গর্জনিয়ায় স্কীম ম্যানেজারের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা মিলেছে

Ovijog_1.jpg

শামীম ইকবাল চৌধুরী,নাইক্ষ্যংছড়ি(বান্দরবান)থেকেঃঃ
রামু উপজেলার গর্জনিয়া ইউনিয়নের বোমাংখিল কৃষি সেচ প্রকল্পের স্কীম ম্যানেজার ফরিদ আহমদ চৌধুরীর বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাচারিতা ও অনিয়মের প্রাথমিক সত্যতা পেয়েছে কৃষি বিভাগ। বুধবার ১৪ডিসেম্বর বিকেল সাড়ে চারটায় গর্জনিয়া বিদ্যাপীঠ হল রুমে ইউনিয়নের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা উত্তম কুমার চৌধুরী কৃষক এবং জমির মালিকগণ থেকে লিখিত ও মৌখিক বক্তব্য নেন।
উত্তম কুমার চৌধুরী বলেন, স্কীম ম্যানেজার ফরিদ আহমদ চৌধুরীর বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে অন্তত: ১২৫জন কৃষক ও জমির মালিকগণ রামু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবরে সম্প্রতি লিখিত অভিযোগ দেন। অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য আমাকে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা দায়িত্ব দিয়েছেন। তাই কৃষক এবং জমির মালিকগণকে এক স্থানে জড়ো করে বুধবার বিকেলে স্বাক্ষ্য গ্রহন করা হয়। অভিযোগের সত্যতা পেয়েছি। বিষয়টি আমি প্রতিবেদন আকারে দাখিল করবো। পরবর্তীতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সিদ্ধান্ত নিবেন।
অভিযোগ যাচাইকালে কৃষক মদন শর্মার বিধবা স্ত্রী বলেন, বোমাংখিল কৃষি সেচ প্রকল্পের স্কীম ম্যানেজার ফরিদ আহমদ চৌধুরী পানি না দিয়ে অতিরিক্ত টাকা আদায় করতো। ইতিপূর্বে অতিরিক্ত টাকা না দেওয়ায় তিনি জোরপূর্বক আমার স্বামীর হালের গরু নিয়ে যায়। প্রভাবশালী হওয়ায় এই বিচার আমরা এখনো পায়নি। শুক্কুর শর্মা নামের আরেক কৃষক বলেন, ফরিদ আমহদ চৌধুরীর বাড়ির আঙিনায় আমার পাওয়ার টিলার রেখেছিলাম আমানত হিসাবে। কিন্তু তিনি আমাকে না বলেই তা বিক্রী করে টাকা আত্মসাৎ করেছেন। বোমাংখিল গ্রামের অর্ধশতাধিক কৃষক এসময় দৃড়কণ্ঠে স্কীম ম্যানেজার ফরিদ আহমদ চৌধুরীর বিরুদ্ধে নানান অভিযোগ তুলে ধরেন।
ইউএনও বরাবরে দেয়া লিখিত অভিযোগে কৃষক ও জমির মালিকগণ উল্লেখ করেন, স্কীম ম্যানেজার ফরিদ আহমদ চৌধুরী তাঁদের নিকট থেকে অন্য স্কীমের চেয়ে অতিরিক্ত টাকা আদায় করেন। দাবিকৃত টাকা না দিলে পানি সরবরাহ বন্ধ করে দেয়। জমিদারকে না বলে ওই ম্যানেজার জমিতে চাষ করলেও টাকা দেয় না। চাষের প্রয়োজনীয় সময়ে পানি চাইলে ক্ষিপ্ত হয়ে অপমানিত করেন। নানা হয়রানির হুমকি দেন। বিগত বছর অনেকেই পানি সুযোগ-সুবিধা না পেয়ে বোরো চাষ করেনি। চলতি মৌসুমে ফরিদ আহমদ চৌধুরী যদি স্কীম ম্যানেজার হিসাবে থাকলে, জমির মালিক পক্ষ ও চাষাগণ বোরো চাষ থেকে মূখ ফিরিয়ে নেবে।
উল্লেখ্য, চলতি বোরো মৌসুমে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের অনুমতি না নিয়েই ২৫০ মিটার নালি খনন করেছিলো বিতর্কিত ম্যানেজার ফরিদ আহমদ চৌধুরী। বর্তমানে তা সংশ্লিষ্ট জমির মালিকগণ মাটি দিয়ে বরাট করে দিয়েছে।