টেকনাফে পূর্ব শত্রুতার জেরধরে সংঘর্ষে আহত-১১: বসত-বাড়ি ভাংচুর

Teknaf-Pic-B-17-12-16.jpg

সাদ্দাম হোসাইন, হ্নীলা।
টেকনাফের হ্নীলায় তুচ্ছ বিষয় নিয়ে বিদ্যমান দু‘গ্রুপের পাল্টা-পাল্টি হামলায় উভয়পক্ষের ১১জন আহত এবং বসত-বাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটেছে। আহতদের হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে এবং মামলা দায়ের করা হয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়-গত ১৬ডিসেম্বর সন্ধ্যা ৭টারদিকে উপজেলার হ্নীলা বাসষ্টেশনের পশ্চিম সিকদারপাড়া দারুস সুন্নাহ রোডে বাড়ি ফেরার পথে পূর্ব শত্রুতার জেরধরে ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীরের উপর সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটে। হামলাকারীরা ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীরের নগদ ১লক্ষ টাকা,এন্ড্রয়েড মুঠোফোন ছিনিয়ে নিলে শোর-চিৎকারে স্ত্রীসহ পরিবারের লোকজন এগিয়ে এলে ২টি গলার স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেয়। এতে অন্যান্যদের উপর হামলা হলে মৃত মোহাম্মদ হারুনের পুত্র মৌলভী রুস্তম আহমদ,ছৈয়দ আহমদের পুত্র জামাল হোছন,মোহাম্মদ ইউছুপ,মৌলভী রুস্তম আহমদের পুত্র জাহাঙ্গীর আলম,সাবের আহমদ,ছৈয়দ আহমদের স্ত্রী আয়েশা বেগম ও মৌলভী রুস্তম আহমদের স্ত্রী নুর ছেমন আহত হয় এবং মৌলভী রুস্তম আহমদ ও ছৈয়দ আহমদের বসত-বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাংচুর করা হয়। হামলাকারীরা লম্বা দা নিয়ে হ্নীলা বাসষ্টেশনে মহড়া দিয়ে জনমনে আতংক সৃষ্টি করে। এরপর আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য স্থানীয় ও উপজেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য প্রেরণ করা হয়। সেখানে অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় মৌলভী রুস্তম আহমদ ও জামালকে উন্নত চিকিৎসার জন্য কক্সবাজার হাসপাতালে রেফার করা হয়। এই ঘটনার খবর পেয়ে টেকনাফ থানার সেকেন্ড অফিসার কাঞ্চন কান্তি দাশের নেতৃত্বে একদল পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। এই ব্যাপারে রক্তাক্ত জাহাঙ্গীরের স্ত্রী সনজিদা বেগম (২৫) বাদী হয়ে টেকনাফ মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। যার নং-৫৬।এই ব্যাপারে জিয়াউল বশির শাহীনকে প্রধান আসামী করে ১০জনের বিরুদ্ধে টেকনাফ মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এই ব্যাপারে হামলাকারী পক্ষের জিয়াউল বশির শাহীন বলেন-অভিযোগকারী পক্ষের সাথে দীর্ঘদিন ধরে আমাদের বসত-ভিটা বিরোধ চলে আসছে।তার উপর দোকানদারের বকেয়া টাকা পরিশোধের বিষয় নিয়ে দোকানদারকে হামলার কারণে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে এবং শাহীন পক্ষের ছৈয়দ আহমদ ছৈয়তুর পুত্র জিয়াউল বশির শাহীন,মৃত কামাল আহমদের পুত্র জামাল উদ্দিন,মোঃ ইউনুছ এবং দোকানদার মোঃ আমিন আহত হয়। আহত পক্ষের সাবের আহমদ বলেন-উক্ত অভিযোগ ভিত্তিহীন। আমার ভাই তৌহিদের উপর হামলার ঘটনায় মামলা হওয়ায় পূর্ব পরিকল্পিতভাবে কোন কারণ ছাড়াই শাহীন বাহিনী দা-কিরিচ ও লোহার রড আমার মা,চাচী,ভাই ও বৃদ্ধ পিতার উপর হামলা চালিয়ে রক্তাক্ত করেছে। তবে এই ঘটনায় আবারো দু‘পক্ষের মধ্যে অপ্রীতিকর ঘটনার আশংকা রয়েছে।