ উদ্দিন মাহমুদ একজন সুবক্তাও। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তার প্রতি আকৃষ্ট হয়ে প্রশাসনিক দক্ষতার অর্জনের জন্য স্বাধীনতার পর তাকে সরকারীভাবে স্কলারশীপ দিয়ে বুলগেরিয়ায় পাঠিয়েছিলেন। প্রাচ্যের অক্সফোর্ড ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র থাকাকালীন কক্সবাজার মহকুমা মুজিব বাহিনীর (বিএলএফ) কমান্ডার হিসেবে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহন করেন। তিনি ছাত্রজীবন থেকেই বাংলাদেশের স্বাধীনতার পক্ষে আন্দোলন করেছেন। ৬২-এর শিক্ষা আন্দোলন, ৬ দফা ও ১১ দফা আন্দোলনসহ বিভিন্ন আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন। ওইসময় নির্যাতন ও কারাভোগ করেন। ১৯৬৫ সালে চট্টগ্রাম সরকারী বাণিজ্য কলেজ ছাত্র সংসদের সহ-সাধারণ স¤পাদক, ১৯৬৭ সালে যশোর জেলা ছাত্র লীগের সাধারণ স¤পাদক ছিলেন। ওই সময় সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন বর্তমান ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বীরেন সিকদার। পরবর্তী পর্যায়ে হুলিয়া মাতায় নিয়ে পালিয়ে চট্টগ্রামে আসেন। ১৯৬৯ সালে চট্টগ্রাম ছাত্রলীগ নেতা, ১৯৭০ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংস্কৃতিক অঙ্গনের স্বাধীনতাকামীদের সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান বাংলা জাতীয় সাংস্কৃতিক আন্দোলন বা বাজাসান্দোর প্রথম সাধারণ স¤পাদক নির্বাচিত হন। বাজাসান্দোর সভাপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নেতা প্রাক্তন মন্ত্রী ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম। ১৯৭৩ সালে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। এ সময় সভাপতি ছিলেন সাবেক মন্ত্রী শেখ শহীদুল ইসলাম। ১৯৭৪ সালে বুলগেরিয়া সরকারের স্কলারশীপ নিয়ে সুফিয়া সোস্যাল সায়েন্স ও পাবলিক এডমিনিষ্ট্রেশন একাডেমী থেকে প্রশাসনের উপর উচ্চতর ডিগ্রী লাভ করেন।
সালাহ উদ্দিন মাহমুদের জন্ম চকরিয়া উপজেলার বরইতলী ইউনিয়নের ডেপুটি বাড়ির সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে।