২১ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করেছে: আইওএম

Teknaf-pic-02.12.2016.jpg

মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম।
সীমান্ত অতিক্রম করে মিয়ানমার থেকে সম্প্রতি প্রায় ২১ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করেছে বলে ধারনা করছে ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন ফর মাইগ্রেশন (আই্ওএম)।
আইন-শৃংখলা বাহিনীর তrপরতার কারণে অনুপ্রবেশের মাত্রা কমে এসেছে বলে সীমান্ত এলাকার বাসিন্দারা জানিয়ছেন।এদিকে অনুপ্রবেশকারী রোহিঙ্গাদেরকে অতি প্রয়োজনীয় মানবিক সহায়তা প্রদানের অনুমতি চেয়ে সরকারের কাছ আবেদন করেছে কয়েকটি বেসরকারী সংস্থা।
আইওএম কক্সবাজার সাব- অফিসের প্রধান সংযুক্তা সাহানী কক্সবাজারে একান্ত সাক্ষাতকারে বলেছেন, সম্প্রতি বাংলাদেশে অনুপ্রবেশকারী রোহিঙ্গার সংখ্যা ২১ হাজারের কাছাকাছি। আইওএমের নিজস্ব মনিটরিং ও রোহিঙ্গাদের নিয়ে কাজ করা অনান্য আর্ন্তজাতিক ও স্থানীয় বেসরকারি সংগঠনের মতামতের ভিত্তিত অনুপ্রবেশকারীদের সংখ্যা সম্পর্কে এই ধারনা করা হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘আমরা কাজ করতেছি, ইউএনএইচসিআর, ডাব্লিউএফপি সবাই মিলে যেটা দেখলাম তাতে সংখ্যাটা এই রকমই হবে, সবাই আমরা তথ্য শেয়ার করি, সরকারের সাথেও আমাদের শেয়ার হয়।”
সম্প্রতি অনুপ্রবেশকারী এক হাজার রোহিঙ্গা পরিাবারকে খাদ্য বহির্ভূত ত্রান সামগ্রী দেয়া হয়েছে, তারা যে এলাকায় আছে ওই এলাকায় আইওএমের পূর্ব থেকে চালু হওয়া বিশুদ্ধ খাবার পানি ও স্যানিটেশন সুবিধা সদ্য আসা রোহিঙ্গারা ভোগ করছে, নতুন আসা রোহিঙ্গাদের কারণে অনিবন্ধিত ক্যাস্পে পানি সরবরাহ বেশি করতে হচ্ছে বলেও জানান সংযুক্তা সাহানী।
বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের জন্য যে সব সেবা চালু আছে তা বাংলাদেশ সরকার যতদিন চাইবে তত দিন চালু রাখা হবে বলেও জানান বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে অভিবাসীদের নিয়ে কাজ করা সংস্থা আইওএম কক্সবাজার অফিসের প্রধান সংযুক্তা
সীমান্ত এলাকায় রোহিঙ্গাদের নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলো ছাড়াও নতুন করে আরো কিছু সংগঠন সদ্য অনুপ্রবেশকারী রোহিঙ্গাদের ত্রান সহায়তা দেওয়ার জন্য সরকারের অনুমতি চেয়েছে। সীমান্ত এলাকার নিরাপত্তার বিষয়টি মাথায় রেখে বেসরকারি সংগঠনগুলোর এসব প্রস্তাব যাচাই বাচাই চলছে বলে জানিয়েছেন কক্সবাজারের ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক কাজী আবদুর রহমান।
তিনি জানান, একান্ত প্রয়োজনীয় মানবিক সহায়তার বিষয়টি নিয়ে সরকারের বিভিন্ন স্তরে আলোচনা চলছে।

মিয়ানমার সীমান্তবর্তী টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যাং ইউনিয়নে গত কয়েক সপ্তাহ সন্ধ্যার পর থেকে শুরু হতো সীমান্ত অতিক্রম করে আসা রোহিঙ্গাদের আনাগোনা। সেখানে রবিবার রাতের চিত্র ছিলো ভিন্ন।রাতভর খোজাখুজি করে্ও কোন অনুপ্রবেশকারীর দেখা মেলেনি। গভীর রাতে স্থানীয় বাজারের নৈশ প্রহরী আবু সিদ্দিক ও দোকানদার ডালিম জানিয়েছেন, গত দুই দিন অনুপ্রবেশ এক প্রকার বন্ধই আছে।
তারা জানান,এখন পুলিশ বিজিবি রাস্তায় রাস্তায় টহল দিচ্ছে, রোহিঙ্গাদের সন্ধানে তল্লাশি করছে, সেই কারনে তাদের অনুপ্রবেশ কমে গেছে।
গত ৯ অক্টোবর মিয়ানমারের মংডু জেলার তিনটি সীমান্ত চৌকিতে সন্ত্রাসী হামলার প্রেক্ষিতে সেখানে সেনাবাহিনী ও সীমান্ত পুলিশের যৌথ অভিযান শুরু হয়। এই অভিযানের ফলে হাজার হাজার রোহিঙ্গা মুসলমান বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করতে থাকে।
আর্ন্তজাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো বলেছে মিয়ানমারে সাম্প্রতিক অভিযানে রোহিঙ্গারা ব্যপকহারে খুন ধর্ষনসহ অনান্য নিযাতনের শিকার হয়েছে।

আইন শৃংখলা বাহিনীর ততপরতার কারনে রোহিঙ্গাদের অনুপ্রবেশের মাত্রা কমেলেও তা যে কোন সময় বেড়ে যেতে পারে বলে ধারনা করছেন এলাকাবাসী|