মিয়ানমারের সহিংসতার পর হতে টেকনাফ-উখিয়ায় আদম পারাপারের দালালের সংখ্যা বাড়ছে : হ্নীলা নয়াপাড়ায় বিএনপি আব্দুল আমিন অপ্রতিরোধ্য

download.png

আবুল কালাম আজাদ, টেকনাফ |
সাম্প্রতিক সময়ে মিয়ানমারের সহিংসতার পর হতে টেকনাফ উখিয়া সীমান্তে আদম পারাপারের দালালের সংখ্যা বাড়ছে। এদের বেশির ভাগই ১৯৭৮ ও ১৯৯১ সালে আসা অবৈধ ভাবে বসবাসকারী রোহিঙ্গা নাগরিক। তাদের সাথে আর, এস, ও একটি গ্র“পের সাথে আঁতাত রয়েছে বলে সূত্রে জানা গেছে। এরা সহ স্থানীয় কিছু দালাল মিলে অতি উৎসাহিত হয়ে মিয়নমার থেকে লোক নিয়ে আসছে বাংলাদেশে। সূত্রে জানায় গত ৯ নভেম্বর মিয়ানমারের বলি বাজার এলাকায় কতিপয় সন্ত্রাসী গ্র“প সে দেশের সামরিক বাহিনীর চৌকিতে চোরাগোপ্তা হামলা করে এতে ৯ জন সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সদস্যদেরকে নিহত করে। প্রচুর অস্ত্র লুটপাড় করে নিয়ে যায়। এর পর হতে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী অস্ত্র ও গোলা বারুদ উদ্ধারের নামে বলি বাজারের মুসলিম অধ্যুাসিত এলাকায় ব্যাপক অত্যাচার শুরু করে। এতে অনেক রোহিঙ্গা মুসলিমর নারী-পুরুষ শিশুকে হত্যা, ধর্ষন করে। এমনকি তাদের বাড়ি-ঘর পুড়িয়ে তছনছ করেছে। ফলে রোহিঙ্গা মুসলিম তাদের অত্যাচার থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টা চালায়। কিন্তু বাংলাদেশ সরকার তাদের সমস্যা গুলো আন্তজার্তিক পর্যায়ে সমাধানের লক্ষে প্রবেশে কড়াকড়ি আরোপ করে। এ ব্যাপারে বিজিবির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবুল হোসেন টেকনাফ সফরে আসেন। তিনি কড়া ভাষায় সীমান্ত রক্ষীদেরকে নির্দেশ দিয়ে গেছেন কোন রোহিঙ্গা নাগরিক বাংলাদেশে প্রবেশ করতে না পারে। সে নির্দেশের প্রেক্ষিতে বিজিবি সীমান্তে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। এর পাশাপাশি কোস্ট গার্ড, পুলিশ ও কাজ করছে। এতে মিয়ানমারের রোহিঙ্গা নাগরিক বাংলাদেশে প্রবেশে বিপাকে পড়ায় ১৯৭৮ ও ১৯৯১ সালে আসা রোহিঙ্গা নাগরিকদের সাথে যোগাযোগ করে কিভাবে বাংলাদেশে প্রবেশ করা যায়, তার সুযোগ খুঁজতে থাকে। এদেশের পূর্বে হতে আসা রোহিঙ্গা নাগরিকগণ টেকনাফ মিয়ানমার সীমান্তের অঘোষিত আদম পারাপারের ঘাটের কতিপয় দালালের সাথে যোগাযোগ করে রোহিঙ্গা পারাপার করছে। এ খবর পেয়ে বিজিবি, পুলিশ ও উপজেলা প্রসাশনের সমন্বয়ে একটি টাস্ক ফোর্স গঠন করে ৬ জন দালালকে মোবাইল কোটের মাধ্যমে সাজা দিয়ে জেল হাজতে প্রেরণ করে। এতে কিছুটা অনুপ্রবেশ বন্ধ থাকলেও পরবর্তীতে পূনরায় শুরু হয় অনুপ্রবেশ। বাংলাদেশী কিছু স্থানীয় দালাল ও রোহিঙ্গা মিশিয়ে রোহিঙ্গা আনায়ন শুরু করেছে। তারা দিন দিন নতুন নতুন পন্থা অবলম্বন করে রোহিঙ্গা আনতে শুরু করেছে।

গত ১ ডিসেম্বর জেলে সেজে মিয়ানমার থেকে রোহিঙ্গা আনতে গিয়ে মিয়ানমারের বিজিপির হাতে আটক হয়ে জেল হাজতে রয়েছে।
এরা হচ্ছেন টেকনাফ পৌর সভার নাইট্যং পাড়ার মোঃ শফির পুত্র মোহাম্মদ উল্লাহ্, সদর ইউনিয়নের বরইতলী এলাকার আমান উল্লাহ্র পুত্র মোহাম্মদ সেলিম ও জকিরের পুত্র মোহাম্মদ সাদেক।

এছাড়াও অনেক দালাল মিয়ানমার থেকে রোহিঙ্গা আনতে গিয়ে নিখোঁজ রয়েছে। এদিকে যে সমস্ত রোহিঙ্গা মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে প্রবেশ করছে। এদের বেশির ভাগই উখিয়া কুতুপালং, টেকনাফ নয়া পাড়া, ও লেদা রোহিঙ্গা শরনার্থী ক্যাম্প ও বিভিন্ন লোকালয়ে ঢুকে পড়ছে।

এদের মধ্যে টেকনাফ সদর ইউনিয়নের কেরুনতলী ছিদ্দিক আহম্মদ, আবদু শুক্কুর, বসত আলী, শামসু আলম, আবদু রশিদ, আবুল কালাম, নেজাম সওদাগর, ছেমন খাতুন, ফাতলি বেগম ইত্যাদির বাড়ী ও ভাড়া বাসায় অবস্থান নিচ্ছে। যা তদন্ত করলে প্রচুর অনুপ্রবেশ কারী রোহিঙ্গা পাওয়া যাবে বলে স্থানীয় লোকজন জানায়।

এদিকে বরইতলী ও নাইট্যং পাড়ার কতিপয় দালাল বিভিন্ন কলাকৌশলের মাধ্যমে রোহিঙ্গাদেরকে বাংলাদেশে নিয়ে আসছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। এরা হচ্ছেন বরইতলী এলাকার রাহামত উল্লাহ্, আয়ুব আলীর পুত্র কবির আহম্মদ, মোহাম্মদ জলিল ও নাইট্যং পাড়া এলাকার হাবিবুর রহমানের পুত্র শমশু আলম, লাল মিয়ার পুত্র নূর করিব, সৈয়দ আহম্মদের পুত্র জামাল, শহর মুল্লুকের পুত্র বুলু, হাজী ইসমাইলের পুত্র মোহাম্মদ ইদ্রিস, মোহাম্মদ আরফাত, মোহাম্মদ আয়ুব, আবদু রহমানের পুত্র কামাল ও শমশু আলম প্রমূখ।

অপরদিকে হ্নীলা নয়াপাড়া-মোচনী এলাকা দিয়ে একক ভাবে হাজার হাজার রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ ঘটিয়ে যাচেছ মৃত বদি আলমের ছেলে আব্দুল আমিন প্রকাশ বিএনপি আব্দুল আমিন । আব্দুল আমিন দীর্ঘ বছর ধরে জাদিমুড়া খালের উত্তরে নয়াপাড়া মোচনী ক্যাম্প বরাবর নাফ নদী দিয়ে অবৈধ রোহিঙ্গা পারাপারের অাদম ঘাট পরিচালনা করে আসছিল। সম্প্রতি রাখাইনে নতুন করে রোহিঙ্গা নিযাতন শুরু হলে পোয়াবারো হয় আব্দুল আমিনের। সে একক ভাবে কয়েকটি নৌকা দিয়ে কয়েক হাজার রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ ঘটায়। যারা অনুপ্রবেশের পর মোচনী ক্যাম্পে আশ্রয় নিয়েছে বলে জানা গেছে। আর এতে লাখ লাখ টাকা বানিজ্য করে এই দালাল। তাকে গ্রেফতার করা না গেলে নয়াপাড়া আদম ঘাট দিয়ে অবৈধ অনুপ্রবেশ বন্ধ হবে না বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।