বিমানের ৭ কর্মকর্তা রিমান্ডে

biman-bangladesh_34569_1482403094.jpg

টেকনাফ টুডে ডেস্ক |
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বহনকারী বিমানের ইঞ্জিনে অয়েল (লুব্রিকেন্ট) সিস্টেমে নাট-বোল্ট খোলা থাকার ঘটনায় বাংলাদেশ বিমানের গ্রেফতারকৃত ৭ কর্মকর্তার রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার বিকালে ঢাকা মহানগর পুলিশের উপকমিশনার (মিডিয়া) মাসুদুর রহমান জানান, প্রত্যেকের ৭দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

রিমান্ড মঞ্জুর হওয়া কর্মকর্তারা হলেন, বাংলাদেশ বিমানের প্রধান প্রকৌশলী (প্রোডাকশন) দেবেশ চৌধুরী, প্রধান প্রকৌশলী (কোয়ালিটি অ্যাসিউরেন্স) এসএ সিদ্দিক, প্রিন্সিপাল ইঞ্জিনিয়ার (মেইনটেন্যান্স অ্যান্ড সিস্টেম কন্ট্রোল) বিল্লাল হোসেন, প্রকৌশল কর্মকর্তা সামিউল হক, লুৎফর রহমান, মিলন চন্দ্র বিশ্বাস ও জাকির হোসাইন।

একই ঘটনায় বৃহস্পতিবার সকালে বাংলাদেশ বিমানের প্রকৌশল কর্মকর্তা এসএম রোকনুজ্জামান ও টেকনিশিয়ান সিদ্দিকুর রহমানের জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত।

আদালতে আত্মসমর্পণ করে তারা জামিন আবেদন করলে ঢাকা মহানগর হাকিম স্নিগ্ধা রানী এ নির্দেশ দেন।

এর আগে মঙ্গলবার মধ্যরাতে বিমানবন্দর থানায় ৯ জনকে আসামি করে মামলাটি দায়ের করেন বাংলাদেশ বিমানের পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট) এমএম আসাদুজ্জামান।

বুধবার মামলার তদন্ত ভার কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটকে (সিটি) দেয়া হয়। ঢাকা মহানগর হাকিম গোলাম নবীর আদালতে আগামী ১২ জানুয়ারি তাদের প্রতিবেদন দাখিল কতে হবে।

উল্লেখ্য, গত ২৭ নভেম্বর হাঙ্গেরি যাওয়ার পথে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি বোয়িং ৭৭৭ বিমানে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেয়। এ সময় তুর্কমেনিস্তানের রাজধানী আশখাবাদে জরুরি অবতরণ করে বিমানটি।

পরে অন্য একটি বিমান পাঠিয়ে প্রধানমন্ত্রী ও তার সফরসঙ্গীদের হাঙ্গেরির বুদাপেস্টে পৌঁছানো হয়। পরে ত্রুটি সারিয়ে ওই উড়োজাহাজটিও হাঙ্গেরি পাঠানো হয়।

এ ঘটনায় গত ২৮ নভেম্বর বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স এবং বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) আলাদাভাবে কমিটি গঠন করে।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের প্রাথমিক তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে গত ৩০ নভেম্বর বিমানের ইঞ্জিনিয়ারিং ও কারিগরি বিভাগের ছয় কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করার কথা জানান রাশেদ খান মেনন। এরপর ১৪ ডিসেম্বর বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের তিনজন শীর্ষ প্রকৌশলীকেও সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।