উখিয়ায় টুকাই থেকে কোটিপতি সেই আলোচিত জসিম অধরা

ukhiya-pic_tokai-jasim.jpg

নিজস্ব প্রতিনিধি, উখিয়া |
দেশের বহুল আলোচিত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রনালয়ের তালিকাভুক্ত ও আন্ডার ওয়াল্ড ইয়াবা ব্যবসায়ীদের অন্যতম গডফাদার দূদর্ষ শিবির ক্যাডার জসিম অধরা। উপজেলার ক্রাইম জোন নামক পালংখালী ইউনিয়নের পশ্চিম ফারিরবিল এলাকার মৃত হাজী বদিউজমানের ছেলে জসিম রাত দিন পড়ে থাকত পালখালী সদর ষ্টেশনে। ওই খানে তার পেশা এবং নেশা ছিল মানুষের পকেট মারা, ছিনতাই, ডাকাতি ও সাধারন মানুষের সাথে টুকাই গিরি ছাড়া আর কোন কাজ ছিলনা তার। ওই টুকাই গিরি থেকে হঠাৎ একদিন লাখ টাকায় টেকনাফ জমি দখলের কাজে ভাড়া যায় সে। ওই খানে টেকনাফ উপজেলার শীর্ষ ইয়াবা গডফাদার ও স্বরাষ্টমন্ত্রনালয়ের তালিকাভুক্ত সম্প্রতি ক্রস ফায়ারে নিহত দুই ইয়াবা গডফাদার জাকু ও নুর মোহাম্মদের সাথে গড়ে উঠে তার গভীর সর্ম্পক। অর্জন করে আস্থা ও বিশ্বাস। দায়িত্ব দেওয়া হয়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ইয়াবা পাচার ও উক্ত ইয়াবার টাকা উত্তোলনের। তখন থেকেই শুরু হয় তার টুকাই থেকে কোটিপতি হওয়ার সেই স্বপ্নের যাত্রা। চলছে ট্রেন বনে গেল টুকাই থেকে কোটিপতি।
জসিম উখিয়া সীমান্তের পালংখালী ইউনিয়নের পশ্চিম ফারিরবিল নামক এলাকার মৃত হাজী বদিউজ্জামানের ছেলে ৩ মাসের সাজাপ্রাপ্ত মামলা সহ ডজন মামলার পলাতক আসামী ও সীমান্তের ইয়াবা নিয়ন্ত্রক জসিম উদ্দিন প্রকাশ ইয়াবা জসিম। জামায়াত শিবিরের চিহ্নিত অস্ত্রধারী ও সীমান্তের ইয়াবা নিয়ন্ত্রনের অন্যতম হোতা জসিম টুকাই থেকে কোটিপতি। এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, জসিম ছিল জামায়াত শিবিরের একজন লালিত ক্যাডার ও ভাড়াঠিয়া, হঠাৎ একদিন টেকনাফে একটি জমি দখলের কাজে লাখ টাকায় ভাড়া যান জসিম। ওই জমি দখলের সূত্র ধরে নুর মোহাম্মদ ও জাকুর সাথে গড়ে উঠে জসিমের গভীর সর্ম্পক। অর্জন করে আস্তা ও বিশ্বাস, এর পর থেকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ইয়াবা পাচারের দায়িত্বভার গ্রহন করে জসিম। বনে যান রাতারাতি কোটিপতি। ইয়াবার কালো টাকার পাহাড় দিয়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে নামে বেনামে গডে তোলে অঢল সম্পদ। প্রশাসনের হাত থেকে রক্ষা ও গ্রেপ্তার এড়াতে ঢাকা, চট্রগ্রাম, কক্সবাজারের মত গুরুত্ব পূর্ণ শহরে অবস্থান নিয়ে সুকৌশলে প্রশাসনের চোখ কে ফাঁকি দিয়ে তার সিন্ডিকেটের মাধ্যমে ইয়াবা পাচার অব্যাহত রেখেছে। সম্প্রতি নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ইয়াবা ও মাদক ব্যবসায়ীদের আতংক উপÑ পরিদর্শক এরশাদুল্লার হাত থেকে ইয়াবা জসিম ইয়াবা নিয়ে অল্পের জন্য রক্ষা পেলেও তার চেইন অব কমান্ড ছৈয়দ নুরকে ইয়াবা সহ আটক করতে সক্ষম হয়েছে পুলিশ। নাইক্ষ্যংছড়ি থানায় ইয়াবা ও মাদক দ্রব্য আইনের ১৯ (১) এর ৯ (খ) / ২৫ এর এজাহার নামীয় আসামী হয় ইয়াবা সহ আটককৃত তুমব্রু সীমান্তের জলপাইতলী এলাকার ছৈয়দ নুর ও পশ্চিম পালংখালী এলাকার শিবির ক্যাডার ও ইয়াবা গডফাদার জসিম। যার মামলা নং ০৫। তারিখঃ ১৬/১১/২০১৬ ইং। শুধু তাই নয়, জসিমের বিরুদ্ধে চট্রগ্রাম জেলার লোহাগাড়া থানায় ইয়াবা ও মাদক দ্রব্য আইনের ১৯ (১) এর ৯ (খ) এর এজাহার নামীয় আসামী। যার মামলা নংÑ ১২। তারিখঃ ১১/৫/২০১৩ ইং। উখিয়া থানা এসটি মামলা নংÑ ৮২২/২০১৪। সি আর মামলা নংÑ ১১৬/ ২০১৪। উক্ত সংশ্লিষ্ট মামলায় ইয়াবা জসিমের ৩ মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ডও রয়েছে। এ ছাড়াও দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে তার বিরুদ্ধে ইয়াবা পাচার আইনে একাদিক মামলা রয়েছে বলেও থানা ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়। সচেতন মহলের দাবী ইয়াবা জসিমের অন্যতম গডফাদার টিএন্ডটি লম্বাঘোনা এলাকার মাহমুদুল করিম খোকা সম্প্রতি বান্দবান সদর এলাকায় গ্রেপ্তার হন। টাইপালং এলাকার গিয়াস সিকদার প্রকাশ ইয়াবা সিকদার সে দীর্ঘ দিন ধরে আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার চোখকে ফাঁকি দিয়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ইয়াবা পাচার করে রাতারাতি আলা উদ্দিনের চেরাগ বনে গিয়ে এলাকার নিরহ লোকজনদেরকে নানা অত্যাচার নির্যাতন চালিয়ে আসছে বলে জানা গেছে, সম্প্রতি তার বিরুদ্ধেও নাইক্ষ্যংছড়ি থানায় ইয়াবা ও মাদক আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করা হয়। যার মামলা নংÑ ৩। তার বিরুদ্ধে উক্ত ইয়াবা মামলা হওয়ার পর থেকে সে গ্রেপ্তার এড়াতে আতœগোপনে রয়েছে বলেও জানা যায়। ঘুমধুম এলাকার দুবাসী করিম উদ্দিনের ছেলে সাহাব উদ্দিন প্রকাশ ইয়াবা সাহাব উদ্দিন, উখিয়ার দারোগা বাজারের উত্তম বিশ্বাস সে উখিয়া ডাক বাংলোস্থ মার্কেটের পশ্চিম পার্শ্বে বাদল ব্রাদার্স নামের দোকানের আড়ালে দীর্ঘ দিন ধরে ইয়াবা ব্যবসা চালিয়ে আসছে। সে সুবাধে সম্প্রতি ইয়াবার বৃহত্তর চালান নিয়ে মটর সাইকেল যোগে পাচারের উদ্দেশ্য উখিয়া ত্যাগ করার সময় সড়ক দূর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয় । সম্প্রতি চট্রগ্রাম নতুন ব্রীজ থেকে ইয়াবা সহ আটক হওয়া সদ্য জেল ফেরত রাজাপালং ইউনিয়নের তুতুরবিল এলাকার মৃত নাছির উদ্দিনের ছেলে নুরুল হাকিম প্রকাশ ইয়াবা হাকিম, বিশেষ সূত্রে মতে সম্প্রতি ইয়াবার বৃহত্তর চালান পাচারের কথা বলে ঢাকার ইয়াবা গডফাদারদের এলাকায় নিয়ে এসে তাদেরকে ইয়াবার পরিবর্তে চনার ডাল দিয়ে তাদের কাছ থেকে হাতিয়ে নিয়েছে প্রায় অর্ধ কোটি টাকা বলে জানা গেছে। হিজোলীয় এলাকার ঠান্ডামিয়ার ছেলে ইয়াবার খুচরা ব্যবসায়ী বাবুল মিয়া, তেলী পাড়া এলাকার আলী আহম্মদের ছেলে সম্প্রতি কোটবাজার থেকে আটক হওয়া সিএনজি মোকতার প্রকাশ ইয়াবা মোকতার, ছাঁদির কাটা এলাকার আলম ড্রাইভার প্রকাশ ইয়াবা আলমকে অচিরেই গ্রেপ্তার পূবক আইনের আওতায় নিয়ে আসা না হলে এলাকার উঠতি বয়সী যুব ও ছাত্র সমাজকে ইয়াবার কালো থাবা থেকে রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়বে। এ ব্যাপারে সীমান্তের ইয়াবা, মাদক ব্যবসায়ীদের আতংক ও পুলিশ কর্মকর্তা মোঃ এরশাদুল্লাহ বলেন, ইয়াবা ও মাদক ব্যবসায়ীদের সাথে কোন আপোষ নেই। এরা দেশ ও জাতির শক্রু। মাদক ও ইয়াবা ব্যবসায়ীরা যত বড়ই শক্তিশালী হোক না কেন কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।