টেকনাফ সীমান্তে নবাগত রোহিঙ্গাদের নিয়ে লাভবান হচ্ছে তিন শ্রেণীর মুনাফা লোভীঃ দালাল, আশ্রয়দাতা ও অর্থের যোগাদানদাতা

Teknaf-Pic-19-12-2016.-A.jpg

বিশেষ প্রতিবেদক ।।
টেকনাফ সীমান্ত দিয়ে নতুন অনুপ্রবেশকারী রোহিঙ্গাদের পুঁজি করে তিন শ্রেণীর মুনাফা লোভীরা লাভবান হচ্ছে।

সীমান্ত পারাপারের দালাল, স্থানীয় আশ্রয়-পশ্রয়দাতা, জমি বা ভাড়া বাসার মালিক ও সহায়তার নামে অর্থের যোগানদাতা ব্যক্তিরা।

গেল অক্টোবর মাস থেকে মিয়ানমারের আরকান রাজ্যে মুসলিম অধ্যুষিত এলাকায় সীমান্ত চৌকিতে সন্ত্রাসী হামলার অজুহাতে সে দেশের মিলিটারী বাহিনী কর্তৃক রাখাইনদের ইশারায় সংখ্যালঘু মুসলিমদের উপর চালানো অব্যাহত জুলুম নির্যাতন, গণধর্ষণ, হত্যা, লুটতরাজ ও অগ্নিসংযোগ করে বিভিন্ন পন্থায় সেদেশ থেকে মুসলিমদের বিতাড়নের পথ সৃষ্টি করে চলেছে। শুধু তাই নয় ১৯৭৮ সাল থেকে এ পর্যন্ত যতবারই মিয়ানমারের সংখ্যালুঘু মুসলিমরা এদেশে এসেছে ততবারই এসব জুলুম নির্যাতনের শিকার হয়ে তারা এদেশে এসেছে। এসব নির্যাতিত নিপীড়িত মুসলমানরা একটু আশ্রয় নিয়ে প্রাণে বাঁচতে নিজেদের জন্মভূমি সহায় সম্পত্তি, ঘর-বাড়ী ত্যাগ করে এদেশে চলে আসছে।

প্রাণে বাঁচার তাগিদে চলে আসা এসব রোহিঙ্গা মুসলিম নারী-পুরুষ শিশুদের পুঁজি করে প্রথম লাভবান হচ্ছে সীমান্ত পয়েন্ট গুলোতে রোহিঙ্গা পারাপারের সহায়তাকারী দুদেশের দালাল চক্র। যার উভয় পার থেকে সহায়তার নামে নিরীহ এসব লোকজনের কাছ থেকে দালালী হিসেবে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি স্বর্ণালংকার, মূল্যবান জিনিষপত্র লুটে নেয় এবং আগত লোকজনদের মাধ্যমে ফুসলিয়ে মাদক দ্রব্য এনে বিপদে ঢেলে দিয়ে নিজেরা লাভবান হয়।

দ্বিতীয়ত লাভবান হচ্ছে, এপারের স্থানীয় প্রভাবশালী, আশ্রয় পশ্রয় দানকারী মুনাফা লোভী জমি ও দালান বাড়ী ও ভাড়া বাসার মালিকরা যারা নিজেদের ভিটে বাড়ীতে আগত রোহিঙ্গাদের আশ্রয়-পশ্রয় দেওয়ার নামে ক্যাম্পের বাহিরে আশপাশের গ্রাম গুলো বাসা বাড়ী নির্মাণ ও মিনি ক্যাম্প স্থাপন করে দিয়ে ভাড়াটে হিসেবে মোটা অংকের অর্থ হাতিয়ে নিয়ে প্রতিনিয়ত মানবতা বিরোধী কাজে জড়িয়ে পড়ছে।

তৃতীয়ত লাভবান হচ্ছে, এসব বিপদে পড়ে আসা রোহিঙ্গাদের দেশেÑবিদেশী সাহায্য সহযোগিতা দেওয়ার নামে স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী ব্যবসায়ী, আলেম-ওলামা ছদ্মবেশী লোকজন ও এলাকার বাহির থেকে আসা অপরিচিত কিছু উস্কানি দাতা শ্রেণীর লোকজন। যারা প্রতিনিয়ত সহায়তার নামে দেশী-বিদেশী এজেন্টদের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা নিয়ে এসে রোহিঙ্গাদের নামে মাত্র লোক দেখানো কিছু কিছু টাকা ও ত্রাণ সামগ্রী দিয়ে মোটা অংকের টাকার বেশীরভাগ অংশ ঐ সমস্ত লোকজন পকেটস্থ করে নিজেরা লাভবান হচ্ছে বলে, সংশ্লিষ্ট একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে।

আর সীমান্তবর্তী এলাকা হওয়ায় দ্রুত গতিতে এসব সহায়তাও আশ্রয়-পশ্রয় দেওয়ার কথা আরকান রাজ্যে পৌছলে এপারে চলে আসতে রোহিঙ্গা মুসলিমরা আরো উৎসাহিত হয়। ফলে সীমান্ত প্রশাসনের কড়া নজরদারীর মাঝেও উক্ত সহায়তাদানকারী আশ্রয়-পশ্রয়দানকারী এসব মুনাফালোভীদের ইশারায় দু’পারের দালাল চক্রের হাত ধরে প্রতিনিয়ত টেকনাফ সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে শত শত রোহিঙ্গা নারী-পুরুষ, শিশু এপারে বানের ¯্রােতের মত চলে আসছে। এসব রোহিঙ্গা আসা বন্ধ করতে হলে, পারাপারের ঘাট সংশ্লিষ্ট দালার চক্র, আশ্রয়-পশ্রয়দানকারী জমি বা ভাড়া বাসার মালিক ও অর্থ সহায়তাদানকারী মুনাফালোভী ও ঐসব লোকদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি দু’দেশের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পর্যায়ে সিদ্ধান্ত নিয়ে বাংলাদেশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা ও রোহিঙ্গা ক্যাম্প গুলোতে অবস্থানরত প্রায় সাড়ে ৫ লাখেরও বেশী রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে প্রত্যাবাসনের মাধ্যমে রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে এগিয়ে আসতে হবে বলে সচেতন মহল মনে করেছেন।