নাফ নদীতে নৌকাডুবি, ৩১ রোহিঙ্গা নিখোঁজ

rescue_rohingya_pic_32943_1480921139.jpg

মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশে দেশটির সেনাবাহিনীর বর্বর নির্যাতন থেকে বাঁচতে প্রতিবেশী বাংলাদেশে পালিয়ে আসতে গিয়ে সীমান্তের নাফ নদীতে রোহিঙ্গা বোঝাই নৌকাডুবির ঘটনা ঘটেছে। এতে এক নারীকে উদ্ধার করা সম্ভব হলেও বাকি অন্তত ৩১ জন নিখোঁজ রয়েছেন।

সোমবার ভোররাতে টেকনাফের হ্নীলা ইউনিয়নের জাদিমুরা বরাবর নাফ নদীর মোহনাতে এ নৌকাডুবির ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছেন জেলেরা।

উদ্ধার হওয়া নারীর নাম রেহেনা আকতার (২৫)। ধ্বংসস্তূপ হয়ে যাওয়া মংডু থানার বড় গওজবিল এলাকার মৌলভী সলিমের স্ত্রী তিনি।

রেহেনা জানান, মিয়ানমারের সেনাবাহিনী, পুলিশ ও মগদের হাতে নির্যাতনের শিকার মংডুর বিভিন্ন গ্রামের ৩০-৩২ জন নারী-পুরুষ ও শিশু বাংলাদেশে আশ্রয় নিতে আসছিলেন। একটি নৌকায় করে রাতে নাফ নদী পার হতে গিয়ে হঠাৎ নৌকাটি ডুবে যায়। তাদের আর্তচিৎকারে জেলেরা এসে কয়েকজনকে উদ্ধার করে। তবে বাকিরা কে কোথায় গেছে, কিছুই বলা যাচ্ছে না। নৌকায় তার মা, ভাবী এবং ভাইয়ের ২ শিশু সন্তান ছিল।

প্রাণ বাঁচাতে এসে নদীতে তারা নিখোঁজ হয়েছেন বলে কান্নায় ভেঙে পড়েন রেহেনা।

উদ্ধারে নেতৃত্ব দেয়া হ্নীলা নাটমুরা পাড়ার জেলে পল্লীর বাসিন্দা আশিষ ও সুমন্ত্র দাশ জানান, নদীর মাঝ পথ থেকে হঠাৎ নারী-শিশুর কান্নার আওয়াজ পেয়ে সেদিকে যাই আমরা। রাতের আবছা আঁধারে তেমন কিছুই দেখতে পায়নি। সামনে একজনকে পেয়ে নৌকায় তুলে নিয়েছিলাম। বাকিদের অনেক চেষ্টা করেও উদ্ধার করতে পারিনি। বিজিপির ভয় থাকায় বেশি খোঁজ করাও সম্ভব হয়নি।

তাদের ধারণা, ছোট নৌকাতে অতিরিক্ত যাত্রী বোঝাই করায় এ নৌকাডুবির ঘটনা ঘটেছে।

স্থানীয় একাধিক সুত্র জানিয়েছে, জাদীমুরা গ্রামে অবস্থানরত দালাল আব্দুইল্লা, হাবিউল্লাহ, ইসমাঈল, সিন্ডিকেট রাতের আঁধারে রোহিঙ্গাদের পারাপারে জড়িত।