কক্সবাজার সদর ও রামুর জনপ্রতিনিধিদের সাথে মতবিনিময়কালে এএইচ সালাহ্ উদ্দিন মাহমুদ

44444433333.jpg

সুযোগ দিন, কাজের মাধ্যমে দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে চাই
সংবাদ বিজ্ঞপ্তি:
আপনাদের হাতে হার-জিতের ক্ষমতা। আমাকে নির্বাচিত করে চেয়ারে বসার সুযোগ দিন। কাজের মাধ্যমে শুধু কক্সবাজারে নয়, সারাদেশে দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে চাই।
আগামী ২৮ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিতব্য কক্সবাজার জেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী (প্রতীক- মোটর সাইকেল) এএইচ সালাহ্ উদ্দিন মাহমুদ কক্সবাজার সদর ও রামুর বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান-মেম্বারদের সাথে মতবিনিময়কালে এসব কথা বলেন।
২১ ও ২২ ডিসেম্বর দুই দিনে সফরে সালাহ্ উদ্দিন মাহমুদ কক্সবাজার সদরের ইসলামপুর, ইসলামাবাদ, জালালাবাদ, ঈদগাঁও, পোকখালী, ভারুয়াখালী, রামুর রশিদ নগর, জোয়ারিয়া নালা, ফঁতেখারকূল, চাকমারকূল, রাজারকূল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, মেম্বারদের সাথে মতবিনিময় সভায় মিলিত হন তিনি।
এসময় তিনি জনপ্রতিনিধিদের কাছে আবেদন জানান, আমি কক্সবাজার জেলা পরিষদের প্রথম চেয়ারম্যান। আমার সময়কালের উন্নয়ন কর্মকান্ড এখনো ঈর্ষণীয়। কক্সবাজার জেলা পরিষদ ভবন নির্মাণ, টেকনাফের বিদ্যুতের গ্রীড লাইন, মহেশখালী জেটি, রামু কলেজসহ অনেক উন্নয়ন কর্মকান্ড আমার সময়কালে হয়েছে। বিভিন্ন উপজেলার স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা, মসজিদ, মন্দিরসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্টানের উন্নয়ন এখনো স্বাক্ষি।
সালাহ্ উদ্দিন মাহমুদ বলেন, আমি সততা দিয়েই এসব কাজ করেছি। আমার কোন লোভ-লালসা নেই বলেই এসব সম্ভব হয়েছে। দলমতের উর্ধ্বে ওঠে কাজ করতে শেষবারের মতো সুযোগ চাই।
তিনি বলেন, আপনাদের মূল্যবান ভোটই আমাকে ক্ষমতাবান করবে। সেই ক্ষমতা দিয়ে আমি মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে চাই। আমাকে একবার সুযোগ দিন। দুর্নীতিমুক্ত থেকে কিভাবে কাজ করা যায়, তা দেখিয়ে দেব। সালাহ্ উদ্দিন মাহমুদের দুই দিনের সফরসঙ্গি ছিলেন, জাতীয়পার্টির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মো. মনোয়ার আলম, সাংবাদিক আরমান চৌধুরী, অধ্যাপক এনামুল হক, আছাব উদ্দিন প্রমুখ।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এএইচ সালাহ্ উদ্দিন মাহমুদ ১৯৮৮ সালে উপ-মন্ত্রীর পদমর্যাদায় কক্সবাজার জেলা পরিষদের প্রথম জেলা চেয়ারম্যান নিযুক্ত হন। তার আমলে কক্সবাজার জেলার অভুতপূর্ব উন্নয়ন হয়েছে। তার সময়কালের নকশায় নির্মিত জেলা পরিষদ ভবন এখনো অদ্বিতীয়।
সালাহউদ্দিন মাহমুদ চকরিয়ায় নতুন হাসপাতাল নির্মাণ, চকরিয়া কলেজকে ডিগ্রি কলেজে উন্নীতকরণ, মাতামুহুরী নদীর উপর বাটাখালী সেতু নির্মাণ, পেকুয়া কাটাফাড়ি সেতু নির্মাণ, বাঘগুজারা সালাহ উদ্দিন ব্রীজ, বরইতলী-মগনামা ভায়া কুতুবদিয়া সড়ক নির্মাণ, চকরিয়া-বদরখালী সড়কের উন্নয়ন, চিংড়ি জমির সঠিক বরাদ্ধের মাধ্যমে চাষের উন্নয়ন করেছেন।
চকরিয়া উপজেলার বরইতলী ডেপুটি বাড়ির বাসিন্দা সালাহ উদ্দিন মাহমুদ ১৯৮৫ সালে বৃহত্তর চকরিয়া উপজেলার (চকরিয়া-পেকুয়া) প্রথম নির্বাচিত উপজেলা চেয়ারম্যান। ১৯৮৬ সালে তিনি কক্সবাজার-১ (চকরিয়া-পেকুয়া) আসন থেকে তৃতীয় ও ১৯৮৮ সালে চতুর্থ জাতীয় সংসদের সদস্য নির্বাচিত হন।
১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে তিনি মুজিব বাহিনী নামে খ্যাত ‘বাংলাদেশ লিবারেশন ফোর্স’ (বিএলএফ) কক্সবাজার মহকুমার কমান্ডার ছিলেন।
বরেণ্য রাজনীতিবিদ ও বীর মুক্তিযোদ্ধা এএইচ সালাহ উদ্দিন মাহমুদ সরকারের পরিবেশ ও বনমন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু’র নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টি জেপি’র কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির প্রভাবশালী প্রেসিডিয়াম সদস্য। দলের চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মঞ্জু ও মহাসচিব সাবেক মন্ত্রী শেখ শহিদুল ইসলামের খুব কাছের মানুষ ব্যক্তি হিসেবে তিনি পরিচিত। জাতীয় পার্টি ক্ষমতায় থাকাকালে বরণ্য এ রাজনীতিবিদ পুরো কক্সবাজার জেলাকে উন্নয়নে ঢেলে সাজিয়েছিলেন।
সালাহ উদ্দিন মাহমুদ একজন সুবক্তাও। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তার প্রতি আকৃষ্ট হয়ে প্রশাসনিক দক্ষতার অর্জনের জন্য স্বাধীনতার পর তাকে সরকারীভাবে স্কলারশীপ দিয়ে বুলগেরিয়ায় পাঠিয়েছিলেন।
প্রাচ্যের অক্সফোর্ড ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র থাকাকালীন কক্সবাজার মহকুমা মুজিব বাহিনীর (বিএলএফ) কমান্ডার হিসেবে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহন করেন।
তিনি ছাত্রজীবন থেকেই বাংলাদেশের স্বাধীনতার পক্ষে আন্দোলন করেছেন। ৬২-এর শিক্ষা আন্দোলন, ৬ দফা ও ১১ দফা আন্দোলনসহ বিভিন্ন আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন। ওইসময় নির্যাতন ও কারাভোগ করেন।
১৯৬৫ সালে চট্টগ্রাম সরকারী বাণিজ্য কলেজ ছাত্র সংসদের সহ-সাধারণ সম্পাদক, ১৯৬৭ সালে যশোর জেলা ছাত্র লীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। ওই সময় সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন বর্তমান ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বীরেন সিকদার। পরবর্তী পর্যায়ে হুলিয়া মাতায় নিয়ে পালিয়ে চট্টগ্রামে আসেন।
১৯৬৯ সালে চট্টগ্রাম ছাত্রলীগ নেতা, ১৯৭০ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংস্কৃতিক অঙ্গনের স্বাধীনতাকামীদের সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান ‘বাংলা জাতীয় সাংস্কৃতিক আন্দোলন’ বা ‘বাজাসান্দো’র প্রথম সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। বাজাসান্দোর সভাপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নেতা প্রাক্তন মন্ত্রী ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম।
১৯৭৩ সালে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। এ সময় সভাপতি ছিলেন সাবেক মন্ত্রী শেখ শহীদুল ইসলাম।
১৯৭৪ সালে বুলগেরিয়া সরকারের স্কলারশীপ নিয়ে সুফিয়া সোস্যাল সায়েন্স ও পাবলিক এডমিনিষ্ট্রেশন একাডেমী থেকে প্রশাসনের উপর উচ্চতর ডিগ্রী লাভ করেন। সালাহ উদ্দিন মাহমুদের জন্ম চকরিয়া উপজেলার বরইতলী ইউনিয়নের ডেপুটি বাড়ির সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে।