ইয়াবা ব্যবসায়ী ও ওসির অবৈধ হোটেল নির্মাণ বন্ধ করল পরিবেশ অধিদফতর

214456Cox_kalerkantho_Pic.jpg

কালের কন্ঠ অনলাইন |
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তালিকাভুক্ত শীর্ষ ইয়াবা কারবারি ও একজন পুলিশ কর্মকর্তা যৌথভাবে মিলে কক্সবাজার শহরের সাগর পাড়ের হোটেল-মোটেল জোনে অবৈধভাবে একটি আবাসিক হোটেল নির্মাণ করছেন। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে পরিবেশ অধিদফতর কক্সবাজার কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক অভিযান চালিয়ে হোটেলটির নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দিয়েছেন।

সহকারী পরিচালক সর্দার শরিফুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, তিনি জানতে পেরেছেন বিলাস বহুল হোটেলটির মালিক হচ্ছেন টেকনাফের তালিকাভুক্ত ইয়াবা কারবারি সাইফুল করিম ও চট্টগ্রামের কোতোয়ালি থানার ওসি জসিম উদ্দিন নামের এক পুলিশ কর্মকর্তা।

তিনি আরো জানান, ‘হোটেলটি নির্মাণে পরিবেশ অধিদফতরের কোনো ছাড়পত্র নেওয়া হয়নি। এছাড়া কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের ছাড়পত্রও নেই। অভিযানকালে কোনো কাগজপত্র কর্তৃপক্ষ দেখাতে না পারায় নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ’

জানা গেছে, সৈকতের কলাতলী হোটেল-মোটেল জোনের পিছনে ডিভাইন ইকো রিসোর্টের পাশে একটি ভবনের নির্মাণ কাজ চলছে। ১৫/২০ জন শ্রমিক দ্রুতগতিতে ভবনটির দ্বিতীয় তলার কাজ শেষ করার চেষ্টা করছেন। কাজ তদারকি করছেন কেয়ারটেকার ওসমান।

কেয়ারটেকার ওসমান বলেন, ‘হোটেলটির মালিক চট্টগ্রাম কোতোয়ালি থানার ওসি জসিম এবং টেকনাফের সাইফুল করিম। তারা দুজনই মাঝে-মধ্যে এসে কাজ দেখাশুনা করেন। তবে সার্বক্ষণিক কাজ দেখভাল করেন রাশেদ আবেদিন সবুজ। রাশেদই শ্রমিকদের বেতন ও অন্যান্য বিষয়ে লেনদেন করেন। ’

স্থানীয় কয়েকজন জানান, হোটেলটিতে কক্সবাজার সদর মডেল থানার সাবেক ওসি জসিম উদ্দিন এবং দেশের তালিকাভুক্ত শীর্ষ ইয়াবা কারবারি টেকনাফের সাইফুল করিমকে মাঝে-মধ্যে আসতে দেখা যায়। তাদের সেখানে শ্রমিকদের বিভিন্ন কাজ দেখিয়ে দিতেও দেখা গেছে।

স্থানীয়রা আরও জানান, টেকনাফের সাইফুল করিমের পক্ষে শহরের নুরপাড়ার বাসিন্দা ছাত্রদলের সাবেক নেতা ও নিরিবিলি অর্কিডের ম্যানেজার রাশেদ আবেদিন সবুজ হোটেলটি নির্মাণের কাজ দেখাশুনা করেন। এছাড়া সাইফুল করিমের আরও কয়েকটি কাজ তিনি দেখাশুনা করেন।

সাইফুল করিমের মোবাইল ফোনে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। তবে চট্টগ্রামের কোতোয়ালি থানার ওসি জসিম উদ্দিন বলেন, ‘আমি একজন সরকারী কর্মকর্তা। আমি কেন এভাবে ভবন করতে যাবো। এসব আমার নয়। ’

এ প্রসঙ্গে পরিবেশবাদী সংগটন কক্সবাজার বন ও পরিবেশ সংরক্ষণ পরিষদের সভাপতি দীপক শর্মা দীপু জানান, ‘কক্সবাজার সদর মডেল থানায় ওসি হিসাবে কর্মরত থাকাকালীন সময়ে জসিম উদ্দিনকে সাগর পাড়ের জায়গাটি তত্বাবধান করতে দেখেছি। ’

এ ব্যাপারে কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান লে. কর্ণেল (অবঃ) ফোরকান আহমেদ বলেন, ‘হোটেলটি নির্মাণে কোনো ছাড়পত্র নেওয়া হয়নি। জনবল না থাকায় আমরা অভিযান শুরু করতে পারছি না। তবে জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।