উখিয়ায় ইয়াবা ব্যবসায়ীদের হামলায় মাছ ব্যবসায়ীর অবস্থা সংকটাপন্ন

S.M.Gafur-Pic-19-12-20161.jpg

শ.ম.গফুর, উখিয়া :
উখিয়ার বালুখালীতে আইন শৃংখলা বাহিনীকে ইয়াবার চালান ধরিয়ে দেওয়ার অজুহাত তুলে এক মাছ ব্যবসায়ীকে পেশাচিক কায়দায় মারধর ও নগদ ৬২ হাজার টাকা ছিনিয়ে নিয়েছে ইয়াবা সিন্ডিকেট। গত ১৮ ডিসেম্বর বিকাল ৪ ঘটিকার সময় বালুখালীর পশ্চিম পাড়াস্থ মকবুল আহাম্মদের দোকানের সম্মুখে এ ঘটনা ঘটে। এ ব্যাপারে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের হাতে গুরুতর জখমী জুমের ছড়া এলাকার বদিউর রহমানের পুত্র আবদুল হাকিমের স্ত্রী রোকসানা আক্তার বাদী হয়ে উখিয়া থানায় এজাহার দায়ের করেছে। দায়েরকৃত এজাহার সূত্রে জানা যায়, বালুখালী পশ্চিম পাড়ার আলী আহমদের পুত্র পুলিশের চাকুরীচ্যুত (ইয়াবা ব্যবসার কারণে) আলা উদ্দিন ও তার ভাই জমির উদ্দিন (২০১২ সালে ইয়াবা সহ উখিয়া থানায় আটক মামলা নং- ০৮/১২), একই এলাকার মোঃ হোছনের প্ত্রু নুরুল ইসলাম মুন্না ও বদিউর রহমান সিকদারের পুত্র আনোয়ার ইসলাম এর নেতৃত্বে অজ্ঞাত নামা আরো ২/৩ জন ইয়াবা ব্যবসায়ী মিলে মাছ ব্যবসায়ী আবদুল হাকিম ওই দিন বিকালে সদায় করে বাড়ি ফেরার পথে পশ্চিম পাড়া মকবুল আহম্মদের দোকান সংলগ্ন পৌছলে পূর্ব থেকে উৎপেতে থাকা উল্লেখিত ইয়াবা ব্যবসায়ীরা ইয়াবার চালান ধরিয়ে দেওয়ার অজুহাত তুলে ৩ লক্ষ টাকা দাবী করে বেধড়ক মারধর করে ঘটনাস্থল থেকে ৩ শ গজ পশ্চিমে পাহাড়ে নিয়ে যায় এবং পকেটে থাকা নগদ ৬২ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়। ঐখানে আবদুল হাকিমকে অভিযুক্তরা পেশাচিক কায়দায় নির্যাতন চালিয়ে শরীরের বিভিন্ন অংশে রক্তাক্ত জখম করে হত্যা চেষ্টা চালায় বলে অভিযোগ আনা হয়। খবর পেয়ে আবদুল হাকিমের লোকজন ও প্রতিবেশীরা পাহাড় থেকে মুমর্ষ অবস্থায় তাকে বিবাদীদের কবল থেকে উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তার অবস্থা সংকটাপন্ন বলে জানা গেছে। অভিযুক্ত ইয়াবা ব্যবসায়ীদের ইয়াবার একটি বিশাল চালান গত মাস দু’য়েক পূর্বে চট্টগ্রামে আইন শৃংখলা বাহিনীর হাতে আটক হয়। ওই ইয়াবার চালান আবদুল হাকিম ধরিয়ে দিয়েছে মর্মে অভিযুক্ত করে ৩ লক্ষ টাকা দাবী করিয়া আসছিল বিবাদীরা। এর জের ধরে এ পেশাচিক কায়দার ঘটনা ঘটায় অভিযুক্ত ইয়াবা ব্যবসায়ীরা। এ ব্যাপারে পালংখালী ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান নুরুল আবছার চৌধুরী জানান, আবদুল হাকিমকে পেশাচিক কায়দায় নির্যাতন করা হয়েছে। তার অবস্থা আশংখা জনক। এ ব্যাপারে অভিযুক্তদের আলা উদ্দিন জানান, আবদুল হাকিমের নিকট থেকে ২ লক্ষ ৬২ হাজার টাকা পাওনা আছি। কালক্ষেপন করায় মৃদু সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। উভয় পক্ষকে নিয়ে আপোষ মিমাংশা চেষ্টা চালিয়ে ব্যর্থ হয়েছি। উখিয়া থানার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই জাকির হোসেন জানান, উভয় পক্ষ পাল্টাপাল্টি অভিযোগ দিয়েছে। তদন্ত পূর্বক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। উখিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ আবুল খায়ের জানান, দু’পক্ষই অভিযোগ দিয়েছে তদন্ত পূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হইবে।