টেকনাফে শুটকি পল্লী গুলোতে উৎপাদিত হচ্ছে মানসম্পন্ন শুটকি

34.jpg

বিনিয়োগ সুবিধা পেলে ঊৎপাদিত শুটকি বহির্বিশ্বে রপ্তানী সম্ভব।
খাঁন মাহমুদ আইয়ুব।
বাংলাদেশের সর্ব দক্ষিন উপজেলা টেকনাফ নদী আর সাগরের তট ভূমি টেকনাফের ঐতিহ্যের সাথে মাছ শিকার শুটকি ঊৎপাদন মিশে আছে।সময়ের কাটার সাথে সাথে পাল্টে গেছে এই জনপদের মানুষ এবং পেশা সেই সাথে এসেছে জীবন যাত্রায় ব্যপক পরিবর্তন।শীত মৌসুমে বঙ্গোপ সাগরে মাছ শিকারের মোক্ষম সময় কারন প্রকৃতির নিয়মে সাগরে মাছের প্রজনন বৃদ্ধি পায়। এই সুযোগে কিছু ব্যবসায়ী বাজার থেকে বা জেলে ঘাট থেকে মাছ কিনে খামারে শুকিয়ে বাজারে বিক্রি করে স্থানীয় চাহিদা পূরন করে।তবে ব্যপক পরিসরে শুটকি উৎপাদনের মূল অন্তরায় হচ্ছে পুঁজি বিনিয়োগ।

সরেজমিন ঘুরে দেখাগেছে, টেকনাফ পৌরসভা জালিয়াপাড়া,অলিয়াবাদ,গুদার বিল,কায়ুকখালী পাড়া, নাইট্যংপাড়া,শাহপরীর দ্বীপ জালিয়া পাড়,পশ্চিম পাড়া, জইল্যার দ্বীপ মোট ৯টি শুটকি মহালে জেলেরা শুটকি উৎপাদনে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছে।শ্রমিকরা নারী পুরুষ মিলে ছুরি মাছ,পোয়া মাছ,রূপ চাঁদা,মাইট্টা মাছ, লইট্টা মাছ, হাঙ্গর মাছ, মাচাং বেঁধে প্রখর রোদ্রে শুকিয়ে শুটকি উৎপাদন করছে যা স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে রপ্তানি করছে।

সারা বছরই শুটকি মাছ উৎপাদন করা হয় তবে শীত মৌসুম শুটকি উৎপাদনের উপযোগী সময়।

দেশের বিভিন্ন এলাকে থেকে ভ্রমন পিপাসু দর্শক দেশের দক্ষিনা উপজেলা টেকনাফ ভ্রমনে ছুটে আসে।টেকনাফের বিখ্যাত শুটকি মাছ দেশ ব্যপি সমাদৃত। তাই তাদের কাছে শূটকি মাছের চাহিদাও রয়েছে বেশ। সারা বছর শুটকি মাছের চাহিদা থাকলেও পর্যটন মৌসুমে চাহিদা দ্বিগুন হয়ে যায়।পর্যটন কেন্দ্রিক ব্যবসা হলেও তারা স্থানীয় চাহিদা পুরনের কথা মাথায় রেখেই শুটকি উৎপাদন করে।

তবে সাগরে মাছের যোগান এবং আবহাওয়ার উপর নির্ভর করে শুটকি উৎপাদন এমনটি জানালেন লাকী ড্রাই ফিশিং এর স্বত্বাধীকারী ছৈয়দ হোসেন আহমদ।

তবে এই সব শুটকিতে কোন বিষাক্ত ক্যমিক্যাল প্রয়োগ করা হয় কিনা উত্তরে শুটকি মহালের মালিক হোসেন আহমদ জানান, এই সব শুটকি মাছ পর্যাপ্ত আলো বাতাস এবং রোদে শুকালে কোন ক্যামিক্যালের প্র‍য়োজন হয়না বলে জানান তিনি।বর্ষা কালে পরিবেশ স্যতঁস্যাঁত থাকে তাই কিছুটা ক্যামিক্যাল মিশিয়ে শুকাতে হয়। তবে তা গরম পানিতে ধূলে ক্ষতির সম্ভাবনা থাকেনা।

গোদারবিল এলাকায় সর্ব মোট ৬ টি শুটকি মহালে শুটকি উৎপাদন করে থাকে। এটাই টেকনাফের সর্ব বৃহৎ শুটকি পল্লী।

শাহপরীর দ্বীপ জালিপাড়ায় উপজাতিদের জন্য সামুদ্রিক কাকরা, কুইচ্যা,ছোট চিংড়ি, ছোট মাছ, চিংড়ি মাছ গুড়োঁ করে একধরনের “নাপ্পি” শুটকি তৈরী করা হয়। তবে এই নিম্নমানের শুটকি অত্যান্ত নোংরা এবং দূর্গন্ধ যুক্ত হওয়াতে স্থানীয় বাঙ্গালীদের মাঝে মোটেও এর চাহিদা নেই। তবে পাহাড়ী জন গোষ্টিদের মাঝে এটি সুস্বাধু খাবার হিসেবে পরিচিত। অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে এই শুটকি তৈরী হচ্ছে দেখে তাদের কাছে জানতে চাইলে কর্মরত শ্রমিকরা কিছুই মন্তব্য করতে রাজী ছিলনা তবে স্থানীয় শফিক নামের একজন জেলে পল্লির বাসিন্দা এই শুটকি মূল্য কম হওয়াতে তা এতো যত্ন নেয়া হয়না বলে জানান।

অনুসিন্ধানে দেখা মেলেছে,লবন যুক্ত আর লবন ছাড়া দুই ধরনের শুটকি উৎপাদন হয়ে থাকে। তবে মানের দিকে ৩ ভাগে ভাগ করে তা বাজারে বিক্রির জন্য পাইকারদের সর্বরাহ করা হয় তবে ভিন্ন ভিন্ন মাছের ভিন্ন ভিন্ন দাম আবার মাছের আকার ভেদে মূল্যের ভেদাবেদ রয়েছে।সুক্ষ কৌশলের লুকুচুরি রয়েছে বিক্রির বেলায় কিছুটা ভেজা অবস্থায় বিক্রি করা হয় কারন হাল্কা ভেজা থাকলে ওজনে মাছ কম ধরে ফলে পাইকারী ক্রেতারা ঠকে যান পরবর্তিতে প্রভাবটা গিয়ে পড়ে খুচরা বাজারে।যার কারনে বেশী দামে বিক্রি করতে হয় বলে জানালেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন পাইকারী ক্রেতা।

ব্যবসায়ীদের সাথে আলাপ করে জানা যায়, মহাজন এবং ক্ষুদ্র ঋন নিয়ে সম্ভাবনাময়ী এই শিল্পকে ঠিকিয়ে রেখেছেন অনেকে।অর্থের অভাবে পুজি খাটাতে না পেরে এই শিল্পকে ঘুরে দাড় করানো সম্ভব হচ্ছেনা।বড় পরিসরে শুটকি শিল্পকে দাড় করানো গেলে অতীতের মতো টেকনাফ থেকে ঊৎপাদিত শুটকি- হংকং, চীন, থ্যাইল্যান্ড সহ বিভিন্ন দেশে রপ্তানী করে বছরে কোটি কোটি টাকা আয় ও শ্রমিকদের কর্ম সংস্থান করা সম্ভব। তাই এইসব ব্যববসায়ীরা উদ্যোক্তা প্রতিষ্টান কে এগিয়ে আসা এবং রাষ্ট্রায়ত্ত্ব ব্যাংক গুলো থেকে লোন ব্যবস্থা চালুকরে এই এলাকার ঐতিহ্য বাহি শুটকি শিল্পকে সহায়তার দাবী জানান।