উখিয়ার রোহিঙ্গা শরনার্থী শিবিরে ২ জঙ্গি ক্যাডার গ্রেপ্তার

jongi.jpg

নিজস্ব প্রতিনিধি, উখিয়া |
রোহিঙ্গাদের উস্কানি দাতা ও মিয়ানমার বিদ্রোহী রোহিঙ্গা সংগঠন (আরএসও) রোহিঙ্গা সলিডারীটি অরগানিজেশনের ২ জঙ্গি ক্যাডারকে গতকাল রোববার সকালে কুতুপালং ক্যাম্প ইনচার্জের নির্দেশে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। তারা রোহিঙ্গাদের ত্রাণ সামগ্রী বিতরণের নামে লাখ লাখ টাকা আত্মসাত করেছে। ক্যাম্পের অভ্যন্তরে গড়ে তুলেছে ঔষুধের দোকান। বিভিন্ন এনজিও সংস্থার ত্রাণ সামগ্রী তারা রোহিঙ্গাদের দেওয়ার কথা বলে নিজের পকেটস্থ করেছে।
কুতুপালং ক্যাম্প এলাকা ঘুরে জানা যায় সাইদুল আজিমের পরিচালক মৌলভী জানে আলম, তাদের সাথে জড়িত রয়েছে মৌলভী জুবায়ের, আবু ছিদ্দিক, মোঃ নুর, মৌলভী আয়ুব। আরো একটি সংগঠন গঠন করেছে ‘ফারদ্বীন ইসলাম’।
ইতেহাদুল জামিয়া তারা রোহিঙ্গা ক্যাম্পের অভ্যন্তরে রোহিঙ্গা যুবকদের অস্ত্রের প্রশিক্ষণ দেয় বলে রোহিঙ্গাদের নিকট থেকে জানা গেছে।
১৯৯১ সালে মিয়ানমার জান্তার সরকারের নির্যাতন নিপিড়নের কথা বলে আড়াই লক্ষাধিক রোহিঙ্গা এদেশে চলে আসে। তাদেরকে রামু, নাইক্ষ্যংছড়ি, উখিয়-টেকনাফ এলাকায় আশ্রয় শিবিরে উদ্ভাস্তদের সরকার সাহায্য- সহযোগীতা করে যায়। কিন্তু তারা রোহিঙ্গা বিদ্রোহী ক্যাডারেরা এর আগে নাইক্ষ্যংছড়ির জারাইল্যাছড়ি এলাকায় ঘাঁটি করে অস্ত্রের প্রশিক্ষণ দিতো, ওখানে সরকার অভিযান চালালে আরএসও নেতা ডিপু জাফর, ওসমান, ডা. জয়নাল, ডা. সেলিমসহ ৩শতাধিক ক্যাডার কুতুপালং ক্যাম্পে আশ্রয় নেয়। তারা রোহিঙ্গাদের দেশে না ফেরার জন্য উস্কানি দিয়ে থাকে। ১৯৯১ সালের শেষের দিকে বেশির ভাগ রোহিঙ্গা ফেরত গেলেও কুতুপালং শিবিরে এখনো অবস্থান করছে ১৩ হাজার ৭শত ২৭ জন।
২০১২ সালে মিয়ানমারে আবারো নির্যাতন নিপিড়নের কথা তুলে প্রায় ৫০ হাজারের অধিক রোহিঙ্গা কুতুপালং রোহিঙ্গা বস্তিতে বন বিভাগের জায়গা দখল করে ঝুপড়ি ঘর নির্মান করে বসবাস করে আসছে।
২০০৫ সালের নাগাদ রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায় এবং রয়ে যায় অনেক রোহিঙ্গা।

২০১৬ সালের ৯ অক্টোবর রোহিঙ্গা বিদ্রোহী ক্যাডারেরা মংডু শহরে সেনা বাহিনীর ক্যাম্পে হামলা চালিয়ে ৯জন সেনা সদস্যকে হত্যা করে। এর পর থেকে মিয়ানমার আরকান রাজ্যের রাখাইন প্রদেশের বিদ্রোহী গ্রেপ্তারের কথা বলে মিয়ামার সেনা, পুলিশ, শসস্ত্র রাখাইন যুবকেরা রোহিঙ্গা মুসলিম অধ্যুসিত এলাকা খিয়ারী পাড়া, নাফফুরা, নাইসাদং, নয় পাড়া, পয়মলি এলাকা গুলোতে নির্বিচারে হত্যা করে মুসমানদের। যুবতীদেরে ধর্ষণ গ্রেপ্তার নির্যাতন, নিপিড়ন চলতে থাকায় আবারও ৩০ে হাজারের অধিক রোহিঙ্গা এদেশে চলে আসে। বেশির ভাগ রোহিঙ্গা বস্তিতে আশ্রয় নিলেও যাদেরে টাকা পয়সা আলে তারা কক্সবাজার চট্টগ্রামের দিকে চলে যায়।

গতকাল রোববার সকালে উখিয়ার কুতুপালং ক্যাম্প ইনচার্জ আরমান শাকিলের নির্দেশে ক্যাম্প পুলিশ রোহিঙ্গা বিদ্রোহী সংগঠন রোহিঙ্গা সলিডারী অরগাইনিজেশনের অস্ত্র প্রশিক্ষক ডা. ডিপু জাফর ও তার সহযোগী ওসমানকে আটক করেছে বলে জানা গেছে। তবে তাদের ছেড়ে নিতে প্রভাবশালী মহল ক্যাম্প ইনচার্জকে চাপ দিয়ে যাচ্ছে বলে নির্ভরযোগ্য সুত্রে জানা গেছে।

উখিয়ার কুতুপালং ক্যাম্প ইনচার্জ আরমান শাকিল বলেন, দুই রোহিঙ্গা যুবককে বিভিন্ন অভিযোগের ভিত্তিতে ক্যাম্প কার্যালয়ে নিয়ে আশা হয়েছে।