কক্সবাজার শিল্প ও বাণিজ্য মেলা : শুরুতেই জমে উঠেছে, বাহারী পণ্যের বিপুল সমাহার

7-e1481863337557.jpg

শাহেদ মিজান:
উদ্বোধন হওয়ার সাথে সাথেই জমে উঠেছে কক্সবাজার শিল্প ও বাণিজ্য মেলা। ১৫ ডিসেম্বর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিপুল দর্শক সমাগমের পর ১৬ ডিসেম্বরও বিপুল দর্শনার্থীতে কানায় কানায় উঠে বিশাল মেলা প্রাঙ্গণ। মেলা বসা দশনার্থীরা মেলা উপভোগ করার পাশাপাশি কেনাকাটাও করেছেন বেশ। ফলে প্রথম দিনেই জমে উঠে কক্সবাজারের মানুষের আকাঙ্খিত এই মেলা। দর্শকদের নিরাপত্তায় মেলায় পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। এই নিয়ে ব্যবসায়ী ও দর্শনার্থী উভয় সন্তোষ্ট।

১৬ ডিম্বেবর সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, বিজয় দিবসের ছুটির সাথে বিপুল দর্শানার্থী মেলায় এসেছেন। দর্শকদের পদভাবে মুখরিত হয়ে উঠে মেলা প্রাঙ্গণ। মেলায় আসা দর্শনার্থী শুধু মেলায় ঘুরে দেখে ক্ষান্ত থাকেনি। তারা প্রচুর কেনাকাটাও করেছেন। ফলে মেলায় বসা রকমারী পণ্যের দোকানীদের বেচাকেনায় হিমশিম খেতে হয়েছে। অন্যদিকে নাগরদোলাসহ শিশুদের জন্য আয়োজিত নানা খেলনা স্পটগুলোতে প্রচন্ড ভিড় দেখা গেছে। মেলায় স্থানীয় দর্শকদের পাশপাশি বিপুল পর্যটকও সমবেত হন। সারা দিন শেষেও রাতে ভিড় করেছে বিপুল দর্শক।

শিশুদের বিনোদন

মেলায় বসেছে, সব ধরণের পোশাক থেকে শুরু করে, দৈনন্দিন ব্যবহৃত নানা ধরণের আসবাব, খেলনা, মেয়েদের সাজসজ্জার সামগ্রী, শীতকালীন পোশাক। বিনোদনের জন্য রয়েছে, সার্কাস, যাদুখেলা এবং শিশুদের জন্য রয়েছে নাগরদোলা, শাটল ট্রেন, কারসহ নানা বিনোদন সামগ্রী। পাশপাশি উন্নত মানের খাবারের বিভিন্ন ব্র্যান্ডের রেষ্টোরন্ট বসেছে। সব ক্ষেত্রে মিলছে সাশ্রয়ী মূল্যে উন্নত পণ্য ও সেবা। এছাড়াও মেলার গেইট, সুউচ্চা বাহারী টাওয়ার, চোখ ধাঁধানো ঝরণাসহ নানা বিনোদন স্থাপনা দর্শকদেরদ দারুণভাবে মোহিত করছে।
মেলায় আসা কলেজছাত্রী শাইরিন বলেন, ‘কক্সবাজার শিল্প ও বাণিজ্য বরাবরই আমাকে টানে। বিগত বছরে আয়োজিত মেলাগুলোতে প্রায় সময় আসা হতো। চলতি বছরও সুযোগ হওয়ায় শুরুতেই মেলার চলে আসলাম। সাথে আমার পরিবারের বেশ কয়েকজন সাথে রয়েছে। বেশ কিছু কেনাকাটাও করেছি। দাম খুব সাশ্রয়ী হওয়ায় কেনাকাটা অনেক স্বাচ্ছন্দ্য পেয়েছি।’ শাইরিনের মতো আরো অনেক দর্শনার্থী এমন অভিব্যক্তি জানিয়েছেন।
কাপড় দোকানী আবদুল কাদের বলেন, ‘শুরু থেকেই প্রচুর বেচাকেনা হচ্ছে। মেলায় অধিকাংশ দর্শকই কেনাকাটা করছেন। এভাবে আশা করছি সামনের দিনগুলোতেও ব্যবসা ভালো হবে।’

মেলা বাস্তবায়ন কমিটির প্রধান সমন্বয়ক শাহেদ আলী শাহেদ জানান, শীত মৌসুমে কক্সবাজারে আগত পর্যটকদের বাড়তি বিনোদনের খোরাক যোগাতে শহরের পর্যটন এলাকার হোটেল সী-প্যালেসের সামনের খেলার মাঠেই চলছে কক্সবাজার শিল্প ও বাণিজ্য মেলা। কক্সবাজার জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের আয়োজনে ও কক্সবাজার চেম্বার অব কর্মাস এন্ড ইন্ডাস্ট্রির সহযোগিতায় দুই মাস ধরে চলবে। মেলায় শিশু বিনোদনের জন্য থাকবে ট্রেন রাইড, নৌকা রাইড, কার গেইম, গেইম কার্ড সহ নানা ব্যবস্থা। এছাড়া মেলায় আগতদের বিনোদনের জন্য থাকবে দেশের খ্যাতনামা শিল্পীদের পরিবেশনায় সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা। ১১৬টি রাউন্ড স্টল ও ২২টি প্যাভিলিয়ন স্টল করা হয়েছে মেলায়। এছাড়াও থাকছে চায়না বাংলা, কেয়াস, ক্লাসিকাল হোম টেক্স, রক ও কালেকশন এবং আর এফ এলের নিজস্ব স্টল ও চাইনিজ রেষ্টুরেন্ট। সবচেয়ে আর্কষণীয় স্টলের জন্য করা হয়েছে পুরষ্কার ঘোষণা।

শাহেদ আলী জানান, মেলায় নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। নিজস্ব ৬০ জন স্বেচ্ছাসেবকের পাশাপাশি মেলায় নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত থাকবে সিকউরিটি কোম্পানির ১৮ জনের একটি দল। এছাড়া ২২টি সিসি ক্যামেরা দ্বারা মেলার মাঠ সহ আশেপাশে এলাকা পর্যবেক্ষণ করা হবে।

রয়েছে গৃহস্থালী সব সামগ্রী

দায়িত্ব এক পুলিশ কর্মকর্তা জানান, মেলার নিরাপত্তাকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে নিয়ে পুলিশ। তাই মেলার নিরাপত্তার জন্য বিপুল সংখ্যক পুলিশ রাতদিন নিয়োজিত রয়েছে। এছাড়াও আমর্ড পুলিশ ও আনসার বাহিনীর বেশ কিছু সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছেন। সাথে রয়েছে মেলা কমিটির স্বেচ্ছাসেক ও নিরাপত্তার কর্মীরা।

মেলা কমিটির সদস্য সচিব কাজী মোর্শেদ আহমদ বাবু বলেন, ১০ ডিসেম্বর উদ্বোধনের কথা থাকলে একটি জটিলতা কারণে তা পিছিয়ে ১৫ ডিসেম্বর করা হয়। ওই দিন বিশাল অনুষ্ঠানের মাধ্যমে মেলার উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধনের অনুষ্ঠানে বিপুল লোক সমাগম হয়।

রয়েছে ভিন্ন স্বাদের খাবার দোকান

বিগত বছরের চেয়েও এবারের মেলায় শিশু বিনোদনের ব্যবস্থা বাড়ানো হয়েছে। মেলাকে আন্তর্জাতিক মানের করার সব আয়োজন করা হচ্ছে। এটি দেশের অন্যতম একটি আকর্ষণীয় মেলা হয়ে উঠেছে। পর্যটকদের বাড়তি বিনোদনের ব্যবস্থাও রয়েছে এখানে।