টেকনাফে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশে সহায়তার অভিযোগে মায়ের সাথে ৩ মাসের শিশুকে যেতে হলো কারাগারে!

.jpg

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
টেকনাফে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশে সহায়তার অভিযোগে মায়ের সাথে কারাগারে হাজতবাস করছে ৩ মাসের শিশু তাসকিন। জানা যায়, গত ৯ ডিসেম্বর রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশে সহায়তা করার অভিযোগে ঝিমংখালী ক্যাম্পর বিজিবি শিশু মমতাজুল ইসলাম তাসকিন বিছানায় কাতর অবস্থায় রেখে তার মাতা তানিয়া আক্তারকে আটক করে মামলা দায়ের পুর্বক টেকনাফ থানায় সোপর্দ করে । থানায় সোপর্দ করার দীর্ঘ ৬ ঘন্টা পরে তার আত্বিয় স্বজন শিশুটি কে নিয়ে টেকনাফ থানার মহিলা হাজতে মায়ের কোলে দিয়ে আসলে থানা হাজতেই মাকে খুজে পেল নিষ্ঠুরতার শিকার ৩ মাস বয়সী শিশু তাসকিন। অবশেষে বিজিবির দায়ের করা মামলায় থানা পুলিশ আদালতে প্রেরন করলে বিজ্ঞ আদালত তাদের কে কারাগারে প্রেরনের নির্দেশ দেন। গতকাল ১০ ডিসেম্বর বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিশিয়াল মেজিষ্ট্রেট(স্পেশাল) আদালতে শিশু মমতাজুল ইসলাম তাসকিন সহ তানিয়া আক্তারকে জামিনের প্রার্থনা করলে আবেদন টি আমলে নিয়ে ১১ ডিসেম্বর শুনানীর জন্য দিন ধার্য্য করেন।
জানা যায়, গত ৯ ডিসেম্বর সকাল ১১ টা টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং ইউনিয়নের মিনাবাজার গ্রামে
অনুপ্রবেশকারী রেহিঙ্গাদের আটক করতে গিয়ে বিজিবির হাতে স্থানীয় এক নারী ও শিশু নিষ্ঠুরতার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ওই দিন সকাল ১১ টার দিকে টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং ইউনিয়নের মিনাবাজার গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। বিষয়টি স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ মাওলানা নুর আহাম্মদ আনোয়ারীকে অবহিত করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
ঘটনার শিকার নারীটি হলেন মুফিজ আলমের স্ত্রী তানিয়া আক্তার (২০) এবং তিন মাস বয়সী শিশু মমতাজুল ইসলাম তাসকিন।
স্বামী মুফিজ আলম ও প্রতক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, ১৩ জন অনুপ্রবেশকারী রোহিঙ্গা স্থানীয় দালাল বাদশা আলম ও হেলাল গ্রামের ভিতরে ঢুকিয়ে দিলে টহলরত বিজিবির ভয়ে রোহিঙ্গারা মুফিজ আলমের বাড়িতে আশ্রয় নেয়। বিজিবি টহলদল খবর পেয়ে তার বাড়িতে অভিযান পরিচালনা করে ১৩ জন রোহিঙ্গাকে আটক করে। এসময় তার স্ত্রী তানিয়া আক্তারকেও মারধর করে নিয়ে যায় বলে জানান। স্বামী মুফিজ আলম অভিযোগ করে সংবাদকর্মীদের বলেন, মারধর করে টেনে হিঁচড়ে নিয়ে যাওয়ার সময় তার স্ত্রী পরনে শুধুমাত্র ম্যক্সি ছিল। দুগ্ধপোষ্য তিন মাস বয়সী শিশু এবং পরনের কাপড় ও বোরকা নিতে দেয়নি। প্রধান সড়কে নেয়ারপর শিশুর জন্য তার স্ত্রী বায়না ধরলে সেখানেও প্রকাশ্যে বেধড়ক পিটুনি দেয়। মিনাবাজার থেকে গাড়ি উঠানোর সময় প্রতিবেশী শফিক একটি ওড়না তুলে দেয়। এসময় শিশুটিকে মায়ের কাছে দিতে চেষ্টা করলেও নিতে দেয়নি। এরপর ঝিমংখালী বিওপিতে নিয়ে আরেকদফা মারধর করার পর টেকনাফ থানায় সোপর্দ করে।
এদিকে দীর্ঘ ৬ ঘন্টা পরে শিশুটিকে ভাই মৃত শামসুল আলমের স্ত্রী নুরুচ্ছফা বেগম থানায় গিয়ে মায়ের কাছে হস্তান্তর করে।
এব্যাপারে ঝিমংখালী ক্যাম্প কমান্ডার রাকিবুল বিষয়টি সম্পূর্ণ মিথ্যা দাবী করে বলেন, অনুপ্রবেশকারী তেরজন রোহিঙ্গাকে খাটের নিচে লুকিয়ে রাখে। এসময় বিজিবি তার বাড়িতে অভিযান পরিচালনা করলে ওই নারীটি বাধা প্রদান করে। এছাড়াও স্বামী স্ত্রী দীর্ঘ দিন ধরে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশে সহায়তা করে আসছিল। স্ত্রীকে থানায় সোপর্দ ও স্বামীকে পলাতক করে সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করা হলে বিজিবির বিরুদ্ধে মিথ্যার আশ্রয় নিয়েছে অভিযোগকারী। পাশাপাশি তার যে, দুগ্ধপোষ্য আছে বিজিবি তা জানত না।
হোয়াইক্যং মডেল ইউপি চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ মাওলানা নুর আহাম্মদ আনোয়ারী বলেন, বিষয়টি শুনেছি, তবে অমানবিক ও বটে।
টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ আব্দুল মজিদ জানান, বিজিবি বাদী হয়ে রেহিঙ্গা অনুপ্রবেশে সহায়তার অভিযোগে মামলা দায়েরপূর্বক তানিয়া আক্তার নামে একজন নারীকে থানায় সোপর্দ করেছে। বর্তমানে তানিয়া আক্তার দুগ্ধপোষ্য তিন মাস বয়সী শিশু মমতাজুল ইসলাম তাসকিন কে নিয়ে জেলা কারাগারে রয়েছে। তবে বিজিবির এই নিষ্ঠুর আচরণে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী।