টেকনাফ বন্দর সংলগ্ন নাফনদীতে ভাসমান এক নারীর লাশ উদ্ধার : সীমান্তে রোহিঙ্গা বোঝায় ৪ নৌকা ফেরত

345.jpg

এন হক, টেকনাফ |
টেকনাফ স্থলবন্দর সংলগ্ন নাফনদীতে ভাসমান অবস্থায় এক নারীর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার লাশটির পরিচয় মিলেনি। এ উদ্ধার লাশটি রোহিঙ্গা নারীর লাশ হতে পারে বলে ধারনা করা হচ্ছে। গত সোমবার ভোরে মিয়ানমার সেনা বাহিনীর নির্যাতন থেকে রেহায় পেতে ৩৫ জনের রোহিঙ্গা বোঝায় একটি নৌকা বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের জন্য আসার পথে নাফনদীর মিয়ানমার জলসীমায় ডুবে যায়। এতে অনেক রোহিঙ্গা নারী পুরুষ ও শিশু নিখোঁজ বলে জানা গেছে। এ নৌকায় নিখোঁজদের মধ্যে নারী রোহিঙ্গার লাশ বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
স্থল বন্দর সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী ও শ্রমিক সূত্রে জানান, ৬ ডিসেম্বর মঙ্গলবার বেলা ১১ টার দিকে টেকনাফ স্থল বন্দর সংলগ্ন উত্তর নাফনদীতে ভাসমান অবস্থায় এক নারীর লাশ দেখে পাশ্বের বিজিবি পোষ্টকে খবর দেয়। পরে নৌকা যোগে বিজিবির একটি টিম লাশের স্থানে এসে লাশটি নাফনদী থেকে উদ্ধার করে ক’লে তুলে থানা পুলিশকে খবর দেয়। থানা পুলিশের একটি টিম লাশের স্থানে উপস্থিত হয়ে শনাক্তের চেষ্টা করেন। পরে লাশ উদ্ধার করে সুরুতহাল তৈরি পূর্বক ময়না তদন্তের জন্য মর্গে প্রেরনের ব্যবস্থা করছেন বলে জানায় পুলিশ।
এদিকে প্রত্যক্ষদশীরা জানায়, উদ্ধার নারী লাশের হাতে টর্চ লাইটও রয়েছে। তবে লাশের পড়নে কাপড়-ছোপড় অক্ষত অবস্থায় আছেন। তবে রাতের আধারে পরিবার পরিজন নিয়ে নৌকায় এপারে চলে আসতে গিয়ে এ পরিনতি হয়েছে বলে এমনটি তাদের ধারনা।
টেকনাফ মডেল থানার অফিসার ইনর্চাজ ওসি আব্দুল মজিদ জানান, টেকনাফ বন্দর সংলগ্ন নাফনদী উপকূলে একটি লাশের খবর পেয়ে পুলিশের একটি টিম পাঠানো হয়েছে। তবে লাশের পরিচয় পাওয়া যায়নি। পুলিশ লাশটি উদ্ধার এবং সুরুতহাল তৈরি পূর্বক ময়না তদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরন করা হবে। তবে পরিচয় শনাক্ত না হলে কক্সবাজার আনজুমানে হস্তান্তর করা হবে বলে জানায়।
অন্যদিকে টেকনাফস্থ ২ বর্ডার র্গাড ব্যাটলিয়ান অধিনায়ক লে. কর্ণেল মোঃ আবু জার আল জাহিদ জানান, গত সোমবার রাত থেকে মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত টেকনাফ সীমান্তের তিনটি পয়েন্ট দিয়ে নাফনদীর শূণ্যরেখা অতিক্রম কালে রোহিঙ্গা বোঝায় ৪টি নৌকা মিয়ানমারে ফেরত পাঠানো হয়েছে। তবে প্রতি নৌকায় ১০/১২ জন রোহিঙ্গা নারী, পুরুষ ও শিশু ছিল বলে জানা গেছে।
তিনি আরও জানান, বর্তমানে সীমান্তে বিজিবির কড়া নজরদারী রয়েছে। কড়া নজরদারীর ফলে আগের মত রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের চেষ্টা কমে গেছে। বিজিবির পক্ষ থেকে সীমান্ত ও উপক’লে আগের চেয়ে টহল জোরদার করা হয়েছে। তাছাড়া দেশের অভ্যন্তরে রোহিঙ্গা না ঢুকতে কক্সবাজার-টেকনাফ সড়কে বিজিবি একাধিক চেকপোষ্ট বসানো হয়েছে বলে জানায়।